Categories
একান্ত ভাবনা

মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে শিখুন

আজ কিছু সত্য কথা বলবো, কারো যদি খারাপ লাগে, তাহলে আমার ব্লগ ত্যাগ করতে পারবেন এখনি, আমার কোনই আপত্তি থাকবে না।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুর্খ, আর যারা শিক্ষিত তাদের মধ্যেও বেশির ভাগ শিক্ষা শুধু পরীক্ষা পাশের জন্যই গ্রহণ করেছে, প্রকৃত শিক্ষিত তাদের বলা যায়না। আর যারা চোখ থাকিতে অন্ধ, তাদের কথা বলে কোন লাভ আছে বলে মনে হয় না। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন হঠাত করে শিক্ষা নিয়ে বলছি? এর যথেষ্ট কারন রয়েছে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ, সে হোক শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত, সমকামী কিংবা উভকামি – এসকল শব্দ শুনলেই প্রথমেই তাদের মনের মধ্যে যে চিন্তাটা আসে, তা হলো যৌনতা। তারা সমকামী কিংবা উভকামিদের শুধুমাত্র যৌনতা দিয়েই বিচার করেন। তারা একবারের জন্যও মনে করেন না যে সমকামীরা কিংবা উভকামিরা আর দশটা মানুষের মতোই মানুষ। তাদেরও অনুভূতি আছে, তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে, আছে নিরাপত্তার অধিকার। কিন্তু মুর্খ বাঙ্গালির এসব বুঝার ক্ষমতা নাই।

একজন ব্যক্তির ভিন্ন মত থাকতেই পারে, সে ভিন্ন যৌন আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতেই পারে, তাতে অন্য সবার কি যায় আসে? তাঁর যে প্রেম-ভালোবাসা হতে পারে এসব নিয়ে কিন্তু এই মূর্খ বাঙ্গালি বুঝতে পারে না, বুঝতে চায়ও না। বাংলাদেশের এই সমকামী কিংবা এলজিবিটি গোষ্ঠীটা আসলেই একদমই সহজ সরল প্রকৃতির হয়, একদম নিরীহ যাকে বলে। তারা কারো সাথেই ঝামেলায় জড়াতে চায়না। তারা সারাজীবন নিজের ভালোবাসার রিকোগ্নাইজেশন খুঁজে বেড়ায়। অস্তিত্বের খুঁজে কাটিয়ে দেয় সারাটি জীবন। তবে মূর্খ বাঙ্গালির তাটা কি যায় আসে?

তাদের চোখের একটা “সাধারণ মানুষ” যখন জোর পূর্বক ধর্ষণ করে তখন তাদের মধ্যেই কোর্ট কাচারিতে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়, সেই ধর্ষককে  বাঁচাতে। এর থেকে বিকৃত মনমানসিকতা আর কি হতে পারে? কিন্তু না, তারা সমকামীদেরই বিকৃত মনমানসিকতা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এই বাঙ্গালি জাতি পড়াশোনায় যতই শিক্ষিত হোক না কেন, তাদের মনের মধ্যে ঠিকই সমকামীদের জন্য একরাশ ঘৃণা পোষে রাখে। তাই দুজন সমকামী মানুষ পরিস্পরকে যৌন লালসা নয় বরং ভালোবাসা থেকেই বিয়ে করতে পারে সেটা বোঝার মত ক্ষমতাও তাদের নাই। মাঝে মধ্যে তাদের এই অজ্ঞতার জন্য আমার দুঃখ হয়, আই রিয়েলি ফিল সরি ফর দেম। 

তবে সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই, সমকামী মানে যদি যৌনলালসাই হতো তাহলে বিয়ে করার অধিকার আদায়ের দাবী এদের থাকতো না, সম্ভোগ পর্যন্তই থাকতো এদের চাওয়া-পাওয়া। একটু ভাবুন, আরেকটু জানুন, বুঝতে চেষ্টা করুন, আমরা সবাই মানুষ, মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে শিখুন।

Categories
একান্ত ভাবনা

ভালোবাসার ক্ষেত্রে বৈধ বা অবৈধ বলে কিচ্ছু নেই

যে প্রেমিকেরা কথায় কথায় প্রেমিকাদের বলেন- তোমার হাসি মোনালিসা’র মতন তারাই যখন সমকামিতা নিয়ে কঠিন কঠিন কথা লিখে স্ট্যাটাস দেয় তখন আমার খুব হাসি পায়! লিওনার্দো যে সমকামী ছিলেন তা তো তাদের অজানা হওয়ার কথা নয়? প্রাচীন মিশরীয়, অসিরিয় এমনকি বাংলা’র ইতিহাসেও সমকামিতা সেই প্রাচীনকাল থেকেই ছিল।

আবার অনেকেই বলে থাকেন সমকামিতা নাকি প্রকৃতিবিরূদ্ধ। সমকামীরাও প্রকৃতির অংশ। বিড়াল, কুকুর, ছাগল, সিংহ, র‍্যাকুন, হাতি, ডলফিন, স্যা’মন মাছ, বাইসন, কোয়ালা বেয়ার, ব্রাউন বেয়ার, মুরগী, পেঙ্গুইন, সি-গাল, উড টার্টেল, গার্টার সাপ সহ আরো পাঁচশ প্রজাতির প্রাণীর মতো সমকামীরাও প্রকৃতিরই অংশ।

আবার অনেকে বলেন সমকামিতা নাকি নোংরা। এটি আসলে মানুষ-ভেদে তার মনমানসিকতার পরিচয়। কারন সমকামীতা যদি নোংরা হয়, তাহলে ছেলে-মেয়ের যৌন সঙ্গমও নোংরামি। কই, তখন তো কিছু বলেন না?

অনেকে আবার ধারনা করেন যে সমকামিতা একধরণের মানসিক রোগ। জ্বী না। আপনি যে সমকামীদের সমাজে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না, সেটা আপনার মানসিক সমস্যা। আপনার ডগমাটিক ধর্মের “মূল্যবোধ” থেকে আপনার ট্যাবুকে আপনি বের করতে পারছেন না। এছাড়া আর কিছুই না।

অনেকেই বলতে শোনা যায় “পৃথিবীতে সবাই সমকামী হইলে রিপ্রোডাকশান করবে কে?”। কিন্তু কেন? সমকামীরা কি বিষমকামীদের খুন করে মেরে ফেলছে? সমকামীরা তো এই পৃথিবীতে সংখ্যালঘু, তাঁরা তো বিষমকামীদের কোনভাবে বিরক্ত করছেন বলে জানা যায়নি আজ পর্যন্ত! যেসব ছেলেরা মেয়েদের ভালোবাসেন, এবং যেইসব মেয়েরা ছেলেদের, তারাই দুনিয়াতে বাচ্চা সাপ্লাই দিবেন। দুনিয়াতে বাঘ আছে বলে কি সিংহের দরকার নাই?

আসলে ভালোবাসা হলো একটি পবিত্র অনুভূতি, এ ক্ষেত্রে বৈধ বা অবৈধ বলে কিচ্ছু নেই!

