Categories
LGBT NEWS NEWS অন্যান্য একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

যুগে যুগে যৌন সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মীয় নির্যাতনের ইতিহাস

ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল মানব মনের অজানা ভয় থেকে। মানব জাতীর উদ্ভবের পর অজানা অচেনা এই প্রকৃতির নানা বিপর্যয় মানব মনে একটা অলৈকিক ভয় সৃষ্টি করে। তাই এই সব বিপর্যয় ও প্রকৃতির নানা জিনিসের শক্তি দেখে তা থেকে বাঁচার জন্য এবং প্রকৃতিকে শান্ত রাখার চেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন বস্তুর আরাধনা শুরু হয়। কখনও সূর্যের, চন্দ্রের, নদীর, বড় গাছপালার, বাতাসের, পাহাড়ের, বড় পশু-পাখিসহ না জিনিসের পূজো আর্চনা করত এই ভেবে যে এগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যা আজও কিছুটা হলেও মানব সমাজে দেখা যায়।

আজকে বৃহৎ পরিসরে ধর্মকে দেখা গেলেও সেই প্রাচীন সময়ে ধর্ম বা বিশ্বাসগুলো ছোট ছোট গোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আস্তে আস্তে যখন মানুষ সঙ্গবদ্ধ হতে শুরু করল তখন ধর্মের প্রসারও একটু বাড়তে থাকলে। আজকের ধর্ম আর সেই সময়ের ধর্মের মধ্যে ছিল বিশাল ফারাক। তখন ধর্ম সামান্য কিছু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু একসময় কিছু চতুর ধূর্ত ব্যক্তি সমাজের নিয়ন্ত্রণ নিজের দখলে নেয়ার জন্য নানা গল্প,রুপকথা আর ভয়ভীতি সমাহার করে ধর্মের ক্ষেত্র বাড়াতে থাকে। পুরুষদের হাতে রচিত এসব ধর্ম নারীদের শুধু মাত্র ভোগ্য বস্তুতে পরিণত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখে। এক সময় নারীর পাশাপাশী তথাকথিত পুরুষালী আচারণের বাইরে কেউ গেলেই তাকে পুরুষ জাতীর জন্য অমর্যাদাকর বিবেচনা করে হত্যার নানা ফন্দি ফিকির করা হয় ধর্মের মাধ্যমেই।

প্রাচীন ইহুদী ধর্মের আগে যৌন সংখ্যালঘুদের এসব শাস্তির বিধান ছিল না বরং গ্রহণযোগ্যতাই ছিল বেশি। ইহুদী ধর্মের আদিপুস্তকের ১৯ নং অনুচ্ছেদেরর বর্ণনাগুলো দেখলে ধর্মের পুরুষালীতার কিছুটা ধারণা মিলবে। আদিপুস্তুকের ১৯ঃ৮ নম্বার আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় লূত তার দুই মেয়েকে সবার হাতে তুলে দিয়ে বলতেছে ‘এদের সাথে যা ইচ্ছা কর’। একজন নবীর মুখে এরকম কথা কতটা বেমানান সেটা সুস্থ্য মস্তিস্কের যে কেউ বুঝবে।

ইহুদী ধর্মের আগে প্যাগান ধর্মে সমকামীদের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা ছিল। প্রথম ইহুদী ধর্মই লুতের কাল্পনিক কাহিনীর অবতরণ ঘটিয়ে সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষের সূত্রপাত ঘাটায়। আজকের এই সময়েও যারা ডেড সি এবং লূতের সেই কাহিনীর দোহায় দিয়ে সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায় তাদের ধারণা যে একবারে ভ্রান্ত তা প্রমাণ করতে বেশিক্ষণ লাগবে না।

ডেড সি তৈরী হওয়ার সময়কাল ও প্রকৃত কারণ এবং তথাকথিত লূতের সময়কালটা লক্ষ্য করলেই সব গোজামিল পরিষ্কার ধরা পড়বে। ইহুদী ধর্মের প্রথম দিকেও সমকামীদের হত্যা করা হত না বরং বিশ্বাস করা হত ঈশ্বর নিজে সমকামীদের শাস্তি দিবেন। কিন্তু কোন ঈশ্বরই তো পৃথিবীতে এসে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না হয়ত এটা বুঝতে পেরেই প্রভাবশালী ইহুদী ধর্মগুরু লিভাই সমকামীদের হত্যার বিধান দেন।

রাব্বাই আসহা নামে আরেক ধর্মগুরু ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে সমকামীদের দায়ী করেন। আজকের যুগে এই সব বক্তব্য চরম হাস্যকর। তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়া ইহুদী জাতীকে বেশি দিন এসব অন্ধবিশ্বাসে আবদ্ধ রাখতে পারেনি ধর্মগুরুরা। তাই ইহুদী সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্র ঈস্রাইলে সমকামীরা স্বাধীন জীবন যাপন করছে। তবে ইহুদী ধর্মগুরুদের সেই সব বিধান খৃষ্টানদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিল। যার ফল স্বরুপ ৩১২ সালে সম্রাট কন্সটান্টিন সম্রাট ম্যাক্সেন্টিয়াসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে খৃষ্টান ধর্মকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার পর তারই পুত্র কন্সটান্স ৩৪২ সালে প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে সমলিঙ্গের বিবাহ নিষিদ্ধ করেন। ৩৯০ সালে খৃষ্টান সম্রাট ভেলেন্টিনিয়ান ২, থিওডোসিয়াস ১ সমকামীদের অপরাধী ঘোষনা করে পুড়িয়ে মারার বিধান দেন। খৃষ্টান ধর্মগ্রন্থও এসব অমানবিক বিধান তৈরী করতে উস্কানি দেয়।

বাইবেলে বলা হয় ঈশ্বরকে অস্বীকার করার কারণে মানুষকে সমকামী বানিয়ে শাস্তি দেয়া হয়। অথচ হিসেব করলে দেখা যাবে ঈশ্বরে বিশ্বাসে সমকামীর সংখ্যা কম নয়। বাইবেলের কিছু সমকামী বিদ্বেষী বক্তব্য হচ্ছেঃ সমকামিতা এক রকমের পাপ (আদি পুস্তক ১৯:১-১৩; লেবীয় ১৮:২২; রোমীয় ১:২৬-২৭; ১ করিন্থীয় ৬:৯), যারা সমকামিতায় “দোষী”, তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার পাবে না (১ করিন্থীয় ৬:৯)। তবে বাইবেল সমকামী একেবারে হত্যা করতে হবে এমনটা বলে না। বাইবেল বলে “যারা যীশুকে উদ্ধারকর্তা বলে বিশ্বাসে গ্রহণ করেছে, তাদের সকলকেই সমকামিতা সহ সকল পাপের উপরে বিজয়ী হবার শক্তি দিতে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন (১ করিন্থীয় ৬:১১; ২ করিন্থীয় ৫:১৭; ফিলিপীয় ৪:১৩)।

