Categories
একান্ত ভাবনা বাংলাদেশ রাজনীতি

ছাত্রলীগ এবং নারীর বস্ত্র হরণ

ছাত্রলীগ আবারো এক নারীর বস্ত্রহরন করেছে টি এস সি তে। এই সংবাদে সামাজিক মাধ্যম বলা যেতে পারে তোলপাড়। কিন্তু আমার কাছে কিংবা আমার মতা আরো যারা রয়েছেন তারা এতে করে বিষ্মিত হন নি। বিষ্মিত হবার আর কি-ই বা রয়েছে? একের পর এক ছাত্রলীগের ইতরামি, ফাতরামি আর নোংরামি সব মিলে এখন একাকার।

ছাত্রলীগের বস্ত্রহরণ করাটা কোনো খবর না, জনসম্মুখে ধর্ষণ করলে বড়জোর শেষ পাতায় মাটির নীচে খুড়ে সংবাদখানা পেতে পারেন। চল্লিশ মিনিটও ব্যাপার না, চল্লিশ দিন ধরে চলতে পারে বস্ত্রহরণ। বাংলাদেশের কেবলমাত্র একটি পরিবারের সদস্যদের মানসম্মান আছে – যতোক্ষণ সেই পরিবারের কারো শ্লীলতাহানি না হচ্ছে ততোক্ষণ শ্লীলতাহানি বলে কিছু নেই দেশে, কাপড় খুলে ন্যাংটা করা মানে শ্লীলতাযোগ করা।

ছাত্রলীগের হাতের কাজের দোহাই দিয়ে বাঙালি আরবান এলিট রাস্তায় হেঁটে যাওয়া প্রায়-ফর্সা যেকোনো-যখনি নারীদের দ্রৌপদী হিসেবে দেখতে উন্মুখ: ছাত্রলীগ ছুঁয়ে দিলে দিব্যি আমার – তুমিও দ্রৌপদী। তারা জোড় করে বোরখা পরানোর চেষ্টায় দেশের সর্বনাশ দেখতে পান কিন্তু একজন নারীকে সর্বসম্মুখে কাপড় খুলে শ্লীলতাহানি করলে “দুষ্টু সব নচ্ছার ছেলের দল” বলেই ক্ষোভ প্রশমন করে ফেলতে পারেন। এখনো যে ঢাকাই আরবান এলিটরা মেয়েটাকেই আসল দোষী বলে সব্যস্ত করেন নি সেটাই অবাক করা ব্যাপার: কী দরকার ছিলো বাবা তোমার ছাত্রলীগের সামনে দিয়ে যাওয়ার? তোমার কি জানা নেই মেয়ে যে তোমাকে দেখলেই লীগের দাড়িয়ে যায়?

এসব তো পুরোনো কেচ্ছা – সবারই জানা।

বিস্ময়ের বিষয় হোলো পুলিশ সামনে দাড়িয়েও থেকেও কিছু করে নি। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর কাছে থেকে লোকজন ডাকাডাকি করলেও তারা এগিয়ে আসে নি। বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা অবশ্য ব্যস্ত ধরনের ফিলোসফার। তারা বাংলাদেশে যে আইন নাই সে আইন থাকলে ফেসবুকে স্টেটাস দেয়ার অপরাধে একজন গোবেচারা টাইপ শিক্ষককে কীভাবে কোমরে দড়ি দিয়ে সাইজ করা যায় সে চিন্তায় মশগুল। তাই চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অপরাধে (যার বিচার বাংলাদেশের পেনাল কোডে খুব পরিষ্কারভাবে লেখা আছে) হুশ প্রক্ষেপ করতে পারেন না। না পারারই কথা। মহান শেখ হাসিনার ফু দেয়া ছাত্রলীগের পেটোয়া বাহিনী বলে কথা। তারা দুর্বলের ওপর দোর্দন্ড আর ক্ষমতাবানের সামনে পোষা বুটচোষা।

ছাত্র ইউনিয়নের যে ছেলেরা মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলো তাদের লাল সালাম। দেশে মানুষ আছে জানলে আস্থা পাই।