 

 

Categories
একান্ত ভাবনা বাংলাদেশ রাজনীতি

শুধু বাংলাদেশকে ভুলে গেলেই এই যাত্রায় হয়ত বেঁচে যেতে পারি

যে চলে যায় তার খুব সম্ভবত আর গল্প থাকেনা। সে গল্প নিজেই বয়ে বেড়ায় এক আদিম গ্লানি ফলে সেসব গল্প তেমন বলাও হয়ে ওঠেনা খুব করে। আমাদের এইসব মনে হতে থাকা কিংবা না হতে থাকা জীবনে এর কি কোন মূল্য রয়েছে আদৌ?

তাঁরা আর কোনদিন-ই ফিরে আসবেন না। যারা ধার্মিক তাঁরা বলবেন এই ছেলে-মেয়ে গুলো বেহেশত বা স্বর্গে গেছেন। যারা ধর্মের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন, তাঁরাও দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে বলবেন “নেই”।

এটা একটা অসীম শূণ্যতার গল্প কিংবা উপাখ্যান। পিট সীগার কেন বলছিলেন বহুদিন আগে যে, where have all the flowers gone? পীট সীগারের এই প্রশ্নের উত্তর অন্তত আমার কাছে নেই।

গতকাল আমি মন্ত্রী শাহজান খানের একটি ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। তাঁকে দেখতে বানানো হয়েছিলো ড্রাকুলার মত। ঠোঁটের দুই দিকে রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। চোখ দুটো লাল। আমরা মানুষ হিসেবে একজন পিশাচকে যেভাবে কল্পনা করি সেটির প্রকাশ ঘটাতে চেয়েছিলাম।

এক পর্যায়ে মনে হোলো, কি লাভ তাতে? কি উদ্ধার হবে এতে করে? কেবল ব্যাক্তিগত রাগ ও ক্রোধের কিছুটা উপশম হওয়া ছাড়া?

একবিংশ শতাব্দীতে শোকের আসলে কোনো সুনির্দিষ্ট সময় নেই। শোক মানুষকে অভ্যস্ত করে ফেলেছে, মানুষও শোককে এডপ্ট করে নিয়েছে। সাময়িক যে যন্ত্রণার মধ্যে আমরা বসবাস করি সেটি ঠিক সে সময়ে অত্যন্ত খাঁটি হলেও এগুলো নতুন নতুন ঘটনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

কাকে দোষ দেব বলেন? কারই বা খুঁত ধরব? আমাদের শোকের আয়ু কমতে কমতে যখন শূণ্য হয়ে উঠলো তখন আমরা বুঝলাম, আমাদের হারাবার কিছু নেই। ইনফ্যাক্ট আমাদের পাবারও কিছু নেই।

দিয়া বাসের চাকার নীচে চলে গেলো, আরো দু’জন চলে গেলো দিয়া’র সাথে। দেখুনতো ওই বাকী দুজনের নাম-ই মনে নেই!! গতকালের ঘটনা আজই নাম ভুলে গেলাম। টাইপিং এর এই পর্যায়ে মনে হোলো গুগোল করে দেখে নেই। কিন্তু ইচ্ছে হোলো না একদম। মনে হোলো আমার এই শোকশূন্য সময়টার সাথে প্রতারনা না করি। যা সত্য শুধু তাই বলি।

রাজীবের কথা ধরুন। ওই যে দুই বাসের চাপায় হাতটা ফেলে দিতে হলো। তারপর মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করতে করতে ম’রে গেলো ছেলেটা। পত্রিকায় পড়েছিলাম তাঁর দুই ভাই রয়েছে। ছেলেবেলাতে রাজীব আর দুই-ভাই এদের তিনজনের বাবা ও মা মারা গেলে রাজীব অনেক কষ্ট করে এদের বড় ক’রে তোলে। খাদ্য দেয়, পোষাক দেয়, বাঁচিয়ে রাখে। সেই রাজীবও তো ম’রে গেলো। ঐ বাচ্চা দু’টির কি অবস্থা এখন, কেউ কি জেনেছি আর?

আবার সেইদিন হানিফ পরিবহনের একটা বাস থেকে এক তরুনকে বেঁধে ফেলে দিলো পানিতে। ড্রাইভার আর কন্ডাক্টর মিলে। ছেলেটি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়ত। বাসে করে যাচ্ছিলো মায়ের কাছে। বাথরুমে যাবে বলে বাস থেকে নামলো। আবার বাসে উঠবার সময় ছেলেটি আহত হোলো। তারপর এই আহত ছেলেটিকে নিয়ে ঝামেলা হবে ভেবে মেরে ফেল্লো ছেলেটিকে।

কি সুন্দর দেখতে ছেলেটি। ছেলেটির ছবি দেখে আমার এক অদ্ভুত কারনে প্রথমেই মনে হয়েছিলো, ও কি কাউকে ভালোবাসতো? কিংবা কেউ তাঁকে?

আমরা পত্রিকার পাতাতে এসব পড়ি আর কর্পূরের মত এগুলো এক সময় উড়ে চলে যায়। যাবেই তো! কয়লাখনির এম ডি বলেছেন ১ লক্ষ টন কয়লা উড়ে চলে গেছে। আর আমাদের যন্ত্রণা আর বিষাদ!!! এসব কি করে আমাদের ভেতরে পড়ে রইবে? এরা তো আরো হালকা আরো বর্ণহীন…

শেখ হাসিনাকে গাল দেয়া যায়। গাল দেয়া যায় ওবায়দুল কাদের নামের বালকটিকে। গাল উঠতে পারে মাল মুহিতের ঘাড়ে, গাল চলতে পারে মতিয়ার মুখের প’র। কিন্তু তারপর? তারপর কি?

তারপর কিছু না। তারপর অসীম শূন্যাত। বাবনা করিম গেয়েছিলো না এমন কিছু?

“একদিন আমি হেঁটে চলছি পথে একা…হঠাৎ হোঁচট খেয়ে থমকে দেখি…চারিদিকে শুধু আঁধার…”

বাবনা একদিন একা চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন। আমাদের সাথে পার্থক্য হচ্ছে আমরা সম্মিলিত ভাবে হোঁচট খেয়ে পড়ে রয়েছি দীর্ঘদিন। দীর্ঘদিন মানে দীর্ঘদিন…

সবাই বলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। সবাই বলে বাংলাদেশ আরো আগাবে। আরো সামনে যাবে। সবাই এমনই বলে।

আমি বলিনা কিংবা বলতে পারিনা। এই দেশের ইতিহাস পড়ে আমি এই সময়ের এক অর্বাচীন বালিকা তাশনুভা আটকে রয়েছি ইতিহাসের নানান গলি আর ঘুপচিতে।

বালক বললাম বলে হেসেছেন। তাই না?

এই দেশটা নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়। এক বুক গাঁজা টেনে কিংবা প্যাথিড্রিন নিয়ে, মরফিন নিয়ে কিংবা ইয়াবা নিয়েীই দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়।

আমার এক বন্ধু আমাকে দেখলে প্রায়ই বলে, “গাঁজা খাবি?”। আমি বলি “গাঁজা খাইনি আগে। খেলে কি হয়?”