কিন্তু খৃষ্টান ধর্মগুরুরা বাইবেলের এই বিধানে থেমে থাকে নি বরং নিজেরা সমকামীদের জন্য অমানবিক বিধান তৈরী করেছে। খৃষ্টান সম্রাট জাস্টিনিয়ান ইহুদী ধর্মগুরু রাব্বাই আসহার মতোই সমকামীদের ভূমিকম্প, দূর্ভিক্ষ ও মহামারীর জন্য দায়ী করেন। ইতালিতে ১৩৩২ সাল থেকে ১৫০২ সাল পর্যন্ত সতের হাজার মানুষকে সমকামিতার অজুহাত দিয়ে হয়রানি করা হয়। ১৭৪২ সালেই একজনকে সমকামিতার কারণে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তী ছয় বছরে আরও তেরটি মামলা পারিচালিত হয়। ১৩৫৪ সালে রোলান্দিনো নামের একটি ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মরা হয়। ১৩৬৫ গিওভান্নি দা গিওভান্নি নামের আরেক ব্যক্তিকে গাধার পিঠে চড়িয়ে শহরে ঘুরিয়ে, লিঙ্গচ্ছেদন করে, লোহিত তপ্ত শলাকা পায়ুপথে ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। ১৪৯৪ সালে ডোমিসিয়ান পাদ্রী গিরোলামো স্যাভোনারোলার রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ১৪৯৫ থেকে ১৪৯৭ সালের মধ্যে ৭৩১ জনকে সমকামিতার অভিযোগে প্রহসনমূলক বিচারে হয়রানি করা হয়। আরও হত্যা করা হয় জন এথেরন,মানবাতাবাদী ইতিহাসবিদ জ্যাকোপো বোনভাডিও, ওয়াল্টার হাঙ্গারফোর্ড, সুইডিস রুপান্তরকামী ওলসডটার,ফরাসি কম্পোজার ডমিনিট ফিনোটকে। ১৯৯৮ সালে ম্যাথু শেফার্ড নামে একজন মেধাবী সমকামী যুবক বন্ধুদের হাতে হত্যার শিকার হয় ও ২০০৩ সালে আমেরিকায় ছয়জন সমকামী নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়।

রাণি ভিক্টোরিয়া খৃষ্টান ধর্মদ্বারা প্রভাবিত হয়ে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোত দৈর্ঘ্য দিন ধরে ৩৭৭ ধারার মতো একটি কালো আইন রেখে গিয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে এসব মানবতাবিরোধী কাজের জন্য বর্তমান খৃষ্টান ধর্মগুরুরা এবং ব্রিটিশ রাজ পরিবার ক্ষমা চেয়ে নিজেদের পরিবর্তন করতে পেরেছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে সমকামীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন তুলে দিয়েছে। সব ধর্ম মিলে সমকামীদের প্রতি যা অমানবিক বিধান চালু করেছিল ইসলাম ধর্ম তার সবগুলোকে গ্রহণ করেছে এবং এখনও সেই অমানবিক বিধান চালুও রেখেছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ গুলোতে। সমকামীদের প্রতি ইসলামিক অমানবিক বিধানগুলো কোরআন হাদিস থেকে দেখে আসি।

কারোর ব্যাপারে সমকাম প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে ও তার সমকামী সঙ্গীকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা করতে হয়।

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ وَجَدْتُمُوْهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ فَاقْتُلُوْا الْفَاعِلَ وَالْـمَفْعُوْلَ بِهِ.

‘‘কাউকে সমকাম করতে দেখলে তোমরা উভয় সমকামীকেই হত্যা করবে’’। (আবূ দাউদ ৪৪৬২; তিরমিযী ১৪৫৬; ইব্নু মাজাহ্ ২৬০৯; বায়হাক্বী ১৬৭৯৬; হা’কিম ৮০৪৭, ৮০৪৯)

উক্ত হত্যার ব্যাপারে সাহাবাদের ঐকমত্য রয়েছে। তবে হত্যার ধরনের ব্যাপারে তাদের পরস্পরের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

اُرْجُمُوْا الْأَعْلَى وَالْأَسْفَلَ، اُرْجُمُوْهُمَا جَمِيْعًا.

’’উপর-নীচের উভয়কেই রজম করে হত্যা করো’’। (ইব্নু মাজাহ্ ২৬১০)

আবূ বকর, ‘আলী, ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ যুবাইর (রাঃ) এবং হিশাম বিন্ আব্দুল্ মালিক (রাহিমাহুল্লাহ্) সমকামীদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।

মুহাম্মাদ বিন্ মুন্কাদির (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

كَتَبَ خَالَدُ بْنُ الْوَلِيْدِ إِلَى أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ ـ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ـ أَنَّهُ وَجَدَ رَجُلًا فِيْ بَعْضِ ضَوَاحِيْ الْعَرَبِ يُنْكَحُ كَمَا تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ، فَجَمَعَ لِذَلِكَ أَبُوْ بَكْرٍ أَصْحَابَ رَسُوْلِ اللهِ ، وَفِيْهِمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ ، فَقَالَ عَلِيٌّ : إِنَّ هَذَا ذَنْبٌ لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أُمَّةٌ إِلاَّ أُمَّةً وَاحِدَةً، فَفَعَلَ اللهُ بِهِمْ مَا قَدْ عَلِمْتُمْ، أَرَى أَنْ تَحْرِقَهُ بِالنَّارِ، فَاجْتَمَعَ رَأْيُ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ  أَنْ يُّحْرَقَ بِالنَّارِ، فَأَمَرَ بِهِ أَبُوْ بَكْرٍ أَنْ يُّحْرَقَ بِالنَّارِ.

‘‘খালিদ্ বিন্ ওয়ালীদ্ (রাঃ) একদা আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এ মর্মে একটি চিঠি পাঠালেন যে, তিনি আরবের কোন এক মহল্লায় এমন এক ব্যক্তিকে পেয়েছেন যাকে দিয়ে যৌন উত্তেজনা নিবারণ করা হয় যেমনিভাবে নিবারণ করা হয় মহিলা দিয়ে। তখন আবূ বকর (রাঃ) সকল সাহাবাদেরকে একত্রিত করে এ ব্যাপারে তাঁদের পরামর্শ চেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ‘আলী (রাঃ) ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: এ এমন একটি গুনাহ্ যা বিশ্বে শুধুমাত্র একটি উম্মতই সংঘটন করেছে। আল্লাহ্ তা‘আলা ওদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন তা সম্পর্কে আপনারা অবশ্যই অবগত। অতএব আমার মত হচ্ছে, তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। উপস্থিত সকল সাহাবারাও উক্ত মতের সমর্থন করেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ফরমান জারি করেন’’।

(বায়হাক্বী/শু‘আবুল্ ঈমান, হাদীস ৫৩৮৯)

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

يُنْظَرُ أَعْلَى بِنَاءٍ فِيْ الْقَرْيَةِ، فَيُرْمَى اللُّوْطِيُّ مِنْهَا مُنَكَّسًا، ثُمَّ يُتْبَعُ بِالْحِجَارَةِ.

‘‘সমকামীকে মহল্লার সর্বোচ্চ প্রাসাদের ছাদ থেকে উপুড় করে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তার উপর পাথর মারা হবে’’।

(ইব্নু আবী শাইবাহ্, হাদীস ২৮৩২৮ বায়হাক্বী ৮/২৩২)

সমকামীর জন্য পরকালের শাস্তি হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না।

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى رَجُلًا أَوِ امْرَأَةً فِيْ الدُّبُرِ.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না যে সমকামে লিপ্ত হয় অথবা কোন মহিলার মলদ্বারে গমন করে’’। (ইব্নু আবী শায়বাহ্, হাদীস ১৬৮০৩; তিরমিযী ১১৬৫)