Categories
একান্ত ভাবনা

ইভান পাভলভ

পাভলভ নামে এক বড় মনোবিজ্ঞানি ছিলেন । উনি বহু বছর গবেষণা করে দেখান যে প্রানি পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারনে অভ্যস্থ হয়ে যায় এবং সেই অনুযায়ি চলতে থাকে। এটাকে বলা হয় কন্ডিশন্ড রিফ্লেক্স এবং এই অবস্থায় সেই প্রানি যুক্তির বাছ বিচার করে না ।

উনার পরীক্ষায় ঘণ্টা বাজিয়ে তারপর খাবার দেয়া হত একটা কুকুরকে । এক সময়ে দেখা গেল কুকুরটা ঘন্টা দেখলেই জিভ বের করে লোল ফেলতে থাকে ।

এই যে মানসিক অবস্থা সৃষ্টি করা হল – যেই অবস্থায় বাস্তবতার বাইরে শুধু আরোপিত কারণে কুকুরের আচরণ নির্ধারিত হয়ে যাবে – সেই একই ঘটনা মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটছে। আমরা ধর্ম , জাতিয়তাবোধ এইসব বিষয়ে কারণ বা বাস্তবতা না খুঁজেই শর্ত অনুযায়ি আচরণ করি ।

ছবিটা দেখুন , ভেড়ার পালকে একটা গেটের ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে – কিন্তু কোথাও কোন সীমানা বেড়া নেই। ভেড়াগুলি যেহেতু সীমানার বিষয়টিতে অভ্যস্থ হয়ে গেছে , কাজেই শুধু মাত্র গেট দেখেই কল্পিত সীমানার মধ্যে আটকে গেছে ।

আফ্রিকা থেকে দুই ভাইকে ইউরোপের দুই পরিবারে দত্তক নেয়া হয়েছিল। এক ভাই প্রটেস্টান্ট খ্রিস্টান পরিবারে থেকে প্রটেস্টান্ট খ্রিস্টান আরেকভাই নাস্তিক পরিবারে থেকে নাস্তিক হয়েছে – অথচ তাদের দুজনের পিতামাতাই ছিল ক্যাথলিক খ্রিস্টান । বাংলাদেশের অনেক যুদ্ধ শিশু ইউরোপে আশ্রয় পেয়ে বড় হয়েছে – সম্পুর্ন নাস্তিক অথচ সেই শিশুর মা সম্ভবত হিন্দু ছিল আর বাবা ছিল এক পাকি হারামজাদা এবং অতি অবশ্যই মুসলমান ।

হিটলার হেসে হেসে বলেছিলেন , আমরা শাসকরা কি ভাগ্যবান, কারন মানুষ চিন্তা করে না । যদিও আমাদের সতর্ক করা হয়েছে যে মানুষ চিন্তা করতে শুরু করবে যে কোন সময়ে – কিন্তু আমরা সে সবের থোড়াই পরোয়া করি।

মানুষ কবে কল্পিত সীমানার বাঁধন ছিঁড়তে পারবে? কবে চিন্তা করতে শুরু করবে ?

Categories
একান্ত ভাবনা বাংলাদেশ

জুলহাস ও তনয়, এরা কি মানুষ নয়??

জুলহাস ও তনয়, এরা কি মানুষ নয়?? ইসলামিস্ট খুনী সন্ত্রাসীদের দ্বারা এই দুইজন সমকামীঅধিকার আন্দোলন কর্মী মানুষকে নির্মমভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

এরা প্রকাশ্যে দিনেদুপুরে নৃশংসভাবে খুন হবার পরও কোনদিক থেকে এতটুকু প্রতিবাদ তো দুরের কথা, কারও চোখের দু’ফোঁটা জলও দেখা যায়নি, উপরন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এইসমকামী অধিকার আন্দোলন কর্মী জুলহাজ-তনয় দেরকে অপরাধী হিসেবে ঘোষনা দিয়েছিল ।

জুলহাস ও তনয় এদের কি অপরাধ, এরা দুইজন কার কার কি কি ক্ষতি করেছে সেই অপরাধের ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞা কি? তা আবাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো দেয়নি, শুধু খুন হওয়া জুলহাস-তনয়’কে অপরাধী ঘোষনা দিয়েই তাদের বিচার প্রক্রিয়াকে থামিয়ে রেখেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