আমায় সে বলে, গাঁজা খেলে নাকি বহুদূর পর্যন্ত উড়ে চলে যাওয়া যায়। তারপর সে চলার পথে ভুলে থাকা যায় দুঃশাষন, দূর্নীতি, লুটপাট, খুন, হত্যা, ধর্ষন। নিজস্ব বেদনা, যন্ত্রণা আর হাহাকার।

ভুলে যেতে খুব ইচ্ছে করে। ভুলে যেতে ইচ্ছে করে দিয়াকে। দিয়ার সাথে বাসের নীচে পড়া নাম ভুলে যাওয়া বাকীদের। ভুলে যেতে ইচ্ছে করে দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীরের প্রলাপ, ভুলে যেতে ইচ্ছে করে একরামুলের মেয়েদের, কর্ণফুলির পাশে নুরুল ইসলাম নুরুর গলিত আর মথিত লাশ, ভুলে যেতে ইচ্ছে করে রাজীব, ভুলে যেতে ইচ্ছে করে সাগর আর রুনি কিংবা তনু। ভুলে যেতে ইচ্ছে করে শৈশব, কৈশোর আর গোটা সময়।

সব ভুলে যেতে ইচ্ছে করে।

মনে হয় নিজের মাকে ভুলে যাই, বাবাকে ভুলে যাই। ভাই-বোন সব কিছু। ভুলে যাই সমস্ত স্মৃতি। এত এত যন্ত্রণা। এত এত কষ্ট। এত এতো থোক থোক রক্তের গল্প আর ভালো লাগেনা।

আর কিছু না হোক, শুধু চাই বাংলাদেশকে ভুলে যেতে। এর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্মৃতি ভুলে যেতে চাই। এর মানুষ। এর রাজনীতিবিদদের।

শুধু বাংলাদেশকে ভুলে গেলেই এই যাত্রায় হয়ত বেঁচে যেতে পারি…

 

Categories
একান্ত ভাবনা

মানবতা হলো সকল ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের ঊর্ধ্বে

সমকামীদের আমাদের প্রশাসন অপরাধী মনে করে, কিন্তু সমকামী হওয়া কোন অপরাধ নয়। এটি শরীর বৃত্তীয় একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

সমাজে হিজড়া সমপ্রদায় যেমন আছে তেমনি সমকামী সমপ্রদায়ও আছে যারা জন্ম থেকেই বিপরীত লিংগের প্রতি আকর্ষন অনুভব করেনা; নীজ লিংগের প্রতি আকর্ষন অনুভব করে ! তাদের এ বৈশিষ্ট্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে কোন অসুস্থতা নয়। সামাজিক কুসংস্কারের কারনে সমাজে এদের ঘৃনা করা হয়, এদের জোর করে সমাজচ্যুত করা হয়। যেহেতু তাদের এই বৈশিষটেরে কারনে তারা নিজেরা দায়ি নয় আর যেহেতু এই সম্প্রদায়ের  লোকেরা হেটেরোসেক্সুয়াল সম্প্রদায়ের মতই সমাজে লেখা-পড়া, ব্যবসা-বানিজ্য সহ গুরুও্ব পূর্ণ কাজ করছে তাই সমাজে তাদের ডিসক্রিমিনেশন না করার জন্যে মানবতাবাদী বাদি সংগঠন গুলো সোচ্চার হয়েছে ! মানবতা হল সকল ধর্মের উপরে, বর্ণ-লিঙ্গ ধর্মের মাপকাঠিতে মানুষের বিচার চলে না।

আজ ভারতের সুপ্রিমকোর্ট সেদেশের গে বা সমকামী বিবাহের বা এক সাথে বসবাসের বৈধতা দিয়ে রায় প্রদান করেছে। সেই সাথে ৩৭৭ নং সেকশন রহিত করেছে। এটা ভারত ও ভারতের বাইরে যারা সমকামীদের আইনানুগ বৈধতা ও অধিকার নিয়ে কাজ ও আন্দোলন করছে তাদের জন্য নি:সন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

তবে আমাদের দেশে এখনো সমকামীদের নোংরা চোখেই দেখা হয়। কে সমকামী, কে অসমকামী, কে কার সাথে যৌন সংসর্গ করবে, তা নিয়ে অন্য মানুষের এত আগ্রহ কেন বুঝি না! আসলে, এই ধরণের নাক গলানো মানুষরা যৌন হতাশায় ভোগে; বেচারারা নিজেরা তৃপ্ত হয় না, তাই অন্যদের ব্যাক্তিগত কর্মে বাগড়া বসায়। সমকামিতাই হোক কিংবা, অসমকামিতা; ধর্ষণ, ধোঁকাবাজি, চিটিং না হলে, সে নিয়ে সমাজ বা, অন্য মানুষের মাথা ঘামানোর অধিকার নেই।

Categories
একান্ত ভাবনা

জুলিয়াস ইয়েগো

জুলিয়াস ইয়েগো নামের এক কেনিয়ান ইউটিউবে ভিডিও দেখে জ্যাভেলিন থ্রো ( বর্ষা নিক্ষেপ ) শিখে ফেলেন।তারপর কঠোর অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের পথে ধাবিত করে । এক পর্যায়ে জাতীয় দলে সুযোগ এবং ভালো প্রশিক্ষকের কাছে শেখার সুযোগ মেলে । তার পর অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় । কেশর্ন ওয়ালকট নামের এক যুবকও একই ভাবে ইউটিউব দেখে জ্যাভেলিন থ্রো শিখেছেন এবং এক পর্যায়ে অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন। ট্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো’র সন্তান এই যুবকের নাম হয়ে যায় ইউটিউব ম্যান।

বিল সচুফেনহাওয়ার নামের এক টোকাই আমেরিকার সল্ট লেক সিটির পথে পথে ঘুরে বেড়াত । সেই ছেলে খেলা শিখে মেডাল জিতেছিল ঐ সল্ট লেক সিটি’র অলিম্পিক থেকেই ।

আলমেরা নামের এই মেয়েটির বয়স ৯ বছর । ইউটিউবে অপেরার গান এর ভিডিও দেখে নিজে নিজেই অপেরার গান শিখেছে । নেদারল্যান্ডবাসি এই মেয়েটি জীবনে প্রথম এত বড় মঞ্চে গাইছে । কোন গানের শিক্ষক ছাড়াই সে এই অতিমানবীয় কাজটা করেছে । রবিঠাকুর বলেছেন ” মানুষের ওপর বিশ্বাস হারান পাপ “। ঢাকার মিরপুরের কিংশুক সমবায় সমিতি একটা বিশাল বিলবোর্ড টাংগিয়েছিল ” মানুষ তার আশার সমান বড় ”

এক ছেলে , পাড়া গাঁ থেকে সাধারন কেডস পরে দৌড়াতে এসেছে ঢাকায় – এসেই চ্যম্পিয়ন । মহা হুলস্থুল । শীঘ্রই তাকে জাতীয় দলে নেয়া হল, গেল ভারতে একটা প্রতিযোগিতায়। সেখানে তাকে ট্র্যাকে নামতেই দেয়া হল না ! কারন তার রানিং শু নেই। এই খবর পত্রিকায় ছাপা হল – এই কোম্পানি জুতা কিনে দেয় তো ঐ কোম্পানি জুতার কারখানাই বানিয়ে দেয় , সেই পত্রিকা তাকে সম্বর্ধনা দেয়ার আয়জন করবে ঘোষণা দিল। কিন্তু কেউ আর এল না জুতা নিয়ে – সম্বর্ধনাও আর হয় না ! অগত্যা আমার দুই পুত্রের ঈদের জামা কাপড় কাটছাঁট , গুলিস্তানে যেয়ে ১ জোড়া রানিং শু কেনা হল ১২০০ টাকা মাত্র!
সেই ছেলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনিতে সুযোগ পেয়ে সেখানেই আছে, আর বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়।