কতটা অমানবিক ও নোংরা এসব বিধান। অথচ বহু বিবাহ, বাল্য বিবাহ, যৌন দাসি রাখা জায়েজ কিন্তু নিরপরাধী সমকামীদের জন্য রাখা হল এমন অমানবিক বিধান। ১৯৫ টি দেশের মধ্যে যে ৭০ টি রাষ্ট্রে সমকামিতা অপরাধ তার বেশির ভাগ রাষ্ট্রই মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ট দেশ। ৭ টি মুসলিম দেশে সমকামিতা করলে মৃত্যুদণ্ডের ন্যায় বিধান রাখা হয়েছে। দেশগুলো হলো: সৌদি আরব, ইরান,মৌরিতানিয়া, উত্তর নাইজেরিয়া , সুদান এবং ইয়েমেন। ১৯৭৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইরানে চার হাজার ব্যক্তিকে সমকামিতার জন্য হত্যা করা হয়। ২০০৫ সালে ইরানে দুইজন সমকামী যুবকে হত্যা করে ট্রাকে করে পুরো শহর ঘোরানো হয়। ১৯৯৮ সালে আফগানিস্থানের কান্দাহারে তিনজন সমকামীকে জীবন্ত মাটি চাপা দেয়া হয়। ইরাকে ২০০৯ সালে সাত মাসে গুপ্ত হত্যার শিকার হয়। বাংলাদেশে দুজন সমকামীকে হত্যা করা হয়। কয়েক দিন আগে ইন্দোনেশিয়ায় দুজন লেসবিয়ানকে প্রকাশ্য বেত্রাঘাত করা হয়। সৌদি আরবে মানুষের পাশাপাশি সমকামিতার কারণে একটি ঘোড়াকেও হত্যা করে। হিন্দু ধর্মে সমকামীদের হত্যার বিধান না থাকলেও মনুসংহিতায় বয়স্ক নারী সমকামীর শাস্তি গাধার পিঠে ঘোরান এবং দুটি আঙ্গুল কেটে দেয়া, কুমারী সমকামীর শাস্তি দুইশো মুদ্রা জরিমানা ও দশটি বেত্রাঘাত। পুরুষ সমকামীর শাস্তি হচ্ছে জাতীচ্যুত এবং কাপড়সহ জলে ডুব দেয়া।

সম্প্রতিক সময়ে ভারতে ধর্মগুরুদের বিরোধীতা সত্বেও আদালত কর্তৃক সমকামীদের বৈধতা দান প্রশংসার যোগ্য। পরিশেষে বলব, যে সমস্ত ধর্ম আজকের বিজ্ঞানের যুগেও কল্পকাহিনীর উপর ভিত্তি করে বিনা কারণে সমকামী বিদ্বেষ ছাড়াচ্ছে সেই সব ধর্মকে বয়কট করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা উচিৎ।

 

তাসনুভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা

Dead sea, a horrible myth

‘ডেড সি! এক ভয়ঙ্কর মিথ’

ডেড সি ( মৃত্য সাগর বা লূত সাগর) ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্মে একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। ডেড সি বা লূত সাগর নিয়ে ধর্ম গ্রন্থগুলোতে রয়েছে নানা কল্প কাহিনী। বিভিন্ন নদী, বিভিন্ন স্থান ও নানা জিনিস নিয়ে এরকম কল্পকাহিনী প্রচলিত থাকে। এগুলোকে আমরা মিথ বলি। অনেকেই তাদের আশে-পাশের নানা জিনিস নিয়ে এরকম প্রচলিত মিথ শুনে থাকতে পারেন। কেউ হয়ত এসব মিথ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আবার কেউ যুক্তি প্রমাণ না থাকায় এসব বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ওসব ছোট ছোট মিথে বিশ্বাস অবিশ্বাস হয়ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু ডেড সি বা লূত সাগর এমন একটি মিথ যা যুগের পর যুগ ধরে সমাজে গভীব প্রভাব ফেলতে পেরেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত প্রায় সবাই ডেড সি বলতে এক ভয়ঙ্কর ভূতুরে স্থান হিসেবে কল্পনা করতেই ভালবাসে।

বিশেষ করে সমকামিতার প্রসঙ্গ উঠলে এই লূত সাগরের প্রসঙ্গ যে উঠবে না এমনটা আজ-কাল চিন্তা করাও যায় না। ইন্টারনেটে সমকামী বিদ্বেষীদের তৈরী করা লূত সাগরের ডিজাইন দেখলে গাঁ ছমছম করে ওঠে। তাদের ধারণা এই ডেড সি সমকামীদের প্রতি ঈশ্বরের পাঠানো গযব থেকে তৈরী হয়েছে। ধর্ম গ্রন্থগুলোর দাবি করে ফেরেশতা কর্তৃক উক্ত স্থান উল্টে দেয়া, অগ্নি বৃষ্টি হওয়া, আঁকাশ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ হওয়ার ফলে এই সাগরের তৈরী হয়েছে। ঈশ্বর বা আল্লাহর অভিশাপের কারণেই নাকি এই সাগরে কোন জীব বাঁচেনা। কিন্তু আসলেই কি এটি ঐশ্বরিক গযবে সৃষ্ট কোন স্থান? ডেড সি কি আসলেই অমঙ্গলজনক ভয়ঙ্কর কোন ভূতুরে স্থান? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজকের এই বিজ্ঞানের যুগে খুঁজে বের করা তেমন কঠিন কিছু নয়। ডেড সি সৃষ্টি হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং এসব উদ্ভট মিথগুলোর দাবিগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে ধর্মগ্রন্থগুলোর ওসব কল্পকাহিনী ধোপে টিকবে না।

আব্রাহামিক ধর্মগুলো থেকে জানা যায় লূত ছিল ইব্রাহিমের ভাতিজা। এই লূতের সময়েই নাকি সমকামীদের প্রতি গযব স্বরুপ ডেড সি তৈরী হয়। কিছু ইসলামিক ও ঈস্রাইলী বর্ণনা এবং উইকিপিডিয়ার তথ্য থেকে জানা যায় ইব্রাহিমের জন্ম ১৮০০ থেকে ২০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। মুহাম্মাদ সালামাহ জাবর কর্তৃক লিখিত তারীখুল আম্বিয়া গ্রন্থ থেকে জানা যায় ঈসা এর জন্মের দু’হাজার বছর আগে ছিল ইউসুফ এর সময়কাল আর ইউসুফ হচ্ছে ইব্রাহিমের তৃতীয় অধ্বতন পুরুষ অর্থ্যাৎ ইব্রাহিমের পুত্র ইসহাক,তার পুত্র ইয়াকুব,তার পুত্র ইউসুফ। আর ইউসুফের প্রপিতা ইসহাকের চাচাত ভাই হচ্ছে লুত। সেই হিসেবে একেকজনের গড় বয়স ১৫০ বছর করে ধরলেও ৪৫০ বছর হয়। তাহলে এই তথ্য মতেও ঈসার সময় থেকে লূত এর সময় হচ্ছে (২০০০+৪৫০) = ২৪৫০ বছর পূর্বে। অর্থ্যাৎ আজ থেকে প্রায় ৪৪৬৯ বছর পূর্বে ডেড সি তৈরী হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস ও বিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলে। ইনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও উইকিপিডিয় থেকে ডেড সি সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরি।

“প্রায় তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে বর্তমান জর্দান নদী , মৃত সাগর এবং ওয়াদি আরাবাহ অঞ্চল লোহিত সাগরের পানিতে বারবার প্লাবিত হত। এর ফলে একটি সরু উপসাগরের সৃষ্টি হয়। উপসাগরটি জেজরিল উপত্যকায় একটি সরু সংযোগের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত ছিল । প্রাকৃতিক তত্ত্ব অনুযায়ী প্রায় ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে উপত্যকা এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী স্থলভাগ যথেষ্ট উচ্চতা লাভ করে। ফলে মহাসাগরের প্লাবনে এই অঞ্চলে সৃষ্ট উপসাগরটি পরিবেষ্টিত হয়ে হ্রদে পরিণত হয়।

৭০,০০০ বছর পূর্ব থেকে ১২,০০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত ডেড সি’র পানির উচ্চতা বর্তমান উচ্চতার চাইতে ১০০ থেকে ২৫০ মিটার বেশি ছিল। ২৬,০০০ বছর পূর্বে এটির পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে। প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে এর পৃষ্ঠ উচ্চতা নাটকীয় ভাবে হ্রাস পেতে শুরু করে, যা সম্ভবত বর্তমান পৃষ্ঠ উচ্চতার চাইতেও কম ছিল। গত কয়েক হাজার বছর ধরে এর পানির পৃষ্ঠ উচ্চতা মোটামুটি ৪০০ মিটারের আশেপাশে অবস্থান করছে।বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে , মহাসাগরের পানির তুলনায় ডেড সির পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর পার্থক্য আছে । মৃত সাগরের পানিতে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড , ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড , ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে । এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০% । ফলে পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার ।উচ্চ প্লবতার দরুন যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে । এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র-এর ইউটাহ তে অবস্থিত গ্রেট সল্ট লেক এর মতো “। কোথায় তিন মিলিয়ন বছর আর কোথায় মাত্র ৪৪৬৯ বছর। ডেড সি নিয়ে ধর্মের এই গোঁজামিল দেখেই বোঝা যায় ধর্ম গ্রন্থের লূতের কাহিনী সম্পর্ণ ভিত্তিহীন।