অপরদিকে অনলাইনের বড় বড় সেলেব্রেটিদের বিশ্বমানবতা বোধ দেখে দেখে হয়রান হয়ে গেলাম, তাদের খ্যাতি বাড়ে, নাম হয়, সেলেব্রেটিশিপ বাড়ে, লাইকের, জনপ্রিয়তার হার তাদের হু হু করে বেড়ে যায়, অথচ এদেরকে কখনোই সমকামী অধিকার আন্দোলন কর্মীদের হত্যাকান্ড বিষয়ে মুখ খুলতে দেখা যায় না, তাদের অপেক্ষায় থেকে থেকে আমি ক্লান্ত ।

জুলহাজ ও তনয় ইস্যুতে এবং হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আজ অনলাইনে ছিলাম, এখন অফলাইনে এই ব্যানার নিয়ে রাস্তায়ও দাঁড়াবো, সকল মানবিক মানুষের অংশগ্রহন কাম্য।

মুক্ত চিন্তা মুক্তি পাক,
মুক্তমনারা সরব থাক

Categories
একান্ত ভাবনা বই

সমকামিতা কোনো পাপ নয়

সম্প্রতি বলিউডের খুব নামকরা চিত্রপরিচালক করণ জোহর খুবই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কারণ তিনি তার আত্মজীবনী ‘দ্যা আনস্যুটেবল বয়’তে লিখেছেন- টাকার প্রয়োজনে দুইবার যৌন দাসত্ব করেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন- কাউকে খুশি করার জন্য নিজের অনিচ্ছায় শুধুমাত্র টাকার জন্য যৌন দাস হওয়াটা খুবই কষ্টের। সেইসাথে তিনি যে একজন সমকামী তাও লিখেছেন তিনি।

লিখেছেন- “সবাই জানে আমার সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন কোনটি! যদিও সেটা আমি চিৎকার করে বলতে চাই না। কারণ আমি এমন এক দেশে বাস করি যেখানে এটা বললে হয়তোবা আমার জেল হবে!”

সমকামী হওয়া দোষের কিছু নয়। পৃথিবীর ১০% মানুষের মধ্যে যেটি বিদ্যমান সেটি নিয়ে কথা বলাটা রীতিমতো লজ্জার। কারণ- সমকামীতা বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ও প্রমাণিত। সারা পৃথিবীতে অসংখ্য জ্ঞানী প্রতিভাবান ছিলেন যারা সমকামী ছিলেন। নোবেল বিজয়ী লেখক জেমস জয়েস, চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, উপমহাদেশের মডার্ন আর্টের জননী অমৃতা শেরগিলসহ সারা পৃথিবীর অসংখ্য প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন যারা সমকামী

আপনারা সমকামী না হতে পারেন। তবু যেটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত সেটাকে অস্বীকৃতি দেওয়ার আপনি কে? প্রেমে পড়তে হলে, সেক্স করতে হলে কেবল অপজিট জেন্ডারের হতে হবে- এই ভ্রান্ত ধারণা এদেশের এবং এই উপমহাদেশের মানুষকে কে দিয়েছে?

সমকামিতা কোনো পাপ নয়। কারণ ওটা একই লিঙ্গের মানুষের প্রতি প্রেম, যৌন অনুভূতি। সেই প্রেমকে স্বীকৃতি দেওয়া বা না দেওয়ার আপনি বা আমি কে?

Categories
একান্ত ভাবনা এলজিবিটি

একটি সুসংবাদ

একটি ভাল খবর দিয়ে শুরু করি।

গ্রেট বৃটেনে বাংলাদেশী এবং মুসলিম পরিবারের সন্তান জাহেদ চৌধুরী তার নিজের সমকামিতাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং রোগান সীনের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বৃটেনে এই প্রথম কোন মুসলিম সমকামী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।