মনু নামের এক তরুণ ঢাকায় রিকশা চালাত। মোহামেডান ক্লাবের অন্ধ ভক্ত । কিভাবে যেন তার খেলা চোখে পড়ে গেল আর আবাহনী মোহামেডান মহাযুদ্ধে তাকে নামানো হল। মনু অবিশ্বাস্য এক গোল করে হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছিলেন । তারপর একের পর জয়ের নায়কের নাম মনু । স্টেডিয়াম উত্তাল হয়ে যেত মনু মনু চীৎকারে । তারপর , মনুকে জুয়ার আসরে নেয়া হল – সেলিব্রিটি খেলোয়াড় , এসব না করলে চলে ! মনু শেষ !

আকবর নামের এক রিকশা চালকের গান শুনিয়ে দেশ মাতালেন হানিফ সংকেত। আকবর রাতারাতি সেলিব্রিটি , এলবাম বেরিয়ে গেল। এখন কেউ জানেই না আকবর কে ? কোথায় আছে ?

আমরা এমনই হুজুগে মেতে থাকি যে পারলে নিজের বাপ মা ভাই বোনদের ছেড়ে বিদেশি সেলিব্রিটির ডায়রিয়ার খবরে মেতে থাকি !

Categories
অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা

যুদ্ধের পর মহিলাদের যৌনদাসী হিসেবে বেবহার করা জায়েজ ছিল

প্রথমত, ‘জেনা’ এবং ‘ধর্ষণ’ এক না। ইসলাম এ জেনা বৈধ না , কিন্তু যুদ্ধের পর মহিলাদের যৌনদাসী হিসেবে বেবহার করা জায়েজ ছিল।

জেনা হলো বিবাহ সম্পর্ক বহির্ভূত অথবা বিয়ের আগে একজন আর একজনের সাথে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা।
ধর্ষণ হচ্ছে নিজের লিপ্সা মিটানোর জন্যে অন্যের শরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বেবহার করা। নবীর আমলে যে সকল যুদ্ধ সংঘটিত হতো, সেই যুদ্ধে বিজয়ের পর মানুষ পশুপ্রাণী ও বস্তু পর্যন্ত সব কিছুই গনিমত এর মাল হিসাবে গণ্য হতো। মহিলারা ব্যাবহৃত হতো যৌনদাসী হিসেবে এবং পুরুষরা ব্যাবহৃত হতো দাশ হিসেবে।

এখন সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন বেক্তিগণ, আপনারাই বলুন – যে নারীদের স্বামী সন্তান বা আত্মীয় পরিজন যুদ্ধে এইমাত্র নিহত হয়েছে, তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে নবী রাসূল আর সাহাবারা তাদের যৌনদাসী হিসেবে ওই মহিলাদের সাথে সহবাস করছে। এটা তো জেনার চাইতেও খারাপ। গনিমতের মাল বলে তাদের ধর্ষণ করা হতো, ধর্ষণের কারণে তারা যে সন্তান জন্ম দিতেন, তাদের কেও দাসী বানানো হতো, নিজের সন্তান এর মর্যাদা দেয়া হতো না।

Categories
একান্ত ভাবনা

ধর্মগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে

ধর্মগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাচ্ছে অজ্ঞতা ততই দুর হচ্ছে। ফলে অজ্ঞতা দ্বারা সৃষ্ট ধর্মগুলোও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

ইসলাম, খৃস্টান এবং ইহুদী এই ধর্মগুলো (আব্রাহামিক ধর্ম) মানব সৃষ্টি সম্পর্কে প্রাচীন গল্পকাথার আশ্রয় নিয়েছে। প্রাচীন মানুষ জানতো না মানুষ কিভাবে পৃথিবীতে আবির্ভুত হয়েছে । কিন্তু তারা তাদের কৌতুহল মেটাতে তৈরী করেছে নানা গল্প-উপকথার। আর তার মধ্যে আদম হাওয়ার গল্প খুব উল্লেখযোগ্য। এই গল্প বা রুপকথাটি ধর্মে চলে এসেছে বা ধর্মের সৃষ্টিকর্তা প্রাচীন মানুষ এই গল্পটিকে ধর্মে ব্যবহার করেছে। ফলে ধর্মগুলো বিশ্বাস করে এসেছে কোন এক (কাল্পনিক) সৃষ্টিকর্তা প্রথমে পৃথিবী থেকে মাটি নিয়ে আদম নামের প্রথম মানুষকে সৃষ্টি করেছে এবং তার শরীরের অংশ থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করেছে। আর আদম হাওয়াকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

কিন্তু বিজ্ঞান আজ বলছে মানুষ কোন এক আদম-হাওয়া জুটি থেকে আবির্ভুত হয়নি বরং মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে অন্য কোন প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। প্রথমে জড় পদার্থ থেকে এককোষী জীবের উদ্ভব হয়েছে। (প্রথমে অজৈব জড় থেকে জৈব জড় তৈরী হয়েছে এবং পরে জৈব জড় থেকে জীব তৈরী হয়েছে।) এবং এককোষী জীব থেকে বহুকোষী জীব (উদ্ভিদ ও প্রাণী) তৈরী হয়েছে। এভাবে এক জীব থেকে এই বিশাল জীবজগৎ তৈরী হয়েছে। এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণী বিবর্তিত হয়ে তৈরী হয়েছে প্রাণী জগৎ। শিপ্পাঞ্জী, গরিলা এবং মানুষ একই প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ ইহুদী, খৃস্টান এবং ইসলাম এই তিন ধর্মই মানব সৃষ্টি সম্পর্কে সম্পূর্ন ভূল বা মিথ্যে কথা বলে এসেছে।

ফলে এই ধর্মগুলো বিবর্তনবাদের (যে তত্ব জীবজগৎ সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়) বিরোধীতা শুরু করে দেয়। তারা বিবর্তনবাদকে মেনে নিতে চায় না। যদিও বিবর্তনবাদ প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত তবুও এই ধার্মিকগুলো বিবর্তনবাদকে মিথ্যে বলে অপপ্রচার করে। কারণটি খুব সহজেই বোধগম্য, বিবর্তনবাদ সরাসরি ধর্মকে আঘাত করায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধার্মিকগুলো এর বিরোদ্ধে মিথ্যে প্রচার করে স্বাধারণ মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। তারা ধর্মকে সত্য বলে প্রচার করছে এবং বিজ্ঞানকে মিথ্যে বলে দাবী করছে। বিবর্তনবাদ অনুযায়ী ইসলাম, খৃস্টান এবং ইহুদী ধর্ম মিথ্যে।