এবার দেখে নেই ডেড সি সত্যিই অমঙ্গলজনক ভয়ঙ্কর ভূতুরে কোন স্থান? না একেবারেই নয়। বরং মৃত সাগর অঞ্চলটি চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণাস্থল হয়ে উঠেছে । এর মূলে রয়েছে হ্রদের পানিতে খনিজ দ্রব্যাদির বিপুল উপস্থিতি, বাতাসে এলার্জি উৎপাদক দ্রব্য এবং পরাগরেণুর স্বল্পতা , উচ্চ ভূ-মণ্ডলীয় চাপ, সৌর বিকিরণে অতি বেগুনি উপাদানের কম উপস্থিতি । উচ্চ বায়ুমন্ডলীয় চাপ , শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। চর্মরোগ সোরিয়াসিস( psoriasis) এর জন্য দীর্ঘসময় সূর্যস্নান বেশ উপকারী । এ অঞ্চলে অতি বেগুনি রশ্মির স্বল্পতা সূর্যস্নানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে । এছাড়া রোগটি নিরাময়ে জন্য মৃত সাগরের লবণও বেশ উপকারী বলে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণায় দাবী করা হয়েছে।

এই স্থান এতটা উপকারী হওয়ার পরেও কেন পানিতে জীব নেই? এটাও জানা দরকার। হ্যা, মৃত সাগরে কোন প্রাণের অস্তিত্ব নেই বা কোন প্রাণী বাঁচে না। কথাটা আংশিক সত্য। অতিমাত্রায় লবণ থাকার কারণে মৃত সাগরে কোন মাছ বা অন্যান্য জীবজন্তু টিকতে পারে না। এমনকি মানুষরাও এই সাগরে ডুবসাঁতার দিতে গিয়ে পানি খেয়ে ফেললে শ্বাস আটকে মারা যেতে পারে। তবে গত তিন-চার বছরে গভীর তলদেশে ডাইভ করে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু ব্যাক্টেরিয়ার পুরু স্তর পেয়েছেন। এছাড়াও পাওয়া গেছে অণুজীবের কলোনি। এর কারণ মৃত সাগরের তলদেশে কিছু ছোট ছোট স্বাদুপানির “ফোয়ারা” বা জেটস্ট্রিম আছে। ব্যস, স্বাদুপানি যতখানি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে লবণক্ততা কম। জায়গাগুলো প্রায় ৩৩ ফুট চওড়া ও ৪৩ ফুট গভীর। এরকম বেশ কিছু স্পটে একই রকমের ব্যাকটেরিয়ার প্রাচুর্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সুতরাং এটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার যে মৃত সাগরের অতিমাত্রায় লবণই প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর, আর যেখানে লবণের পরিমাণ কম, সেখানে প্রাণ জন্মাতে সময় লাগে নি। এর সাথে কোনো অলৌকিক ব্যাপার-স্যাপার জড়িত না। পৃথিবীতে এ রকম হ্রদ আরও অনেক গুলো আছে। ডেড সি নিয়ে প্রচলিত মিথ তৈরী হয়েছিল সম্ভাবত বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট লেখার সময়কালে। আর বর্তমানে বাইবেলের তথ্যমতে ওল্ড টেস্টামেন্ট লেখা হয় ১৪৪৫ -১৪০৫ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। অর্থ্যাৎ ধর্মীয় হিসাব মতে লূতের সময় থেকে ৭০০ বছর পরে এসব মিথ তৈরী হয়েছিল।

প্রকৃত সত্য জানার পরেও শুধু মাত্র কিছু মিথের উপর ভিত্তি করে সমকামী সম্প্রদায়ের উপর আযাব-গযবের ট্যাগ লাগিয়ে দিবেন না বলে সচেতন পাঠকের কাছে আশা করছি।

তাসনুভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – প্রথম খন্ড

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থ্যাৎ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম উত্থানের সময় থেকেই সমকামীদের প্রতি খড়গহস্ত। যুগে যুগে সমকামীরা ধর্মের নিরিহ শিকারে পরিণত হয়ে উঠেছিল। ধর্ম কর্তৃক নানা নির্যাতন মুখে বুজে সহ্য করতে হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠিকে। কিন্তু গত শতাব্দি থেকে যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানবাধীকার নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হতে থাকে। বৈজ্ঞানীক গবেষণাগুলোর মাধ্যমে সমকামী জনগোষ্ঠির প্রতি প্রচলিত কুসংস্কার গুলো দূর হতে শুরু করেছে। যার ফলে সভ্য সমাজগুলো আজ সমকামী ব্যক্তিদের মাানবাধীকার রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে উঠেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইহুদী,খৃষ্টান এবং বর্তমানে হিন্দু ধর্ম কিছুটা নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে শুরু করলেও ইসলাম ধর্ম হিংস্রতার দিকে আরও এগিয়ে যাচ্ছে।

খৃষ্টান, ইহুদী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হলে বিপরীত দিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা দানে চরম বিরোধী হয়ে দাড়িয়েছে। সমকামীদের নিয়ে বিভিন্ন খবরে ও সচেতনমূলক পোষ্টে মুসলিমদের বিদ্বেষমূলক, হিংস্র ও অযৌক্তিক মন্তব্য লক্ষ্য করলে মুসলিমদের স্বরুপ জানা যায়। কিন্তু তারা কি সমকামীদের নিয়ে সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে?

একজন সমকামী কি কোন বিসমকামীকে জোর করে সমকামী বানাচ্ছে? বিসমকামী যৌনতায় বাধা দিচ্ছে? কাউকে কি ধর্ষণ করতেছে? প্রকাশ্যে জনসম্মুখে যৌন কার্য করতেছে? না, এসবের কিছুই করেনি। দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের সম্মতিতে যৌন কার্য করলে তাতে বাধা দেয়ার অধিকার ইসলাম ধর্মকে কে দিয়েছে? একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজের জীবন সঙ্গি হিসেবে কাকে বেছে নিবে সেটা ঠিক করে দেয়ার জন্য ধর্মকে কে অধিকার দিয়েছে? একজন ব্যক্তি নিজের বিছানায় অন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির সম্মতিতে যাই করুক তার জন্য তাকে পাথর ছুড়ে,আগুনে পুড়িয়ে, ফাঁসি দিয়ে মারার বিধান দেয়ার জন্য ধর্ম কে? একজন ব্যক্তি সমলিঙ্গের কাউকে ভালবাসলে, চুমু খেলে বা যৌন কার্য করলে অন্যদের তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?