জাহেদ চৌধুরীকে সারাজীবন ধরে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তর্জনা, লাঞ্চনা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। মুসলিম বাবা-মায়ের তিন ভাইবোনের পরিবারের জাহেদকে এক সময় কুলাঙ্গার সন্তান হিসেবেই দেখা হতো। জাহেদ এইসব মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। তার পরিবার এখনও মনে করে সমকামিতা একটি রোগ আর সে অসুস্থ। জাহেদ অসংখ্যবার মুসলিম কমিউনিটির যুবকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন, এমনকি তার মসজিদ তাকে অমুসলিম হিসেবে আখ্যা দিয়ে, তার মসজিদে প্রবেশ নিষেধের ঘোষণা দেয়। একসময় তাকে তার পরিবার জোর করে মেয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে চলতে বাধ্য করে, তার আচরণ বদলাতে ঔষধ প্রয়োগ করে এমনকি তাদের মক্কায় হজেও পাঠানো হয়।

এটি ২০১৭ সাল, আমাদের দুঃখ হলো এখনো আমাদের বাংলাদেশের মানুষেরা মনে করে থাকেন সমকামিতা একটি রোগ, ডাক্তারি চিকিৎসায় বা ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে চিকিৎসা করে সমকামীতা নামক  “রোগ” থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

তবে এ খবর শুনে আমি খুবই খুশি হয়েছি যে অন্তত জাহেদ চৌধুরী তাঁর ভালোবাসার মানুষ সেয়ান রোগানের ভালবাসায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন এবং শুরু করেছেন একটি নতুন জীবন। তাদের জন্য রইলো অনেক শুভকামনা

Categories
একান্ত ভাবনা

এরা মুসলিম না, তাই কেন মুসলিম শব্দটি ইউজ করা হয়েছে!

‘যুক্তরাজ্যে প্রথম মুসলিম সমলিঙ্গ জুটির বিয়ে’- এই শিরোনামে গতকাল থেকে দেশী বিদেশী মিডিয়ার নিউজ হয়তো সবার চোখে পরেছে। বিডিনিউজ এর সেই খবরের কমেন্টগুলো দেখে কিছু লিখতেই হলো।

বেশিরভাগ কমেন্টকারী বলেছেন যেহেতু ইসলাম ধর্ম এর স্বীকৃতি দেয়না তাই আপনারা অবলীলায় তাকে ইসলাম ধর্ম থেকে বের করে দিচ্ছেন। এক একজনের কমেন্ট দেখে মনে হচ্ছে নিজেরাই ধর্মের আউলিয়া সেজে বসে আছে!

সবাই বলছে এ মুসলিম হতে পারেনা, এ মুসলমান না! এরা মুসলিম যদি নাহয় তবে ইসলামিক সভার কথা বলে যে হুজুর টাকা খাচ্ছে সে কিভাবে মুসলিম থাকে? যে মুসলমান যুবকটি ধর্ষণ করছে সে কিভাবে মুসলিম?

যে হুজুর একের পর এক মক্তবের ছোট শিশুদের সাথে সমকামিতা করছে মসজিদের ভেতর সে কিভাবে মুসলমান? ভাইসব শুনেন, ধর্মের বিধান অনেকেই জেনে/ না জেনে মানছে না। এদের সবাইকে যদি অস্বীকার করেন তবে মুসলিম খুঁজতে হবে হারিকেন দিয়ে! ইসলাম সমকামিতাকে সমর্থন দেয়না কিন্তু তারপরেও সে এটা করেছে এবং সে বার বার বলেছে বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চায় একজন মুসলিম হবার পরেও কিভাবে সমকামী জীবন যাপন করা যায়।

এখন তার মুসলমানিত্ব আছে কি নেই সেই সার্টিফিকেট নিশ্চয়ই আপনি দেবেন না? আপনি মুসলমান যদি হয়ে থাকেন তবে আল্লাহতে অবশ্যই বিশ্বাস রাখেন, আর সেই বিশ্বাসে নিশ্চয়ই এটাও লেখা আছে যে কে মুসলমান আর কে না সেটা নির্ধারণ করে পাপ পুণ্যের হিসেব করে জান্নাত জাহান্নামের মালিক হচ্ছেন এক উপরওয়ালা। আপনি আমি না। একেক জন তাকে অস্বীকার এমনভাবে করছে যেন নিজেই কে মুসলমান আর কে না তার সার্টিফিকেট দেবে!

Categories
একান্ত ভাবনা এলজিবিটি বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

The People who voted against #LGBTQ Rigths, shame on you!