আবার বাইবেল ও কুরআন মতে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে ছয় দিনে। কিন্তু বিজ্ঞান বলে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১৫ বিলিওন বছর আগে। অর্থাৎ ধর্মগুলো সম্পূর্ন ভুল কথা বলছে।

ধর্মগুলো বলে পৃথিবী সমতল এবং নিশ্চল। সূর্য্য ও চাঁদ গতিশীল কিন্তু পৃথিবী স্থির। কিন্তু বিজ্ঞান বলে পৃথিবী সমতল এবং স্থির নয়; গোল (গোলকাকার) এবং গতিশীল। সূর্য, চন্দ্র, তারকা সবগুলোই গতিশীল। অর্থাৎ ধর্মগুলো ভূল বা মিথ্যে তথ্য দিচ্ছে ।

ধর্মগুলো দাবী করে আত্মা বলে কিছু একটা আছে যা দেহে প্রবেশ করলে জড় দেহ জীবে পরিনত হয় এবং আত্মা দেহ থেকে চলে গেলে দেহ প্রাণহীন হয়ে যায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলে আত্মা বলে কিছু নেই। জীব দেহ বেঁচে থাকে দেহে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। দেহ যখন কার্যক্ষম থাকে না তখন জীব মারা যায়। অর্থাৎ বাস্তব জগতে আত্মা বলে কিছু নেই। এখানেও ধর্মগুলো ভুল কথা বলছে।

ধর্মগুলো বিশ্বজগতের যে বর্ণনা দিয়েছে সেগুলো বাস্তব জগতের সাথে মিলে না। ধর্মগুলো মানুষের কল্পনাকে প্রাধান্য দেয় যেমন- ইশ্বর বা গড, আত্মা, পুনর্জীবন, পরকাল, বেহেশ্ত-দোজক, জ্বীন-পরী-ভূত ইত্যাদি যেগুলোর বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই; এগুলোর অস্তিত্ব শুধুমাত্র মানুষের কল্পনাতে রয়েছে। ধর্মগুলো মানুষের অল্প জ্ঞান দিয়ে তৈরী করা কল্পনা মাত্র। ফলে একেক মানুষের কল্পনা যেমন একেক রকম, ঠিক তেমনি তারা একেক রকমের ধর্ম তৈরী করেছে তাদের কল্পনার পার্থক্য দ্বারা। মানুষের কাল্পনিক চিন্তা ধারার প্রতিফলন হল ধর্মগুলো। মানুষের কল্পনা শক্তি বিভিন্ন, তাই ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন। জ্বীন-পরী-ভূত ভিন্ন ভিন্ন, শয়তান-ইবলিস ভিন্ন ভিন্ন, ইভিল-ডেভিল ভিন্ন ভিন্ন, ঠিক তেমনি ভাবে ইশ্বর-আল্লাহ-গড-জেহোভা-ভগবানও ভিন্ন ভিন্ন।
এগুলো মানুষের কল্পনা শক্তির ভিন্নতা প্রমাণ করে মাত্র। এসব ভিন্নতা অবাস্তব ও কাল্পনিক অস্তিত্বগুলোকে প্রমাণ করে না।

পৃথিবীতে সত্য জ্ঞানের সমষ্টি হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞান কাজ করে বাস্তবতা নিয়ে। মানুষের কল্পনা বা কল্পনার বিভিন্ন সৃষ্টি জ্বীন-ভূত, ইশ্বর-শয়তান, আত্মা-পরমাত্মা নিয়ে নয়। বিজ্ঞান জানে এগুলো মানুষের কল্পনা মাত্র। এগুলোর বাস্তব কোন প্রমাণ নেই এবং এগুলোর প্রমান পাওয়াও সম্ভব নয়। কারণ মানুষ যা কিছুই কল্পনা করতে সক্ষম, সেটা সে কল্পনা করে; কিন্তু সেই কল্পনা কখনই বাস্তবতায় পরিণত হয় না। এগুলো বাস্তব নয়, এদের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই বলেই বিজ্ঞান এগুলোকে নিয়ে কাজ করে না। কারণ বিজ্ঞানের কাজ বাস্তবতাকে নিয়ে; মানুষের কল্পনাকে নিয়ে নয়। যেটা বাস্তব কিন্তু কল্পনা নয়, সেটা নিয়েই বিজ্ঞান গবেষনা করে। ফলে বিজ্ঞানের কোন গবেষনাই ইশ্বর বা কাল্পনিক অস্তিত্ব কেন্দ্রিক নয়। যার কোন অস্তিত্ব নেই সেটা বিজ্ঞানের কাজ নয়। বিজ্ঞানের কাজ সত্যকে উন্মোচন করা এবং সত্য ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করা। কোন কাল্পনিক অস্তিত্ব নিয়ে নয়, যার অস্তিত্ব শুধু মানুষের মনে; বাস্তব জগতে যার কোন অস্তিত্বই নেই।
বিজ্ঞান সত্য, ফলে এটি ক্রমে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। সত্য প্রকাশিত হচ্ছে এবং মিথ্যা ধর্ম এবং ধর্মের ইশ্বরগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানের আলো যেদিকেই পড়ছে সেদিকেই কুসংস্কারের অন্ধকার দূর হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বিজ্ঞানের সত্য প্রকাশিত হবার মাধ্যমে এবং বিজ্ঞানের বাস্তব জ্ঞান প্রসারিত হবার মাধ্যমে মিথ্যে ধর্ম ও কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তাগুলো মানুষের মন থেকে দূর হয়ে যাচ্ছে। কুসংস্কারগুলো ধুয়ে মুছে ছাপ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সত্য প্রকাশিত হচ্ছে, বিজ্ঞান শক্তিশালী হচ্ছে। আর এর ফলশ্রুতিতে মিথ্যে ধর্মগুলোর মিথ্যেবাদিতা ও কুসংস্কারগুলো বিলিন হযে যাচ্ছে। আর বিলিন হতে শুরু করেছে ধর্মগুলো।