হয়ত কেউ বলবেন সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হ্রাস পাবে। দুজন মানুষের ভালবাসা এবং প্রণয়কে যে সব ধর্ম ও সমাজ অনৈতিকতা হিসেবে চিহ্নত করে সেই সমস্থ্য ধর্ম ও সমাজের এই রকম সংকীর্ণ চিন্তাধারাকে আমরা ঘৃণা করি। যে ধর্ম নারী নির্যাতন,শিশুকামীতা,দাস প্রথা,দাসী সেক্স,বহুবিবাহ,লুটতারাজ, অন্য মতাদর্শের মানুষকে নির্বিচারে গণহত্যা, বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য কে সমর্থন জোগায় সেই ধর্ম সমকামীদের নিয়ে সমালোচনার নৈতিক যোগ্যতা রাখে না। আর ইসলাম এইসব মানবতাবিরোধী কাজকে পূণ্য মনে করে। ইসলাম আজকের সভ্যতায় সবচেয়ে নিখৃষ্ট মানবতাহীন একটি ধর্ম। এর কিছু উদাহরণ কোরআন হাদিস থেকে তুলে ধরছি। ইসলাম পৃথিবীতে এসেছিল যুদ্ধ করার জন্য এবং অন্য মতের মানুষদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ২৪

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যাস্ত।

অমুসলিমের সাথে বন্ধুত্ব না করার জন্য কোরআনে হুকুম দেয়া হয়েছে।لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸﴾

মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন।(৩/২৮)।

এবার কোরআন ভিন্ন মতে মানুষের কি ভাবে দেখে কোরআন থেকেই দেখুন:-مَنۡ کَانَ عَدُوًّا لِّلّٰہِ وَ مَلٰٓئِکَتِہٖ وَ رُسُلِہٖ وَ جِبۡرِیۡلَ وَ مِیۡکٰىلَ فَاِنَّ اللّٰہَ عَدُوٌّ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۹۸﴾

‘যে শত্রূ হবে আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রাসূলগণের, জিবরীলের ও মীকাঈলের তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের শত্রূ ’।(২/৯৮)

দ্বিতীয় খন্ডের জন্য চোখ রাখুন।

তাসনুভা ফেরদৌসী

 

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – দ্বিতীয় খন্ড

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ

গণহত্যাঃ

ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন। (বোখারী, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭৩)
এ রকম আরো অনেক হাদিস ও কুরআনের আয়াত আছে।

শিশুকামীতাঃ

১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন, দু’বার তোমাকে আমায় স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, তুমি একটি রেশমী কাপড়ে আবৃতা এবং আমাকে বলছে ইনি আপনার স্ত্রী, আমি তার ঘোমটা সরিয়ে দেখলাম, সে মহিলা তুমিই। তখন আমি ভাবছিলাম, যদি তা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন। (মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ নং ২৪৩৮, আহমাদ ২৪১৯৭)(বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৩)

২. হিশাম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার দিকে বের হওয়ার তিন বছর আগে খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা। তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উৎযাপন করেন। (বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৪)

৩. ‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। [ বোখারী ৬১৩০,মুসলিম৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪০, আহমাদ ২৬০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৭)

৪. আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। (বোখারী,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)

*তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোন হাদীসে ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর বিবাহ হওয়ার ছয় বছর আবার কোন হাদীসে সাত বছর বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যাকারদের মতে, ঐ সময় আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বয়স ছয় পার হয়ে সাত বছর চলছিল। ফলে কোন হাদীসে ছয় বছরের উপর অতিরিক্ত সময় বাদ দিয়ে ছয় বছর গণনা করা হয়েছে, আবার কোন হাদীসে অতিরিক্ত সময়কে পূর্ণ বছর ধরে সাত বছর গণনা করা হয়েছে।

বহুবিবাহ এবং দাসি সেক্স

মোহাম্মদের স্ত্রীর সংখ্যা ছিল তেরটি। কোন কোন মতে নয়টি। নবী তাঁর অষ্টম বিয়েটি সম্পন্ন করেন ৬২৯ খৃস্টাব্দে তাঁরই পালিত পুত্র জায়েদের স্ত্রীর সঙ্গে যাঁর নাম ছিলো জয়নব বিনতে জাহাস । কেউ কেউ বলেছেন এটা সপ্তম বিয়ে, ইহুদি নারী জুয়াইরিয়ার সঙ্গে বিয়েটা ছিলো অষ্টম বিয়ে । তবে জয়নব বিনতে জাহাসের সঙ্গে বিয়েটাই অষ্টম বিয়ে বলে অধিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় । মুহাম্মদ অনেকগুলি বিয়ে করেছিলেন যা নিয়ে আজো সারা দুনিয়ায় চর্চা হয় । এত গুলো বিয়ের পরেও রেখেছিল একদল যৌনদাসী। দাসি মারিয়া (পরবর্তীতে মরিয়ম) ছিল তার প্রিয় যৌন দাসী।

লুটতারাজ

ইসলামে সৈন্যদের গনিমতের লোভ দেখিয়ে লুটতারাজে নামানো হত। তার পর পুরুষদের হত্যা এবং নারী, শিশু এবং সম্পদ গনিমত হিসেবে বন্ঠন করা হতো।

. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বনী কুরায়যার ইয়াহূদীরা সা‘দ ইবনু মা‘আয (রাঃ)-এর ফায়সালা মুতাবিক দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘তোমাদের নেতার দিকে দন্ডায়মান হও।’ তিনি এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও এরা তোমার ফায়সালায় রাজী হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এই রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মত ফয়সালাই করেছ।’ (৩৮০৪, ৪১২১, ৬২৬২) (মুসলিম ৩২/২২ হাঃ ১৭৬৮, আহমাদ ১১১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৬)

এ রকম অনেক হাদিস আছে এবং মোহাম্মাদ নিজেও যুদ্ধবন্দী নারী ভোগ করেছে।

নারী বিদ্বেষী

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যদি দু’জন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক (সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ কর)। (সূরা আল-বাকারাহঃ ২৮২)

. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বলল, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ত্রুটির কারণেই। (৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮২)

“মেয়েদের উপর রয়েছে পুরুষের প্রাধান্য।”
(সূরা নিসা আয়াত ৩৪)

সহিহ্ বোখারি ভল্যিউম ৭, হাদিস ৩৩:
উসামা বিন যায়েদ বলেছেন, নবী বলেছেন যে আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকর আর কিছু রইল না।

সহিহ্ মুসলিম, বই ৩১ হাদিস ৫৯৬৬:
আবু মূসার বর্ণনা মতে নবী (দঃ) বলেছেন: “পুরুষদের মধ্যে অনেকেই ত্রুটিমুক্ত কিন্তু নারীদের মধ্যে কেউ-ই ত্রুটিমুক্ত নয়, কেবল ইমরানের কন্যা মেরী এবং ফারাওয়ের স্ত্রী আয়েশা ছাড়া।”

নবী যখন জানতে পারলেন যে ইরান (তৎকালীন পারস্য) এর রাষ্ট্রপ্রধানের কন্যাকে পারস্যবাসী নিজেদের বাদশাহ বানিয়েছে তখন এ খবর শুনে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করলেন-
“যে জাতি নিজেদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারের দায়িত্বসমূহ কোন নারীর ওপর সোপর্দ করে সে জাতি কখনোই প্রকৃত কল্যাণ এবং সার্থকতা লাভ করতে পারে না।” ……………………………(বুখারী,তিরমিযী,নাসাঈ)

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘‘এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে’’ এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলা সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার, আর আমাকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তা‘আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ‘‘তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৮)[২৪৫০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৭)

সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা আছে নারী, ঘোড়া ও বাড়িতে। (৫০৯৫) (মুসলিম ৩৯/৩৪ হাঃ ২২২৬, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৯)

উপরোক্ত ইসলাম ধর্মের মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রমাণ গুলোর মতো আরও অসংখ্য প্রমাণ দেয়া যাবে যা মুসলমানরা প্রতি দিন কনে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে শিক্ষক কর্তৃক ছেলে শিশু ধর্ষণ। এসব অপরাধে করেও যে সব মুসলিমরা সমকামীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নত করার অপপ্রয়াস চালান তারা যেন আগে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেন এবং নিজেদের চিন্তাধারার পরিবর্তন করেন।

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ

গণহত্যাঃ

ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন। (বোখারী, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭৩)
এ রকম আরো অনেক হাদিস ও কুরআনের আয়াত আছে।

শিশুকামীতাঃ

১.‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন, দু’বার তোমাকে আমায় স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, তুমি একটি রেশমী কাপড়ে আবৃতা এবং আমাকে বলছে ইনি আপনার স্ত্রী, আমি তার ঘোমটা সরিয়ে দেখলাম, সে মহিলা তুমিই। তখন আমি ভাবছিলাম, যদি তা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন। (মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ নং ২৪৩৮, আহমাদ ২৪১৯৭)(বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৩)