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে সমকামীদের মৃর্ত্যুদন্ডের পক্ষে বাংলাদেশ ভোট দিয়েছে। আপনি কি অবাক হয়েছেন? আমি অবাক হইনি। এটাই খুব স্বাভাবিক। বাংলাদেশের জন্য এ ভোট মোটের ওপরে বেশি ঠিকাছে।

তোমরা মুড়ি খাও!
হায় রে জনগণ-
আইজ বুঝবি না, বুঝবি কাইল
পাছা থাপড়াইবি আর পারবি গাইল!!!

বলা বাহুল্য: বাংলাদেশ এখনো সমকামী বিষয়ে বৃটিশ আইন অনুসরণ করে, যদিও স্বয়ং ইংল্যান্ডে সমকামী বিষয়ে আইন বদলে ফেলা হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সমগ্র পৃথিবী যখন সামনের দিকে এগিয়ে চলে, তখন সৌদিকে অনুসরণ করা দেশগুলো পেছনের দিকে যায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও সমকামিতা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশে সমকামিতার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড না হলেও দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা সমকামিতাকে অপরাধ হিসাবে গন্য করে সর্বোচ্চ যাবতজ্জীবন ও সর্বনিম্ন দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড আরোপ করেছে।

আপনার সন্তান আত্ম-পরিচয় গোপন করে মরে যাক, তাতে কি? সমকামী বলে পরিচয় দিয়ে বংশের মান-ইজ্জত তো নষ্ট করবে না।
আত্মহত্যা করলে করুক! এমন কুলাঙ্গার পরিবারে থাকার চেয়ে না থাকা ভাল! এক কাজ করেন, আপনার সন্তানকে জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে জিগ্যেস করেন, তুই কি ভবিষ্যতে সমকামীহবি? আগেই বল, না বললে ভবিষ্যতে আমরা তোকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবো। গলা কাটবো নয় আগুনে পুড়িয়ে মারবো।
একটি সত্যি কথা বলি চাচা-চাচী আর ভোটদাতাগণ! আপনার সন্তানের সবচেয়ে বড় দোষ হলো, সে আপনার ঘরে জন্ম নিয়েছে, সে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছে। সে সংখ্যালঘু! প্রকৃতিতে ১০% প্রাণী মাত্র সমকামী। হিসেব করে দেখেছেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১০% সমকামীর সংখ্যাটা ঠিক কত?
আসলে এসব কথা এত খোলামেলা বলতে নেই। আল্লাহ পাপ দিবে, ভগবানে উল্টা লটকাবে। সাবধান!
খুব ভাল! এবার জয়-বাংলা বলে আগে বাড়ো!

Categories
একান্ত ভাবনা

সমকামীদের অসুস্থ বলাটাই মস্ত বড়ো অসুস্থতা

“মানুষ” নামক প্রাণীটি বড়ই বিচিত্র। একেকজনকে একেকভাবে তৈরি করা হয়েছে। অন্যান্য প্রাণীকুলের ক্ষেত্রে এর ভিন্নতা লক্ষ করা গেলেও, স্বভাব, চরিত্র থেকে শুরু করে তার যৌনতা, সব কিছুই ভিন্ন এই মানুষের ক্ষেত্রে। একেক ধরনের মানুষ একেক ধরনের যৌন আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। এতে মোটেও দোষের কিছু নেই। একটি মানুষ সমকামী, সর্বকামী, কিংবা বিসমকামী হবেন তা পুরোটাই নির্ভর করে তাঁর জিন, হরমোন ও পরিবেশের উপর। এক্ষেত্রে শারীরিক গঠন, রুচি বা ধর্মের কোন প্রভাব নেই। একজন ব্যক্তির সমকামী হওয়ার পেছনে তাঁর মস্তিষ্কের গঠন, এমনকি বংশধারারও প্রভাব রয়েছে, বিজ্ঞান আমাদের তাই বলে।

বিজ্ঞানিরা প্রমাণ করেছেন যে, একজন ব্যক্তির সমকামী প্রবণতার জন্য X ক্রোমোজমের Xq28 নামক ব্যান্ডটি দায়ী, যেটা কিনা সমকামীদের ক্ষেত্রে X ক্রোমোজমের প্রান্তসীমায় বিন্যস্ত অবস্থায় থাকলেও অন্যদের ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। কাজেই এটি প্রমাণিত সত্য যে, সমকামী ও বিষমকামীদের ক্রোমোজমের গঠনে পার্থক্য রয়েছে।