ধর্মগুলোর মিথ্যেবাদিতা এবং ধর্মগ্রন্থগুলোর মিথ্যা ও ভুল-ভ্রান্তিগুলো সবার নজরে চলে আসছে। আর ধার্মিকরা সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মের অস্তিত্বের সংকটে পতিত হচ্ছে। ধার্মিকগুলো বুঝতে পারছে তাদের মিথ্যে ধর্মের মৃত্যু সুনিশ্চিত। ফলে তারা উঠে পড়ে লেগেছে মিথ্যে ধর্মগুলোকে বাঁচাতে। যেহেতু তাদের ধর্মগুলোর মৃত্যুর প্রধান কারণ ধর্মগ্রন্থগুলোর মৃত্যু, তাই তারা ধর্মগুলোকে বাঁচানোর জন্য ধর্মগ্রন্থগুলোকেই আগে বাঁচাতে চাচ্ছে। যেহেতু মানুষ জেনে গেছে ধর্মগ্রন্থগুলো শুধু মিথ্যে বুলিই ঝেড়েছে এতোদিন, তাই ধার্মিকদের প্রধাণ কাজই হয়ে পড়েছে সেই ভূল ও মিথ্যে কথাগুলোকে আগে সংশোধন করা। তাই ধার্মিকগন উঠে পড়ে লেগেছে তাদের ধর্মগ্রন্থের সাথে বিজ্ঞানের সামঞ্জস্যতা দেখাতে। একেক ধর্মের ধার্মিকরা তাদের নিজ নিজ ধর্মকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করতে দিন রাত এক করে ফেলছে। সব ধর্মই বরাবরের মত দাবী করছে একমাত্র তাদের ধর্মগ্রন্থই বিজ্ঞানময়, আর বাকী সব ধর্মই অবৈজ্ঞানিক। তাদের দাবী প্রমাণ করতে যেয়ে তারা ধর্মগ্রন্থগুলোর কথাগুলোকে পরিবর্তন করা থেকে শুরু করে, ধর্মগ্রন্থের বাক্য পরিবর্তন, শব্দ পরিবর্তন, ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা আনয়ন এবং সব শেষে শব্দের অর্থের পরিবর্তন পর্যন্ত করছে। অর্থাৎ তারা গোজামিল দিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করছে। তারা ধর্মগ্রন্থকে বাঁচাতে এমন কোন কাজ নেই যেটা তারা করছে না। ফলে সব ধর্মের ধার্মিকরাই তাদের ধর্মগ্রন্থের অর্থ পরিবর্তন করে, শব্দ পরিবর্তন করে, শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে এবং এর সুবিধাজনক ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরী করে তারা তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করার জন্য দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করে দিচ্ছে। এমন কি তারা যখন সব চেষ্টা করেও তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিজ্ঞানের সাথে মিলাতে ব্যর্থ হচ্ছে তখন তারা সত্যের প্রতীক বিজ্ঞানকেই বদলে ফেলার চেষ্টা করা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানকে পরিবর্তন করা ধার্মিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। যেহেতু ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মের মতই মিথ্যে তাই তারা বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে বিকৃত করে উপস্থাপন করছে। তারা তাদের কথার চাতুরতা দিয়ে স্বাধারণ মানুষের কাছে (যারা বিজ্ঞান ও ধর্ম কোনটাই জানে না) ধর্মগ্রন্থকে ভূল ভাবে উপস্থাপন করছে এবং বিজ্ঞানকেও ভূল ভাবে উপস্থাপন করছে।

মোট কথা এমন কোন কাজ নেই যা ধার্মিকরা তাদের ধর্মগুলোকে বাঁচাতে করছে না। সেটা করতে যেয়ে তাদেরকে চতুরতা করতে হচ্ছে, মিথ্যে কথা বলতে হচ্ছে এবং কথার মারপ্যাঁচ খাটাতে হচ্ছে। অর্থাৎ ধার্মিকরা তাদের ধর্মকে বাঁচাতে জঘন্যতম কাজও করে চলেছে।
ফলে বুদ্ধিমান এবং জ্ঞানী মানুষকে প্রতারিত করতে না পারলেও তারা স্বাধারণ মানুষকে ঠিকই প্রতারিত করতে সক্ষম হচ্ছে।

যেহেতু বোকারা এবং অজ্ঞরাই ধর্ম বেশী পালন করে, তাই বেশীর ভাগ মানুষই ধর্ম ব্যবসায়ীদের মিথ্যে ও প্রতারণাপূর্ন কথায় প্রতারিত হয়।
কিন্তু তারপরেও কিছু কিছু জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মানুষ ঠিকই ধর্ম ব্যবসায়ীদের এসব প্রতারণা ধরতে পারছে এবং মিথ্যে ধর্ম ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে। তারা ঠিকই ধর্ম ব্যবসায়ীদের গোজামীল ধরতে পারছে, আর মিথ্যে ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসছে।
তাই ধর্মগুলো সেই পুরোনো সংকটেই পড়ছে। যে সংকট থেকে বাঁচতে ধার্মিকরা ধর্মগ্রন্থগুলোকে নানা কায়দায় ছল চাতুরী করে, অর্থ পরিবর্তন করে এবং বাক্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা এনে ধর্মগ্রন্থগুলোকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছে তথাপি সেই পুরোনো অস্তিত্ব সংকটেই আবার পতিত হচ্ছে সব ধর্মগুলোই। মাঝে থেকে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী লাভবান হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু ধীরে হলেও ধর্মের অস্তিত্বের সংকট কাটেনি। বরং মানুষ বেশি বেশি শিক্ষিত হচ্ছে। বেশি বেশি বিজ্ঞান চর্চা করছে। জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান হচ্ছে। ফলে ধর্মের মিথ্যেবাদিতা এবং ছল-চাতুরী ধরতে পারছে। আর সংখ্যায় কম হলেও মানুষ মিথ্যা এবং কুসংস্কারের ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসছে।

সর্বপরি মিথ্যে ধর্মগুলোর অস্তিত্বের সংকট থেকেই যাচ্ছে। ধর্মগুলো খুব অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

– সংগৃহীত

Categories
একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা

ভালো খারাপ সবই আল্লাহর ইচ্ছা

আরব্য পৌরাণিক গ্রন্থ আল-কোরআনের প্রধান দুইটি চরিত্র হল আল্লাহ এবং শয়তান। এই গ্রন্থে আল্লাহ হলেন একটি জগতের সৃষ্টিকর্তা, যা তিনি ৬/৮ দিনে সৃষ্টি করেছিলেন (কোরআন ১১:৭); পুরো গ্রন্থের প্রায় প্রতিটি বাক্যেই এই আল্লাহকে একজন মহাশক্তিধর, মহাজ্ঞানী এবং পরম দয়ালু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে শয়তান ছিল তারই সৃষ্ট একটা জাতি জ্বীনদের প্রধান। জ্বীন থেকে শয়তান হয়ে যাবার পেছনে অবশ্য একটা গল্প আছে। গল্পানুসারে কারণটি হল – আল্লাহ যে জগৎ বানিয়েছিলেন, সেখানে মানুষ সদৃশ্য মাটির তৈরি একটা প্রাণী বানাতে যাচ্ছিলেন (কোরআন ২:৩০); এই প্রাণীটির নাম দেয়া হয়েছিল আদম। আল্লাহ আদমকে যখন বানানো শেষ করেছিলেন, তখন তিনি ফেরেশতাকূল (আরেকটি জাতি) এবং ঐ জ্বীনটিকে সেজদাহ করতে বলেছিলেন।
সকল ফেরেশতা আদমকে সেজদাহ করলেও জ্বীনটি নিজেকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করে (কোরআন ৭:১২) অহংকারবশত তাকে সেজদাহ করতে অস্বীকৃতি জানায় (কোরআন ২:৩৪); সেজদাহ না করায় আল্লাহ তার প্রতি অনেক ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে ধিক্কার দিতে থাকেন। অতঃপর তাকে অভিশপ্ত ঘোষণা করেন (কোরআন ১৫:৩৪) এই ঘটনার পর আল্লাহ আদমকে জান্নাত নামক একটি জায়গায় প্রেরণ করেন। তার একাকীত্ব কাটানোর জন্য তিনি হাওয়া নামক আরেকটি স্ত্রী লিঙ্গের প্রাণীও তার সাথে দিয়ে দেন (কোরআন ২:৩৫); কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী – পৃথিবীতে পাঠানো হবে (কোরআন ২:৩০) বলে তাকে সৃষ্টির প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেও ঠিক কী কারণে আদমকে জান্নাতে পাঠানো হয়েছিল, তা আমার বোধগম্য নয়।