২. হিশাম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার দিকে বের হওয়ার তিন বছর আগে খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা। তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উৎযাপন করেন। (বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৪)

৩. ‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। [ বোখারী ৬১৩০,মুসলিম৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪০, আহমাদ ২৬০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৭)

৪.আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। (বোখারী,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)

*তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোন হাদীসে ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর বিবাহ হওয়ার ছয় বছর আবার কোন হাদীসে সাত বছর বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যাকারদের মতে, ঐ সময় আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বয়স ছয় পার হয়ে সাত বছর চলছিল। ফলে কোন হাদীসে ছয় বছরের উপর অতিরিক্ত সময় বাদ দিয়ে ছয় বছর গণনা করা হয়েছে, আবার কোন হাদীসে অতিরিক্ত সময়কে পূর্ণ বছর ধরে সাত বছর গণনা করা হয়েছে।

বহুবিবাহ এবং দাসি সেক্স

মোহাম্মদের স্ত্রীর সংখ্যা ছিল তেরটি। কোন কোন মতে নয়টি। নবী তাঁর অষ্টম বিয়েটি সম্পন্ন করেন ৬২৯ খৃস্টাব্দে তাঁরই পালিত পুত্র জায়েদের স্ত্রীর সঙ্গে যাঁর নাম ছিলো জয়নব বিনতে জাহাস । কেউ কেউ বলেছেন এটা সপ্তম বিয়ে, ইহুদি নারী জুয়াইরিয়ার সঙ্গে বিয়েটা ছিলো অষ্টম বিয়ে । তবে জয়নব বিনতে জাহাসের সঙ্গে বিয়েটাই অষ্টম বিয়ে বলে অধিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় । মুহাম্মদ অনেকগুলি বিয়ে করেছিলেন যা নিয়ে আজো সারা দুনিয়ায় চর্চা হয় । এত গুলো বিয়ের পরেও রেখেছিল একদল যৌনদাসী। দাসি মারিয়া (পরবর্তীতে মরিয়ম) ছিল তার প্রিয় যৌন দাসী।

লুটতারাজ

ইসলামে সৈন্যদের গনিমতের লোভ দেখিয়ে লুটতারাজে নামানো হত। তার পর পুরুষদের হত্যা এবং নারী, শিশু এবং সম্পদ গনিমত হিসেবে বন্ঠন করা হতো।

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বনী কুরায়যার ইয়াহূদীরা সা‘দ ইবনু মা‘আয (রাঃ)-এর ফায়সালা মুতাবিক দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘তোমাদের নেতার দিকে দন্ডায়মান হও।’ তিনি এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও এরা তোমার ফায়সালায় রাজী হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এই রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মত ফয়সালাই করেছ।’ (৩৮০৪, ৪১২১, ৬২৬২) (মুসলিম ৩২/২২ হাঃ ১৭৬৮, আহমাদ ১১১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৬)

এ রকম অনেক হাদিস আছে এবং মোহাম্মাদ নিজেও যুদ্ধবন্দী নারী ভোগ করেছে।

নারী বিদ্বেষী

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যদি দু’জন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক (সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ কর)। (সূরা আল-বাকারাহঃ ২৮২)

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বলল, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ত্রুটির কারণেই। (৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮২)

“মেয়েদের উপর রয়েছে পুরুষের প্রাধান্য।”
(সূরা নিসা আয়াত ৩৪)

সহিহ্ বোখারি ভল্যিউম ৭, হাদিস ৩৩:
উসামা বিন যায়েদ বলেছেন, নবী বলেছেন যে আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকর আর কিছু রইল না।

সহিহ্ মুসলিম, বই ৩১ হাদিস ৫৯৬৬:
আবু মূসার বর্ণনা মতে নবী (দঃ) বলেছেন: “পুরুষদের মধ্যে অনেকেই ত্রুটিমুক্ত কিন্তু নারীদের মধ্যে কেউ-ই ত্রুটিমুক্ত নয়, কেবল ইমরানের কন্যা মেরী এবং ফারাওয়ের স্ত্রী আয়েশা ছাড়া।”

নবী যখন জানতে পারলেন যে ইরান (তৎকালীন পারস্য) এর রাষ্ট্রপ্রধানের কন্যাকে পারস্যবাসী নিজেদের বাদশাহ বানিয়েছে তখন এ খবর শুনে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করলেন-
“যে জাতি নিজেদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারের দায়িত্বসমূহ কোন নারীর ওপর সোপর্দ করে সে জাতি কখনোই প্রকৃত কল্যাণ এবং সার্থকতা লাভ করতে পারে না।” ……………………………(বুখারী,তিরমিযী,নাসাঈ)

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘‘এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে’’ এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলা সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার, আর আমাকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তা‘আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ‘‘তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৮)[২৪৫০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৭)

সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা আছে নারী, ঘোড়া ও বাড়িতে। (৫০৯৫) (মুসলিম ৩৯/৩৪ হাঃ ২২২৬, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৯)

উপরোক্ত ইসলাম ধর্মের মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রমাণ গুলোর মতো আরও অসংখ্য প্রমাণ দেয়া যাবে যা মুসলমানরা প্রতি দিন কনে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে শিক্ষক কর্তৃক ছেলে শিশু ধর্ষণ। এসব অপরাধে করেও যে সব মুসলিমরা সমকামীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নত করার অপপ্রয়াস চালান তারা যেন আগে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেন এবং নিজেদের চিন্তাধারার পরিবর্তন করেন।

তাশনোভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

সমকামী বিদ্বেষীদের কিছু মন্তব্য ও উত্তর

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা সমকামীদের অধিকার

প্রাণী জগতে সমকামীতা বনাম সমকামী বিদ্বেষীদের অজ্ঞতা

আরো অনেক প্রাণী রয়েছে যাদের মাঝে সমপ্রেমের প্রবণতা প্রাকৃতিক অর্থে বিদ্যমান। আশা করি সংশ্লিষ্ট আরো অনেক তথ্য পরের পোস্ট এ তুলে দিতে পারবো।
তাসনুভা ফেরদৌসী
Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

“উভলিঙ্গ মানব” কিছু কথা ও কিছু দাবি

পুরুষ এবং নারী এই দুই লিঙ্গের বাইরেও আরও লিঙ্গ আছে। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। জানবই বা কেমন করে? কেননা নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষদের আমরা কখনই স্বাভাবিক চোখে দেখি নি। এর কারণ ধর্ম এবং সংকীর্ণ চিন্তাধারার সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে এসেছে।

আমাদেরকে শেখানো হয়েছে নারী এবং পুরুষের বাইরে কোন লিঙ্গ হতে পারে না। নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে আমরা সব সময় অস্বীকার করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে দামিয়ে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয় নি। এ রকমই একটি লিঙ্গ বৈচিত্র্য হচ্ছে উভলিঙ্গ।

উভলিঙ্গ হচ্ছে একই সঙ্গে দুই লিঙ্গেরই সহাবস্থান। বাংলাদেশে উভলিঙ্গ মানবদের হিজরা বলে সম্মোধন করা হয়। উভলিঙ্গত্ব প্রকৃতিতে একেবারে বিরল কিছু নয়। আফ্রিকার নিশাচর স্ত্রী হায়েনাদের মধ্যে এ রকম উভলিঙ্গ দেখা যায় । বুশ বেবী, স্পাইডাই মাম্কি, উলি মাম্কি মধ্যেও উভলিঙ্গত্ব বিদ্যমান ( Joan Roughgarden, Evolution’s Rainbow: Diversity, Gender, and Sexuality in Nature and People, University of California Press, May 17, 2004)।

