Categories
NEWS অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ

ফতোয়াবাজি ২য় পর্ব

৯. কেউ যদি তার স্ত্রীদেরকে সম্মোধন করে বলে, তোমাদের যার জননেন্দ্রিয় অধিক প্রশস্ত হবে তাকে ত্বালাক। তাহলে তাদের মধ্যে যে হালকা পাতলা তার উপর ত্বালাক পতিত হবে।( আলমগিরি)
মন্তব্যঃ হুজুরদের হালি হালি বউ থাকলে থাকলে যা দশা হয় আর কি।

১০. একজন ব্যক্তিকে তার স্ত্রী মদ পান করার কারণে ভৎসনা করল। অতপর সে বলল আমি যদি স্থায়ীভাবে মদ পান ছেড়ে দেই তবে তুমি ত্বালাক।( আলমগিরি পৃষ্ঠা ৪৪৬)
মন্তব্যঃ স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে মনে করলে তার কাছে উপদেশ গ্রহণ কখনই মেনে নিতে পারবে না মোমিন সমাজ এটাই প্রমাণিত।

১১. কোন এক মহিলা ঘরের কামড়ায় বসে কাঁদছিল। তখন তার স্বামী তার শ্বশুরকে বলল যদি আপনার কন্য এ কামরা থেকে বের হয়ে অন্যত্র গিয়ে না কাঁদে তবে সে ত্বালাক। তারপর তার স্ত্রী অন্য কামরায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্না যদি কেউ শুনতে পায় তবে সে ত্বালাক। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৫৫)
মন্তব্যঃ মুমিনীয় স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এই ফতোয়াটি বেশ কার্যকর হবে।

১২. এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করার পর ঐ মহিলার পরিবার এতে অসম্মত হয়। কারণ তার অন্য এক স্ত্রী আছে। তারপর সে তার স্ত্রীকে নিয়ে কবরস্থানে বসিয়ে রেখে এসে ঐ পরিবারে গিয়ে বলল আমার কবর স্থানের স্ত্রী ব্যতিত অন্য সব স্ত্রী ত্বালাক। এতে তারা মনে করল তার কোন স্ত্রী জীবিত নাই। ফলো ঐ মহিলাকে বিবাহ দিলো। তাহলে বিবাহও সহিহ হবে এবং প্রতিজ্ঞাও মিথ্যা হবে না। (ঐ পৃঃ ৪৫৭)
মন্তব্যঃ যৌনতার জন্য মোল্লারা যে কতটা নিখৃষ্ট ছলছাতুরির আশ্রয় নিতে পারে এটাই তার প্রমাণ।

১৩. এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল আমি যদি তোমার সন্তানকে মেরে দু টুকরো না করি তবে তুমি তিন ত্বালাক। তারপর সন্তানকে যমিনে ফেলে মারল কিন্তু দু টুকরা হল না তবে ঐ মহিলার উপরে তিন ত্বালাক পতিত হবে। ( ঐ পৃঃ ৪৬২)
মন্তব্যঃ শিশু নির্যাতনে সেরা মোল্লাদের দ্বারা এটাও অসম্ভব কিছু না।

১৪.স্বামী তার স্ত্রীকে বলল যদি দুপুরের সময় বাজারের মধ্যে সহবাস না করি তবে তোমাকে ত্বালাক। তবে এক্ষেত্রে কৌশল হবে স্ত্রীকে পালকিতে করে বাজারে নিয়ে গিয়ে পালিকের মধ্যে সহবাস করতে হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৩১)
মন্তব্যঃ কামুক মোহাম্মাদের কামুক মোল্লাদের দ্বারা এটাই আশা করা যায়।

১৫. কেউ যদি বলে, আমি ত্বালাকের শপথ করে বলতেছি যে আমি মদ পান করব না। অতঃপর মদ পান করলে তার স্ত্রী ত্বালাক হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ১৭১)
মন্তব্যঃ মুমিনগণ স্ত্রীকে কি চোখে দেখে এই ফতোয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়।

চলবে…….