যাই হোক, জ্বীনটি সেখানেও আদমকে তাড়া করেছিল। জান্নাতে পাঠানোর সময় আল্লাহ আদমকে একটি বৃক্ষের নিকটে যেতে নিষেধ করেছিলেন (কোরআন ২:৩৫); কিন্তু শয়তান নানা প্ররোচনায় আদম এবং হাওয়াকে সেখানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং প্রলোভনা দেখিয়ে সেই বৃক্ষের ফল খাইয়ে নেয় (কোরআন ৭:২২)। এই ঘটনায় আল্লাহ ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি তাদের ক্ষমা করেন ঠিকই, কিন্তু শয়তানসহ তাদেরকে পৃথিবীতে নেমে যেতে আদেশ দেন (কোরআন ২:৩৬) এবং সেই সাথে আদমকে শয়তান সম্পর্কে সচেতন করেন যে, সে এবং তার সন্তানাদি যেন তার কথামত না চলে (কোরআন ৬:১৪২)… তিনি শয়তানকে আদম এবং আদম সন্তানের প্রকাশ্য শত্রু বলেই আদমকে সাবধান করে দিয়েছিলেন (কোরআন ২:১৬৮)।

এতে করে আল্লাহ এবং শয়তানের মধ্যে একটি ওপেন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়, যা একপ্রকার যুদ্ধেই রূপ নেয়। শয়তান অনেকটা দৃঢ় চিত্ত নিয়েই দাবি করে যে, কেয়ামতের আগ পর্যন্ত সে আদম এবং তার সন্তানদের আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করে রাখবে (কোরআন ৭:১৭; কোরআন ১৫:৩৯); অপরদিকে আল্লাহও উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যে, শয়তান অন্য কাউকে পারলেও তার একনিষ্ঠ বান্দাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না (কোরআন ১৫:৪২)।

সমস্ত কোরআন জুড়েই শয়তানকে সেই যুদ্ধে জয়ী হতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ধবংস করে দেয়া। কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন গল্প থেকে দেখা যায় যে, আল্লাহকে ছেড়ে প্রায় প্রতিটি নবীর সম্প্রদায়ই শয়তানকে বা বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজায় মগ্ন হয়ে ওঠে। এ কারণে আল্লাহ তাদের ধবংস করে নতুন সম্প্রদায় সৃষ্টি করতে একপ্রকার বাধ্যই হয়ে যান।

কিন্তু এখানে হাস্যকর বিষয় হল, শয়তান আদমসন্তানদের তার প্রতিজ্ঞানুযায়ী বিভ্রান্ত করতে সক্ষম তো হয়েছিল ঠিকই (উদাহরণ কোরআন ৩৬:৬২ ); স্বয়ং আল্লাও এই বিভ্রান্তিরর কাজটি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন!

নিচের আয়াতগুলো পড়ুন:

যাকে ইচ্ছা আল্লা বিপথগামী করেন। (কোরআন ৬:৩৯)

আল্লাহ যাদেরকে পথনির্দেশ করেন তারাই তো পথপ্রাপ্ত এবং যাদের “পথভ্রষ্ট” করেন তাদের তাকে ব্যতিত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে পাইবে না। (কোরআন ১৭:৯৮)

সুতরাং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন কে তাকে সৎপথে পরিচালিত করবে? (কোরআন ৩০:২৯)

আল্লাহ যাদের পথভ্রষ্ট করেন তাদের জন্য কোন পথপ্রদর্শক নাই। (কোরআন ৪০:৩৩; কোরআন ৪২:৪৪)

এইভাবে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী এবং সংশয়বাদীদেরকে। (কোরআন ৪০:৩৪)

এইভাবে আল্লাহ কাফিরদের বিভ্রান্ত করেন। (কোরআন ৪০:৭৪)

আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন গতি নাই। (কোরআন ৪২:৪৬)

আরেকটা মজার বিষয় হল, শুধু নিজেই নন, তিনি মাঝে মধ্যে নিজ থেকে শয়তান নিযুক্ত করে দেন আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করার জন্য:

যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় তার জন্য নিযুক্ত করি এক শয়তান। (কোরআন ৪৩:৩৬)

ওপরের আয়াতটির সাথে পাঠকদের সামনে আরো কয়েকটি আয়াত তুলে ধরতে চাই। যেমন:

মানুষের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করিবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই। (কোরআন ৭:১৮; কোরআন ৩২:১৩)

বিষয়টা কেমন জানি হয়ে গেল না! আল্লা নিজেই আদমসন্তানের জন্য শয়তান নিযুক্ত করে দিচ্ছেন, যাতে তাদের বিভ্রান্ত করা যায় এবং অন্যদিকে তাদের জাহান্নামে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন!

এবার এই আয়াতটি পড়ুন:

আমি তো বহু জ্বীন এবং মানবকে জাহান্নামের জন্যই সৃষ্টি করেছি। (কোরআন ৭:১৭৯)

এই আয়াতে আল্লাহ দম্ভ করেই বলছেন, তিনি কিছু মানুষকে (আদমসন্তান) সৃষ্টিই করেছেন জাহান্নামে পাঠানোর জন্য! এর মানে কি এমন দাঁড়াল না যে, আদমসন্তানের মাঝে যারা জাহান্নামে, যাবে তারা নিজের কোনো দোষে যাবে না? আল্লাহই তাদের বিনা কারণে জাহান্নামে প্রেরণ করবেন! এটা কি স্বেচ্ছাচারিতা হয়ে গেল না?

এবার এই আয়াতটি খেয়াল করুন:

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন, যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। (কোরআন ৩৫:৮)

এটা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আল্লার সৃষ্ট আদমসন্তানেরা নিজ থেকে কিছুই করে না। সবই আল্লার ইচ্ছার ওপর! তারা পথ পেলেও আল্লার ইচ্ছায় পায় এবং পথভ্রষ্ট হলেও সেটা আল্লার ইচ্ছাতেই হয়।

যারা ধৈর্য ধরে এতক্ষণ পড়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবার কিছু প্রশ্ন সামনে তুলে ধরতে চাই:
১. নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আল্লাহ একটা হিপোক্রিট চরিত্র হয়ে গেল না?
২. আদমসন্তানদের জাহান্নামে যাবার পেছনে দায়ী কে?
৩. আল্লাহ এবং শয়তানের মধ্যে তাহলে পার্থক্যটা কোথায় থাকল?

সর্বশেষ প্রশ্নটি কোরআন থেকেই করছি: “কিসে তোমাকে তোমার প্রতিপালক হইতে বিভ্রান্ত করিল?” (কোরআন ৮২:৬)।

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি

My life in sex: ‘We date people together, invite them back to our bed together’

My partner and I had been together for eight years when we changed the nature of our relationship. She and I had tried an open relationship before; it led to recriminations, arguments and eventually a break-up. But this time was different: we dated people together, inviting them back to our bed. Being rejected, flirted with, turned on, let down, tied up: we were experiencing every wonderful-awful aspect of dating together.