বিভিন্ন প্রজাতির কাকড়া ও প্রজাপতির মধ্যেও এরকম দেখা যায়। একজন ব্যক্তির উভলিঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহণের পিছনে নিজের কোন হাত থাকে না। এ বিষয়ে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে ক্রোমোজোমের ত্রূটি কারণে যাদের জন্মপরবর্তী লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়, মূলত তারাই উভলিঙ্গ মানব। এদের শারীরিক গঠন ছেলেদের মতো হলেও মন-মানসিকতায় আচার আচরণে সম্পূর্ণ নারীর মতো (she-male)।

উভলিঙ্গ মানবদের বৈশিষ্ট্যগতভাবে দুইটি ধরন রয়েছে, নারী ও পুরুষ। নারী উভলিঙ্গ মানবদের মধ্যে নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য থাকলেও স্ত্রীযৌনাঙ্গ না থাকায় তার শারীরিক গঠন আলাদা। পুরুষ উভলিঙ্গ মানবদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। শারীরিকভাবে পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে নারী স্বভাবের উভলিঙ্গদের বলা হয় ‘অকুয়া’। অন্য উভলিঙ্গদের বলা হয় ‘জেনানা’। উভলিঙ্গ মানব থেকে উভলিঙ্গ মানবের জন্ম হয় না। একটি বিসমকামী দম্পতি থেকে উভলিঙ্গ মানবের জন্ম হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী মাতৃগর্ভে একটি শিশুর পূর্ণতা প্রাপ্তির ২৮০ দিনের মধ্যে দুটো ফিমেল বা স্ত্রী ক্রোমোজোম X – X প্যাটার্ন ডিম্বানু বর্ধিত হয়ে জন্ম হয় একটি নারী শিশুর এবং একটি female chromosome X ও একটি male chromosome Y মিলে X-Y প্যাটার্ন জন্ম দেয় পুরুষ শিশুর। ভ্রূণের পূর্ণতা প্রাপ্তির একটি স্তরে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে পুরুষ শিশুর মধ্যে অণ্ডকোষ এবং মেয়ে শিশুর মধ্যে ডিম্বকোষ জন্ম নেয়। অণ্ডকোষ থেকে নিঃসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্বকোষ থেকে নিঃসৃত হয় এস্ট্রোজন। পরবর্তী স্তরগুলোতে পুরুষ শিশুর যৌনাঙ্গ এন্ড্রোজেন এবং স্ত্রী শিশুর যৌনাঙ্গ এস্ট্রোজনের প্রভাবে তৈরি হয়। ভ্রূণের বিকাশকালে এই সমতা নানাভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। প্রথমত ভ্রূণ নিষিক্তকরণ এবং বিভাজনের ফলে কিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সূচনা হতে পারে। যেমন X-Y-Y অথবা X-X-Y।

X-Y-Y প্যাটার্নের শিশু দেখতে নারী-শিশুর মতো। কিন্তু একটি এক্সের অভাবে এই প্যাটার্নের স্ত্রী-শিশুর সব অঙ্গ পূর্ণতা পায় না। একে স্ত্রী-উভলিঙ্গ মানব বলে। আবার X-X-Y প্যাটার্নে যদিও শিশু দেখতে পুরুষের মতো, কিন্তু একটি বাড়তি মেয়েলি ক্রোমোজম এক্সের জন্য তার পৌরুষ প্রকাশে বিঘ্নিত হয়। একে পুরুষ উভলিঙ্গ মানব বলে। উভলিঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহণ করার পিছনে উক্ত ব্যক্তির কোন ভূমিকা না থাকলেও সমাজে সহ্য করতে হয় নানা অবহেলা ও নির্যাতন। নির্যাতনের কিছু চিত্র নিচে তুলে ধরা হলঃ

পারিবারিক নির্যাতনঃ একটি উভলিঙ্গ সন্তানকে নিয়ে তার পরিবার সব সময় হিনমন্যতায় ভোগে। এই শিশুকে নিজেদের জন্য অভিশাপ মনে করে। ফলে নানা সময় শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পদ থেকেও বঞ্চিত করে। এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজ গোত্রভুক্ত একজনকে প্রধান করে গড়ে তোলে একটি গোষ্ঠি। যাকে আমরা হিজরা গোষ্ঠি বলি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হয়। কাজের সুযোগ না থাকায় বাজারে চাঁদা আদায়,ভিক্ষাবৃত্তি ও যৌন কর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হয়।

সামাজিক নির্যাতনঃএকজন উভলিঙ্গ মানবকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হয় সমাজ থেকে। পাড়া-প্রতিবেশি,আত্মীয়-স্বজন, ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে শুনতে হয় নানা গঞ্জনা। শারিরীকভাবে পুরুষ এবং চালা-ফেরায় ও মানসিকভাবে নারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ছোট বেলাতেই লেখা-পড়া থেকে ঝড়ে পড়তে হয়।

ধর্মীয় নির্যাতনঃ ধর্ম পুরুষকে যে চোখে দেখে সেই চোখে নারী এবং উভলিঙ্গ মানবদের দেখতে পারে নি। প্রভাবশালী ধর্ম গুলোতে সব সময় পুরুষকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্ম সরাসরি শাস্তির বিধান না করলেও পুরুষের মতো প্রধান্য উভলিঙ্গ মানবদের দিতে পারে নি।ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্ম এদের যৌনতা রুখতে সডোমি আইন করেছে। বাংলাদেশে ৩৭৭ ধারা বিট্রিশ প্রণিত এ রকমই একটি আইন।যেখান নারী-পুরুষের যৌনতা ছাড়া সমস্থ্য যৌনতাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম উভলিঙ্গ মানবের প্রতি আরও কঠোর। ইসলামে এদেরকে জ্বীন ও মানুষের মিলিত সন্তান বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।তাদেরকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি হাদিস নিচে তুললে দেয়া হলঃ-
গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৩৪
৮৬/৩৩. গুনাহ্গার ও নপুংসকদের নির্বাসিত করা।
৬৮৩৪. ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন নারীরূপী পুরুষ ও পুরুষরূপী নারীদের উপর এবং বলেছেনঃ তাদেরকে বের করে দাও তোমাদের ঘর হতে এবং তিনি অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৭৩) . হয়ত ধর্মীয় এসব বিধানের কারণে বাংলাদেশে হিজরা শব্দটাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গালি হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

রাষ্ট্রীয় নির্যাতনঃ রাষ্ট্রের উচিৎ তাদেরকে নিরাপত্তা দান ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার। কিন্তু তা না করে নানা ক্ষেত্রেই বৈষম্য করেছে। জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ভোট দানের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বাইরে আলাদা কোন লিঙ্গ পরিচয় রাখা হয়নি। যার ফলে প্রায় সময় নানা সমস্যায় পড়তে হয় সংখ্যালঘু এই মানুষগুলোকে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও পূনর্বাসন ক্ষেত্রেও যথেষ্ট কোন উদ্যোগ এবং বরাদ্দ করা হয়নি। ২৮ জুলাই ২০১৩ তারিখের BBC BANGLA র একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে উভলিঙ্গ মানবদের দূর্দশার নানা চিত্র। বিস্তারিত দেখুন এখানে https://www.bbc.com/bengali/multimedia/2013/07/130728_fp_bd_hizra

আমাদের কিছু আবেদনঃ
১.নারী, পুরুষের বাইরেরও সমস্থ্য ভিন্ন লিঙ্গের মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দান ও তার বাস্তবায়ন।
২.সব রকম বৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. রাষ্ট্র কর্তৃক নিরাপত্তা দান করা।
৪.প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে সচেতন মূলক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫.নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬.সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে চাকুরির সুযোগ প্রদান।
৭.৩৭৭ ধারার মতো অযৌক্তিক আইনের বিলোপ সাধন।
৮.যৌন সংখ্যালঘুদের আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ দান।
৯.রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বন্ধ করা।
১০.পিছিয়ে পড়া যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও পূনর্বাসন ক্ষেত্রে যথাযথ বরাদ্দ গ্রহণ।
১১. সমাজের সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা ও সকলের মর্যাদা নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
পরিশেষে উপরোক্ত এগার দফা দাবি রাষ্ট্র ও সকল সচেতন মানুষের উদ্দেশ্যে পেশ করা হল।

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ সমকামীদের অধিকার

” আমরা কি রূপে প্রকৃতির বিরুদ্ধে আছি ব্যাখ্যা দেবেন প্লিজ?”