মস্তিষ্কের ভেতরে হাইপোথ্যালামাস নামে একটি অংশ আছে, তার উপরও যৌনতা অনেকটা নির্ভর করে। নারীদের হাইপোথ্যালামাসের INAH3 নিউক্লিয়াসটির আকার যতটুকু হয়, পুরুষদের হয় তার প্রায় তিনগুন। অথচ সমকামীদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের INAH3 নিউক্লিয়াসটির আকার প্রায় সমান। অর্থাৎ সমকামী পুরুষদের মস্তিষ্কের গঠন নারীদের মতোন। শুধু INAH3 ই না, সমকামী পুরুষদের ‘কর্পাস কলোসাম’ ও ‘অ্যান্টেরিওর কমিস্যুর’ নামক দুইটি প্রত্যঙ্গ যারা কিনা ভাষাগত দক্ষতার পেছনে কাজ করে তা নারীদের সমান, বিষমকামী পুরুষদের দ্বিগুণ। সমকামী পুরুষের শরীর পুরুষের হলেও যেহেতু তাঁর মস্তিষ্কের গঠন নারীদের মতোন, সে পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।

সমকামিতার পেছনে স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব আছে, গর্ভাবস্থায় কোন নারী যদি মানসিক চাপের মধ্যে থাকে তাহলে তাঁর সন্তানের সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কোনভাবে যদি টেস্টোসটেরন হরমোনের সংবেদনশীলতা কমে যায়, তাহলে ছেলে সন্তানের সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ থেকে ৪৮ শতাংশে।

আবার জমজদের ক্ষেত্রে এক ভাই যদি সমকামী হয় তাহলে অন্যজনের সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা ২৪ থেকে ৫৭ ভাগ, আর নারীদের ক্ষেত্রে এক বোন যদি সমকামী হয় অন্যজনেরসমকামী হওয়ার সম্ভাবনা ১৬ থেকে ৫০ ভাগ। জমজ না হলে উভয় ক্ষেত্রেই ১৬ ভাগ সম্ভাবনা রয়ে যায় সমকামী হওয়ার। এমনকি সমকামী ব্যক্তির সাথে তাঁর মামা ও ফুফাতো ভাইদের মধ্যে একটা যোগসূত্র রয়েছে।

তাই আমাদের সবার বুঝতে হবে, সমকামিতা কোন পাপ নয়। এটি কোন ভাবেই বিকৃত রুচির পরিচয় নয়, এটি অসুস্থতা নয়, বরং সমকামীদের অসুস্থ বলাটাই মস্ত বড়ো অসুস্থতা। আপনি যদি আপনার ধর্মের কারনে সমকামীদের ঘৃণা করেন, তাহলে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী, ঘৃণা ছড়ানো সেই ধর্মকেই ত্যাগ করাই উচিত বলে আমি মনে করি।

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

‘Ariel view of religion and contradictions with sexuality’

People of Bangladesh are known to be very religious and compulsive Muslims. They believe the Muslim god Allah creates everything in nature, with the best lifestyle defined in the Quran. Once what is taught in childhood, it must remain forever and to never be questioned.

People who raise questions such as ‘how come the 50-year-old prophet married and had sex with a 9-year-old?’ are called feminists, atheists and disliked by society, whereas 90% of the people are Muslim’s. The only form of official sexuality they recognise is straight. The only official genders they validate are male and female.

It is natural to have sexual needs at the age of emerging. However, in Bangladesh, men and women are tied with the hard shackle of cultural and religious values. The question is, how do they fulfil their natural desires before they are legally married? In reality, it is totally acceptable for a man to hold another man’s hand, hugging each other, going out together, eating or even sleeping in the same bed together, yet it is completely unacceptable if they fall in love with each other; which, isn’t any different for women.

Islam: The elders, all who are the school teachers, home tutors, Quran tutors, uncle and aunts or people who are born a minute before you, are entitled to be your guru whether or not they are competent in what they might be teaching you. In addition, lessons taught by them are not to be questioned! They teach you about god and how to live your life. According to Islam, following these rules to praise Allah and living your life according to Prophet Mohammad, will secure you a place in the heaven afterlife with a reward of 73 whores. It is your holy duty to keep everything out of the way, if necessary take part in jihad, as this is part of the Muslim rule establishment. Since this is the only reason why we are chosen by god and sent to this world.