I’ve always struggled with the idea of monogamy. And we were both sluts; now we had found a way to be ethical ones. The experiment has been aided by the discovery that we are both bisexual. Neither of us had slept with a person of the same sex before, despite being curious.

The reactions of our friends have ranged from predictions of a second break-up to a lascivious interest in the mechanics of threesomes. A disturbing assumption is that I must be strong-arming my partner into the arrangement: female desire could surely not accommodate such a set-up. This is patently false, we find ourselves explaining. And yes, we still enjoy sex with each other.

We joke that we are a bisexual power couple, but there is always a worry in the back of my mind. Surely I can’t be so lucky as to have the love of a wonderful relationship, with the sexual excitement of a rampantly single twentysomething? There will be challenges ahead, especially when we begin to think about having children. But I believe our mutual trust – and passion – will ensure that however we navigate them, we will do so in the most fun way possible.

Article Source

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ

একটু ভেবে দেখবেন কি?

আপনাদের কাছে ভিন্নতা মানেই নিকৃষ্ট, অসামাজিক, বেলেল্লাপনা, অপ্রাকৃতিক, অপরাধ, পাপ আরও কত কি। অর্থ্যাৎ আপনার বিশ্বাস,আচার-আচারণ, চলা-ফেরা,পোশাক,খাদ্যাভ্যাস কিংবা লাইফ স্টাইল অন্য কোন ব্যক্তির সাথে মিল না হলে তবে তাকে এই ট্যাগগুলো না দিয়ে আপনারা কখনও শান্তি পান না। আপনাদের সব চেয়ে বড় মূর্খতা হচ্ছে এটাই যে আপনারা মনে করেন আপনাদের বিশ্বাস এবং পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে অপরকে চলতে হবে। কিন্তু অপর একজন ব্যক্তি কেন আপনার বিশ্বাস এবং পছন্দ অপছন্দ ভিত্তিতে চলাফেরা করতে যাবে? একজন ব্যক্তি যদি তার মতো চলাফেরা করে সুখী হয় এবং তাতে আপনাদের কোন ক্ষতি না হয় তাহলে সেই ব্যক্তির জীবনে হস্তক্ষেপ করার যৌক্তিকতা ঠিক কতটুকু? একবার ভেবে দেখুন তো।

সেই ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে বাধ্য না করে নিজের চিন্তাধারাগুলোরও তো পরিবর্তন করতে পারেন। ঠিক আপনাদের মতো কিছু সংকীর্ণ চিন্তাধারার ব্যক্তিদের ঘৃণা ও হিংস্রতার নির্মম শিকার হচ্ছে যৌন সংখ্যালঘুরা। শুধু যৌন সংখ্যালঘুরাই নয় বরং তাদের পক্ষে কেউ যদি টু শব্দটিও করে তবে আপনাদের মতো সংকীর্ণ চিন্তাধারার মোল্লা,পুরোহিত, ঠাকুররা আদা-জল খেয়ে নিখৃষ্ট ভাষায় গালাগালি করতে লেগে পড়েন। আপনাদের মতো অসভ্যদের কাছ থেকে ভালব্যবহার আশা করা আর নিম গাছ থেকে মিষ্টি আম প্রত্যাশা করা একই কথা। কিন্তু আপনারও তো বিশ্বাসের ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে একটু সুস্থ্য চিন্তাধারায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন। নিকৃষ্ট ভাষায় গালি, হত্যার হুমকি এবং নির্যাতন করে কাল্পনিক নেকি বা পূণ্য অর্জন করার আগে একবার ভেবে দেখেছেন কি? যে আপনার প্রিয় সন্তান,ভাই, বোন,কাছের বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজন এমনকি আপনার জন্মদাতা বাবা মা ও এই যৌন সংখ্যালঘু মানুষগুলোর কাতারে পড়তে পারে? কখনও কি জানতে চেয়েছেন কিংবা বোঝার চেষ্টা করেছেন তাদের অনুভূতিগুলো, কখনও কি তাদের সুখ-দুঃখের কথাগুলো শোনার মত সময় আপনাদের হয়েছিল? তা হবে কেন? বরং সর্ব নিকৃষ্ট ভাষায় গালি দিয়ে, নির্যাতন করে পূণ্য লাভের নেশা আপনাদেরকে ধার্মীক করে তুলেছে ঠিকই কিন্তু মানুষ হতে দেয় নি। ধার্মীক হওয়ার জন্য কত রকমের কসরত করেন আপনারা কিন্তু তার সিকি ভাগও কি সভ্য মানুষ হওয়ার জন্য করেছেন?

যদি মানুষ হতেন তবে আপনাদের মাথায় এরকম নিকৃষ্ট ভাষায় গালির কথা, অপরের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার চিন্তা ঘুরঘুর করত না। আপনাদের ভাষা শুনলে মনে হয় যেন সারা জীবন গালি জিহাদের উপরে PHD করেছেন। তবে আপনাদের অসভ্যতার জবাব আমরা অসভ্যতা দিয়ে দিতে চাই না। তাই হয়ত গালি দিয়ে, হুমকি দিয়ে আপনার এই ভেবে স্বস্তি পান যে ওরা হেরে গেছে। কিন্তু আপনাদের কুচরিত্র বাইরে প্রকাশ করার মাধ্যমে নিজেদের চরিত্রের দূর্বলতা তুলে ধরেন এবং প্রকৃতপক্ষে আপনারই হেরে যান। কিন্তু সেটা বোঝার মতো জ্ঞানটুকুও আপনাদের মাথায় অবশিষ্ট নেই। কারণ ছোটবেলাতেই গ্রামের অশিক্ষিত মোল্লা পুরোহিতরা মগজ ধোলাই করে বিশ্বাসের ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়ে সেই জ্ঞানটুকুও নষ্ট করে দিয়েছে।

কিছু ব্যক্তির মস্তিস্ক প্রসূত পরস্পর বিরোধী ( এক আয়াত/মার্ক/শ্লোক এর সাথে অন্য আয়াত/ মার্ক/ শ্লোক এর বিরোধী) সেকেলে মার্কা অমানবিক গ্রন্থ আপনাদের মাথায় ” সমকামীরা অভিশপ্ত, পাপী, জাহান্নামী, নরকবাসী, হত্যাযোগ্য অপরাধী ” এ রকম নানা কুসংস্কার ও অমানবিক ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে আর এ সমস্ত ধারণাকেই মহাজ্ঞান ভেবে নানা রকম কুযুক্তির অবতরণ করেন আপনারা। অথচ যদি সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করতেন তবে আপনারাও তাদের জন্যও সুন্দর একটি নির্ভয়ে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার চিন্তা করতেন।

আপনারা কল্পিত ঈশ্বর আল্লাহর নানা রকম সেবা করার পরেও পান থেকে চুন খসলেই জাহান্নাম বা নরকে বিশ্রীরকম শাস্তির ভয় দেখায় অথচ যাদেরকে বিনা কারণে শত শত বছর ধরে পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রিয়ভাবে নির্যাতন করে আসছেন তারা কিন্তু আপনার দেশ, সমাজ ও পরিবারের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই একটু মানবিক হতে শিখুন। তাদের অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে আরেকবার সব কিছু ভেবে দেখুন।

তাসনুভা ফেরদৌসী