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ রাজনীতি

ফতোয়াবাজিঃ- শেষ পর্ব

আজকের এই পর্বে আমারা ইসলামি মিথ্যাচার তুলে ধরব। মোল্লারা নিজদেরকে রক্ষার জন্য কত পাল্টিবাজ হতে পারে তা আজকের পর্বে ফতোয়ার কিতাব থেকে তুলে ধরছি:-
১. কেউ কসম করে বলল সে রুটি খাবে না। তারপর সে রুটি শুকিয়ে গুড়া করে তাতে পানি মিশিয়ে পান করলে তার কমস ভঙ্গ হবে না। কিন্ত রুটি যদি পানিতে ভিজিয়ে খায় তবে কসম ভঙ্গ হবে। ( ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ই ফা বা, পৃষ্ঠা ২২৬)
মন্তব্যঃ মোল্লারা নিজেদের মগজে যে কি রকম পাল্টিবাজ জ্ঞান ধারণ করে এটা তার উদাহরণ মাত্র।
২. কোন ব্যক্তি কসম করল  যে সে তরমুজ খাবে না।  অতপর ছোট কাচা তরমুজ ভক্ষণ করল তাহলে ফকিহদের মতে কসম ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ২২৮)
মন্তব্যঃ কাচা তরমুজ কিন্তু তরমুজ নয়, এটা মোল্লাতান্ত্রিক বিজ্ঞান।
৩. কেউ তার স্ত্রীকে বলল, আজ আমি যদি তোমাকে প্রহার না করি তবে তুমি ত্বলাক। এরপর স্বামী তাকে মারতে চাইলে তখন মহিলা বলল, তোমার শরীরের কোন অঙ্গ আমার কোন অঙ্গের সাথে স্পর্শিত হয় তবে আমার গোলাম আযাদ। এরপর সে তার গায়ে হাত দেয়া ব্যতিরেকে লাঠি দ্বারা তাকে প্রহার করে তাহলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে।(ঐ পৃষ্ঠা ৩৪১)
মন্তব্যঃ বাহ্! হাতের বদলে লাঠি। মোল্লাদের বুদ্ধি আছে বৈকি।
৪. এক ব্যক্তি প্রতিজ্ঞা করল, সে হাারাম কাজ করবে না।অতপর সে ফাসিদ তরীকায় বিবাহ করলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে না। এমনিভাবে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌোনাচার করলেও তা ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ৩৬৫)
মন্তব্যঃ চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌনচারকেও সহিস পদ্ধতিতে বৈধতা দিয়েছিল মোল্লারা।
৫. যদি মহিলা ঘুমন্ত কোন পুরুষকে নিজের সাথে যিনা করার সুযোগ প্রদান করে তাহলে তাদের উপর হদ্দ ওয়াজিব হবে না। ( ঐ পৃঃ ৩৯৬)
মন্তব্যঃ হুজুরা তাহলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করে? এই ফতোয়া অবশ্য আমাদের নবী মোহাম্মাদের জীবনের উপর গবেষণা করে দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করেছে আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে মেরাজ করেছে। উম্মে হানি ছিল সেই ডানাওয়ালা ঘোড়া।
প্রিয় পাঠক, গত পর্ব গুলোতেও ইসলামী নানা ভন্ডামো তুলে ধরা হয়েছে। শুধু ইসলামই নয় প্রত্যেক ধর্মই ভন্ডামোতে পরিপূর্ণ। যে ব্যক্তি যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবারের লালিত বিশ্বাসকেই সর্বসেরা মনে করে। অথচ কখনই সেই বিশ্বাস পর্যালোচনা করে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। যারা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে শিখেছে তারাই ওসব বিশ্বাসকে ছুড়ে ফেলতে শিখেছে। যারা অন্ধ বিশ্বাস ও গোড়ামি থেকে বেড়িয়ে এসে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে তারাই হচ্ছে নাস্তিক। ধর্ম ত্যাগ করার জন্য ধর্ম গ্রন্থের একটি ভুলই যথেষ্ট।কারণ ধর্মগ্রন্থগুলো নির্ভল দাবি করে। আর একটি ভুল খুজে পাওয়া মানেই সেই দাবিও মিথ্যা হয়ে যায়। ইসলামী বিশ্বাস থেকে এতগুলো ভন্ডামি তুলে ধরার পরেও যদি কেউ ইসলামকে নির্ভল দাবি করে তবে তাকে করুণার চোখে দেখব। কারণ পাগলকে করুণার চোখেই দেখা উচিৎ। আর যাদের সামন্যতম জ্ঞান আছে তাদের কাছে আশা করি তারা দ্রুত ইসলাম থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।