Women: In Bangladesh, men set rules for women, pre-determining their ideal activity. Commonly, a woman who wears a veil, no makeup and not seen by anyone outside the house, is a role model of a good Muslim female character! Looking attractive or being expressive is forbidden in Islam. Marrying the man that parents have chosen and living a life according to Islam, is the best role model of obedience. These ‘being good Muslim female’ qualities are trained in the family as a fixed term, no matter how educated they are or how far they go to try and contribute to society, whether that be a writer, scientist, doctor, lawyer etc – none of it matters. Therefore, such qualities as a Muslim female must be maintained until death. Those who fail to follow the rules of being an ideal, or utter a word on behalf of females or human rights are called feminists, exiled or killed. What is the point of holding a degree and not able to question the unfair happening’s around the world?

Transgender: Transgenders are sent to prohibited areas, they cannot share their emotions, cannot work, vote or have a passport. They are sent to the river, disposed of or buried at the cemetery, even if they come from religious parents. However, it is a little relief to have learned that some transgenders are given national ID cards in 2018 and the government is considering them.

Homosexuality: Bangladesh identifies homosexuality as a choice of distorted mentality, performed by the man and woman who cannot control their sexual desires or needs before they are legally married. In addition, it is legal to arrest homosexuals under the panel code section 54 and 377, as it is deemed sedition and an antisocial behaviour in Bangladesh. In Islam, the LGBT group was destroyed during the time of prophet Luth, and instructed to kill the homosexuals on the dead sea. How is it right to allow a 3100 years old religious rule to affect a law of a country in the 20th century? Is killing a human because of their nature of sexuality a demonstration of a peaceful religion? Or a secular country?

But hey! A lot of heterosexuals are having sex before marriage, breaking the social and religious norm! But they aren’t being killed! Why? Because they are heterosexuals they are okay to break the rules as long as they apologize, yet the homosexuals are to be killed if found. This is so UNFAIR. According to the law – rules, norms and religious values are supposed to be followed by every citizen in the country. Then why are homosexuals only being targeted? Homosexuals are randomly searched to be prosecuted by the government or killed by the Islamic Radicals. The government let the murderers walk free, as if the killers have helped the government to get rid of the homosexuals. No judgement on behalf of the LGBT. They say homosexuality is ’HottaJoggo Oporadh’ meaning ‘Murderable Crime’. Marder is supposed to be a crime itself? However, Bangladesh is an exception.

It makes me jealous of the straight children who are loved by their parents. They are embraced and pardoned as they make mistakes. My birth is not my mistake! Why am I to be driven out the family? Of the society in an independent country? Why am I supposed to be praising that god’ who commanded (Shariya Law) to banish me for being homosexual?

I admit that ‘I failed to be the ideal daughter to my respected parent’s. That ‘I’, am the reason why my parents can’t go to heaven, that I disobeyed my parents every time they wanted to decide something to secure my life according to Islam and Society. I am tired of begging to them to listen to me, to not force me TO BE SOMEONE I AM NOT. I am truly sorry for all the harassment my parents had to go through all their life, just because of how unsuitable I am in their respected family.

This is just in me, this is how I am born. Neither I was given a choice prior to my birth nor was I given any idea which religion, country or environment I am going to go to. I can be responsible, make friends and care for them, feel and love exactly the same way as every other human being. Then what makes me different? My sexuality was a challenge within myself which I had to deal with every single day. I just couldn’t figure out what was wrong with me and how to fix myself for a long period of my life. Moreover, many more are suffering exactly the same way as I did. But now I know that I am no exception, there are more people like me who exist!

377 penal code is inhuman, no one supposed to be prosecuted just because they want to find a life partner of their own choice, which means being able to choose someone from the same gender. This panel code hinders the natural growth of a human being. It matters to me a lot because it took my teenage years, my youth. It matters to me because the whole LGBT community is suffering, they cannot come out because they are being treated as criminals.