সৃষ্টির শুরু থেকে সমকামীরা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। বিষমকামী মানুষ দ্বারা সন্তান উৎপাদন সম্ভব কথা সত্যি, তাই বলে সন্তান উৎপাদন ই যে যৌন মিলন এর একমাত্র কারণ এ কথা কে বলেছে? উষ্ণতা থেকে ও হয় যৌন মিলন। ভালোবাসা প্রকাশের একমাত্র উপায় কি শুধু যৌনতা? কখনোই না। তাছাড়া ব্যক্তি বিশেষে যৌন মিলন এর আচরণ, রুচি এবং কে কিভাবে সন্তুষ্টি লাভ করেন তাতেও অনেক পার্থক্য রয়েছে, এর কারণ, মানুষ মাত্রই বিচিত্র প্রাণী । আপনি, আপনার আসে পাশে, বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের হার দেখে তা আরো স্পষ্ট বুঝে নিতে পারেন। আমি নিশ্চিত, বিষমকামী দের বেলায় এই সত্য মেনে নিতে আপনার কোনো দ্বিধা নেই, তবে সমপ্রেমী দের বেলায় কেন না?

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন ‘আপনারা কেন সমকামী?’

পুরুষ fetuses তাদের Y chromosome এ নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন বহন করে, তাকে H-Y antigen বলা হয়। কিছু antigen পুরুষের বিষমকামী অভিযোজনের বিকাশকে উৎসাহিত করে, কারণ H-Y antigen মায়ের দেহে উপস্থিত থাকে না এবং তারা মাতৃভিত্তিক antibody উৎপাদনে ট্রিগার করে। এই অ্যান্টিবডি H-Y antigen এর সাথে যুক্ত হয়ে antibody ‘র স্বাভাবিক ক্রিয়া তে বাধা সৃষ্টি করে।

যদি H-Y antigen কার্যকর না হয়, তাহলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের “বিষমকামী” সংকেত কখনও ফুটে উঠবে না।

”Male fetuses carry male-specific proteins on their Y chromosome, called H-Y antigens. Some of these antigens promote the development of heterosexual orientation in males … Because these H-Y antigens are not present in the mother’s body, they trigger the production of maternal antibodies. These antibodies bind to the H-Y antigens and prevent them from functioning.

With the H-Y antigens not functioning, it could be that the “be straight” signal in the fetus’s brain never flicks on”

Source

এমন আরো বৈজ্ঞানিক বেখ্যা রয়েছে। ঠিক যেভাবে আমাকে প্রশ্ন করেছেন, simply google search করে homosexuality বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন।

” আচ্ছা একজোড়া সমকামী কি কখনো একটা বাচ্ছা উৎপাদন করতে পারবে? ”

যে সন্তান আজকে জম্ন নিয়েছে, সে ই তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আমি এমন বহু বিষমকামী দম্পতি দেখেছি যারা সন্তান জন্মদানে সম্পর্ণরূপে সক্ষম , কিন্তু তারা নতুন একটি জীবন পৃথিবীতে আনার চেয়ে যে সন্তানেরা ইতিমধ্যে জন্ম নিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যের শিকার তাদের দত্তক নিচ্ছেন, তাদের কে পৃথিবীতে চলার মতো যোগ্য করে তুলতে সাহায্য করছেন। তারা এই কাজটা কেন করছেন বলে আপনার মনে হয়? খুব সহজ ভাবে কারুনগুলো খুজুন, কি কি হতে পারে সেসব কারণ – একটি জীবন সুন্দর ভাবে যাপন হোক তা নিশ্চিত করা? নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী সেই সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা? সমাজে ভারসম্য আনা? জনসংখ্যায় ভারসম্য আনা? এতে করে আসলে লাভ কার হচ্ছে? কারো কি ক্ষতি হচ্ছে? আপনার ঊত্তর হবে – না, কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, বরং এটি উদারতা। এই উদারতা সমপ্রেমীদের বেলায় মেনে নিতে আপনাদের আপত্তি কোথায়?

” যদি না পারে তো ভবিষ্যত প্রজন্মে আপনাদের অনুসারীরা লেসবিয়ান, হে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার হলে সঙ্গী কোথায় পাবেন। সেক্সডল ব্যাবহার করবেন? ”

lesbean , gay এবং bisexual দের সঙ্গীর অভাব না কোনোদিন আগে ছিল, আছে, না ভবিষ্যতে কোনোদিন থাকবে। যতদিন মানবকুল এর অস্তিত্ত্ব রয়েছে ততদিন তাদের সঙ্গীর অভাব হবে না।

১৯০৮ সালের ও আগে ডাচ নাবিকেরা সেক্স ডল আবিষ্কার করেছিলেন তাদের সামুদ্রিক জীবনের একাকিত্ব এবং জৈবিক প্রয়োজন পূরণ করবার জন্যে, তারা কি বিষমকামী ছিলেন না সমকামী? আপনাদের কেন ধারণা যে সমপ্রেমীরা ই একাকিত্বে ভুগবে বিষমকামী রা না?

বিষমকামী হয়েও কি খুব সহজে জীবনসঙ্গী পেতে সক্ষম আপনারা? হা সঙ্গী পাওয়া আপনার জন্য কিছুটা সহজ যেহেতু এই যৌনতা বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। সমপ্রেমীরা স্বীকৃতি পেলে তারা খুব সহজেই বিয়ের সঙ্গী পাবেন, আর মন মতো যারা পাবে না তাদের কেউ কেউ একাকিত্বের কিছু মুহূর্ত না হয় কাটাবেন। ঠিক যেমন টা কিছু বিষমকামীরা কাটান!

ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী যদি আপনার মতের অমিল থাকে, ১৫০০ বছর আগের এমন অনেক কিছুই আছে যা আজকে দিনে বাস্তবায়ন সম্ভন না, যেমন ৬ বছরের শিশু কে বিয়ে করে ৯ বছরে তার সঙ্গে যৌন মিলন করা। কারণ plain and simple , it is a crime TODAY . চাইলে আরো অনেক কিছু বলা যেতে পারে যা আমি এই মুহূর্তে নাই বললাম, ঠিক তেমনি আজকের বৈজ্ঞানিক অবদান এবং প্রসারতার ফলে যে জিনিসগুলো সামনে চলে এসেছে তা যতই আপনারা মোমিন হন , যতই বলেন ইসলাম বৈজ্ঞানিক ধর্ম , কৈ এই scientific exlanation গুলো তো ইসলাম এ নাই। বাল্যবিবাহ আইন করার অর্থ যেহেতু আপনারা ইসলাম এর সংস্কার হিসেবে দেখছেন না, সমকামীদের সমঅধিকার আইন প্রতিষ্ঠায় আপনাদের আপত্তি কেন?

সব শেষ প্রশ্ন
আমরা কি রূপে প্রকৃতির বিরুদ্ধে আছি ব্যাখ্যা দেবেন প্লিজ।

উত্তর
আপনারা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মানুষ কে তার প্রাকৃতিক অনুভূতি, আর ভালোবাসার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাচ্ছেন। আশা করি উপরের আলোচনায় আপনি ব্যাখ্যা পেয়েছেন।

তাসনুভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ সমকামীদের অধিকার

সমকামিতা নাকি সমকামী বিদ্বেষীতা রোগ?

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা সমকামীদের অধিকার

কত কাল ধরে চলবে এসব নির্যাতন?