I, Taushnuva Fardousi, protest against the inhuman penal code section 377. It is our demand that the government must make sex education compulsory; work on bringing awareness about LGBT on the society. Allow freedom of speech, and freedom of choice. All of their rights of living with their basic needs must be protected. The government must decriminalise LGBT in Bangladesh.

Tashnuva Fardusi

Categories
একান্ত ভাবনা

সমকামিরা সমাজের বাইরে নয়; তাঁরা নিজ নিজ কর্মগুণে বিখ্যাত!

সমকামীরা সারা পৃথিবীতে নিজের কর্মগুণে বিখ্যাত হয়েছেন, আসুন দেখা যাক কিছু বিখ্যাত এবং কর্মক্ষেত্রে সফল সমকামীর নাম:

সঙ্গীত জগতে : বৃটিশ কন্ঠশিল্পী এলটন জন্, বিশ্ব বিখ্যাত ব্যান্ড কুইনের শিল্পী ফ্রেডি মার্কারী, রিকি মার্টিন, জর্জ মাইকেল, জেনিফার ক্রাপ ও মার্শা ষ্ট্যাফানস জুটি সমকামি।

অভিনয়ে : নীল পেট্রিক হারিস ও ডেভিড বুর্টকা জুটি, টিলা টেকুইলা জুটি সমকামী।

লেখক ও সাহিত্যিক : প্ল্যটো, ওসকার ভিলডে, টি এস এলিয়ট, আর্থার রিমবাউড, ভার্জিনিয়া ভোল্ফ, পল ভার্লেন, লর্ড বায়রন, ওয়ার্ডসওয়াড, চিত্রশিল্পীদের মাঝে ভিঞ্চী, সালভাদর ঢালি, মাইকেল এঞ্জেলো সমকামী ছিলেন এবং সমকামিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন।

খেলা ধুলায় : জার্মান জাতীয় দলের ফুটবলার টমাস হিলসপার্গার, জার্মান জাতীয় মহিলা দলের ফুটবলার নাদিনে আনগেরার, ইংলিশ বক্সার নিকোলা এডামস, আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়াড় কি আলুম্স সমকামী। এরাও বিখ্যাত তাদের কর্মে, তাদের সমকামিতা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।

বিশ্ব বিখ্যাত ইতালিয়ান ডিজাইনার জর্জিও আর্মানী, রাজনীতিতে অষ্ট্রেলিয়ায় ইয়ান হান্টার ও পেনি ওং; টেক্সাসের গে মেয়র আনিসে পার্কার; বৃটেনে স্টিভ গিলবার্ট, ষ্ট্যাফান উইলিয়ামস সহ অসংখ্য সমকামী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গিডো ভেষ্টারভেলে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন সমকামী। দেশের জনগণের তাতে কোনো অসুবিধা হয়নি।

এবার দেখা যাক পৃথিবীর কোন কোন দেশে সমকামিতার বৈধতা দেয়া হয়েছে:

২০০১ সালে নেদারল্যান্ড প্রথম সমলিঙ্গের বিয়েকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার পর তাদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেছে ইউরোপের অন্যান্য সব জাতি। ইউরোপ ইউরোপের কোন দেশেই সমকামিতা বিরোধী আইন নেই। শুধু সাইপ্রাসে ছিল এবং তাও এ বছর জানুয়ারীতে সেই আইন রহিত করা হয়েছে। সর্বাধিক সমকামিতা পক্ষে সমর্থন পেয়েছে যে দেশ সেটি হচ্ছে স্পেন। স্পেন ৮৮ শতাংশ মানুষ সমাজিক ভাবে সমকামিতাকে গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করে। জার্মানিতে ৮৭ শতাংশ, এবং চেক প্রজাতন্ত্র ৮০ শতাংশ, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে এ সংখ্যা ৬০ শতাংশ। স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স সহ নয়টি ইউরোপীয় দেশে ইতিমধ্যে আইনগতভাবে সমকামী বিবাহকে বৈধতা দেয়া হয়েছে।

আমি নিজেও সমকামিতার পক্ষে কথা বলি এবং সমকামীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি ! তাহলে, এসব সমকামীরা অথবা সমকামীদের পক্ষে সমর্থন দেয়া ইউরোপের ৮০ ভাগ মানুষ কি মানসিক বিকারগ্রস্থ? নাকি আপনার সমকামিতা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব?