Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বই বাংলাদেশ রাজনীতি সমকামীদের অধিকার

অপরাধ, স্বাধীনতা এবং সমকামিতা

আমাদের সমাজে সমকামীদের অস্তিত্ব নতুন কিছু নয়। হ্যা, এটা ঠিক যে বিশাল একটা সময় ধরে সমকামীদের আত্মগোপন করে রাখতে হয়েছে নিজেদের যৌন প্রবৃত্তিকে। কেউ কোনভাবে প্রকাশিত হয়ে গেলে পেতে হয়েছে নির্মম শাস্তি।

আমাদের পরিচিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিকেই শাস্তি পেতে হয়েছে নিজের যৌন প্রবৃত্তির কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে সমকামীদের শুনতে হয়েছে নানা বাজে তকমা। এখন আস্তে আস্তে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হচ্ছে। ফলে সমস্ত যৌন সংখ্যালঘু মানুষরা তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে। এই জানান দিতে গিয়ে সেকেলে চিন্তাধার কিছু বিরুদ্ধবাদীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজকাল সমকামিতা নিয়ে যারা সামন্যতম পড়াশুনা করেছেন তাদের মুখে সমকামীরা বিকৃত মস্তিস্কের, আধুনিকতার তৈরী, প্রকৃতি বিরুদ্ধ, প্রাণী জগতে সমকামিতা নেই, এ’রকম মন্তব্যগুলো আর তেমন শোনা যায় না। কারণ সমকামীরা যে সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক এ নিয়ে অনেক গবেষণার প্রতিবেদন বের হয়েছে – সমকামিতা যে আধুনিক যুগের তৈরি নয় বরং মানব জাতির উদ্ভবের ঊষালগ্ন থেকেই ছিল তা নিয়ে ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে, প্রকৃতি সমকামীদের কিভাবে টিকিয়ে রাখছে তা আজ স্পষ্ট।

প্রাণী জগতে যে সমকামিতা ছড়িয়ে আছে তা নিয়ে অনেক প্রামাণ্যচিত্র তৈরী হয়ে আছে। সমকামবিদ্বেষীদের কাছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে সমকামী যৌনতায় বাচ্চা উৎপাদন হয় না। বিজ্ঞান তাদের এই মাথা ব্যাথার জবাব দিতেও প্রস্তত। কিন্তু যারা যৌনতার উদ্দেশ্যকে শুধু মাত্র বাচ্চা উৎপাদন হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা নিজেরাই কেন সেই উদ্দেশ্যকে লঙ্ঘন করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ এবং কন্ডম ব্যবহার করতে ব্যস্ত তা আমার বোধগম্য নয়। বরং তাদের উচিৎ ছিল বছর বছর বাচ্চা জন্ম দিয়ে উদ্দেশ্যকে সফল করা। এদের যুক্তি মানতে হলে বিষমকামী দম্পতিদের মধ্যে যারা বন্ধ্যা, তাদেরকে ফাঁসি দিতে হবে, বাচ্চা জন্মদানের বয়স শেষ হলে আর যৌনতা করা যাবে না । কিন্তু শুধু মাত্র সমকামীদের ক্ষেত্রেই তাদের দ্বিচারিতা তাদের নৈতিক আদর্শকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সমকামবিদ্বেষীদের এত সব বাহানার জবাব দেয়ার পরও কেন সমকামীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নত করা হবে? কেন তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে?

অপরাধ এবং স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে ভয়াবহ ধরণের অজ্ঞতা। আর এই অজ্ঞতার কারণে আজও এদের মুখে শুনতে হয় “সমকামীদের স্বাধীনতা দিলে চোর-ডাকাতকেও স্বাধীনতা দিতে হবে” জাতীয় আজগুবি কথাবার্তা। দেশ অনুযায়ী অপরাধের ধারণা ভিন্ন হলেও একটি মৌলিক বিষয়ে সকলে একমত যে অপরাধ হিসেবে সেই কাজটাকে চিহ্নিত করা হবে যে কাজটা কর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর। এই ধারণা মতে চোর-ডাকাত অন্যের ক্ষতি করছে এজন্য এটি অপরাধ। কিন্তু একজন ব্যক্তি কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলে সুখী হবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে তার নিজের ক্ষতিও হচ্ছে না, অপর কারও ক্ষতিও হচ্ছে না। বরং কেউ যদি একজন ব্যক্তির ব্যক্তি জীবনে হস্তক্ষেপ করে তাকে হেনস্তা করে, সেটাই অপরাধ। এই হিসেবে সমকামবিদ্বেষ একটি অপরাধ।

সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটা বিবেচ্য বিষয় হবে যে এতে কি দু’জন ব্যক্তিই সম্মত এবং অপর কারও সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে কি না। এই হিসেবে পশুকামিতা অপরাধ হতে পারে, শিশুকামিতা অপরাধ হতে পারে। কারণ পশু এবং শিশু সম্মতি দিতে অক্ষম। আবার একজন শিশু সম্মতি দিলেও সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ মতামত দেয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট বয়স হওয়া প্রয়োজন।

দু’জন ব্যক্তি কারও কোন ক্ষতি না করে নিজেদের ভাল থাকার জন্য সমলিঙ্গের কাউকে জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলে সেটা অপরাধ হয় কি করে? এখন হয়তো ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে আনা হবে। ধর্ম এটাকে পাপ বা অপরাধ বলেছে। আচ্ছা এক ধর্ম তো অন্য ধর্ম পালন করাকে পাপ বলেছে, অন্য ধর্মের মানুষদের পাপী বলেছে। তা এখন কি করবেন? অন্য ধর্মকে পালন নিষিদ্ধ করবেন? অন্য ধর্মের মানুষদেরকে হত্যার আইন করবেন? আপনার ধর্মের বিধান তাদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে পালন করতে বাধ্য করবেন?

যদি না করেন তাহলে আপনার এই পাপ বোধের ধারণা কেন শুধু সমকামীদের উপরে চাপিয়ে দিবেন? আপনার ধর্মে পাপ বলেছে তো আপনি করবেন না, ব্যাস ঝামেলা মিটে গেল। আপনাকে কেউ বাধ্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু আপনার কোন রকম ক্ষতি না করার পরও কেন আপনি শুধু আপনার বিশ্বাস পালনের জন্য দু’জন মানুষের ব্যক্তি জীবনে ঢুকে পড়বেন?

এবার স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার দিকে আসি। এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করবো।

অপরাধ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ আপনি সেই ব্যক্তিস্বাধীনতাটাই ভোগ করতে পারবেন যেটা অপরাধ নয়। একজন চোর, ডাকাত বা খুনির কাজ হচ্ছে অপরাধমূলক। তার এই অপরাধমূলক কাজগুলো ব্যক্তিস্বাধীনতা নয়। কিন্তু সমকাম এ’রকম কিছু নয় বরং নিজেদের মধ্যেকার যৌন প্রবৃত্তি। অতএব নিজেদের যৌন প্রবৃত্তি চারিতার্থ করার অধিকার দু’জন ব্যক্তির আছে। এর পরেও যারা সমকামিতা এবং চুরি ডাকাতিকে গুলিয়ে ফেলেন তাদেরকে আমি সবচেয়ে অজ্ঞ শ্রেণীর বলেই মনে করি।

সমকামীরা যেহেতু মানুষ তাই তাদেরও যৌন প্রবৃত্তি আছে। শুধু পার্থক্য এটাই যে বিষমকামীদের আকর্ষণ বিপরীত লিঙ্গের দিকে আর সমকামীদের আকর্ষণ সমলিঙ্গের দিকে। এই সমলৈঙ্গিক আকর্ষণ একজন সমকামী ব্যক্তি নিজে তৈরী করেনি, যেমনটা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বিষমকামীরা নিজেরা তৈরী করেনি।

এই আকর্ষণবোধ তৈরী করে শরীরবৃত্তিয় কিছু বৈশিষ্ট। একজন বিষমকামী থেকে একজন সমকামীর এই বৈশিষ্টগুলো (মস্তিস্কের গঠন, জেনেটিক প্যাটার্ন, হাইফোথেলমাস, হরমোনের ভিন্নতা) আদালা হওয়ার কারণে এই আকর্ষণটা সমলিঙ্গের দিকে যায়।

একজন বিষমকামী ব্যক্তি তার আকর্ষণ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি হওয়াতে বিপরীত লিঙ্গের সাথে যৌনতার স্বাধীনতা পেলে, সমকামীরা তাদের আকর্ষণ সমলিঙ্গের প্রতি হওয়াতে সমলিঙ্গের সাথে যৌনতা করতে পারবে না কেন? একজন বিষমকামী ব্যক্তিকে সমলিঙ্গের সাথে বিবাহ দিয়ে সমকামিতা করালে যতটা কষ্ট পাবে ঠিক একজন সমকামী ব্যক্তিকে বিপরীত লিঙ্গের সাথে বিবাহ দিয়ে বিষমকামিতা করালে ততটাই কষ্ট পাবে।

পরিশেষে বলব অপরকে বিচার করার আগে সেই বিচারটা নিজের উপরে করুন। তারপর যদি মনে হয় এই বিচারটা আপনার প্রতি ন্যায় হয়েছে তবেই সেটা অপরের প্রতি প্রয়োগ করুন।

Categories
অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ

ফতোয়াবাজি ১ম পর্ব

মুসলিমদের সবচেয়ে বৃহৎ শাখা হানাফী মাজহাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়ার কিতাব হচ্ছে ”ফতোয়ায়ে আলমগীরী”। সারা বিশ্বের চেয়ে ভারতবর্ষে এই কিতাবের মর্যাদা দুই পা এগিয়েই। এই মর্যাদাবান কিতাবের কিছু হাস্য ও রস্যময় কিছু ফতোয়া তুলে ধরছি। যা সকলের আনন্দের খোড়াক হবে বলে আশা করছি। তবে কেউ অনুভূতিতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তী হলে আমার করার কিছুই নেই।কারণ সত্য একটু নির্মমই হয়।

প্রথম পর্ব

১.যদি কেউ তার চার স্ত্রীর কোন একজনকে তিন তালাক প্রদান করে, অতপর কাকে তালাক দিয়েছে এ ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে এবং কেউ তালাকপ্রাপ্তা স্বীকার না করে তবে ঐ স্বামী তার কোন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে না। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২৭৬ পৃষ্ঠা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা) এতগুলো বিবি আর বিবাহ করার ব্যবসা শুরু করলে তো কাকে তালাক দিলো সেটা মনে না থাকাই স্বাভাবিক।

২.কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে যদি আমি তোমাকে তালাক না দেই তবে তুমি তালাক -এরুপ তিন বার বলারপর চুপ থাকে তাহলে স্তী তালাক হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২৯৩ পৃ ইললামি ফাউন্ডশ ঢাকা ৃ)।মাইরাহালা, কোনদিকে যাবে এবার!

৩.যদি কেউ বলে তোমাকে সরিষা, শস্য কিংবা যবের দানা পরিমান তালাক তাহলে তালাক পতিত হবে। (ঐ ২৯৩ পৃ) শস্যকেও রেহাই দিল না মোল্লারা।

৪.কেউ যদি বলে তোমাকে বাইন তালাক, অবশ্যই তালাক, চল্লিশ তালাক, শয়তানি তালাক, বিদআতী তালাক, কঠিন তালাক, পর্বতসম তালাক, মারাত্মক তালাক,প্রশস্ত অথবা লম্বা তালাক তাহলে এক তালাক হবে। (ঐ ২৯৪পৃ) মোল্লাদের মুখে লাগাম থাকে না যখন তার বক্তিতা শুরু করে।এ ক্ষেত্রেও না থাকা স্বাভাবিক।

৫.স্বামী স্ত্রীকে বললো আমি তোমার তালাক বিক্রি করে দিয়েছি। তারপর স্ত্রী বললো আমি তা খরিদ নিলাম। এতেই তালাকে রজঈ পতিত হবে। (ঐ ৩০৫ পৃ)। এবার শেষমেশ তালাকও কেনা বেচা হয়!

৬.এক ব্যক্তি স্ত্রীকে বললো, যখনই আমি ভাল কথা বলবো তখনই তুমি তালাক। অতপর সে সুবহানআল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাহলে এক তালাক হবে। আর ওয়া বাদ দিলে তিন তালাক হবে। (ঐ ৩৯৬ পৃ) বোঝ ঠেলা, এবার ভাল কথা বলাও ছেড় দেন!

৭.এক ব্যক্তি দুই মহিলাকে, যাদের সে মালিক নয়, আমি যদি তোমাদেরকে বিবাহ করি তবে তালাক। তরপর বিবাহ করলে তালাক পতিত হল। (ঐ ৪১৬ পৃ)। লে হালুয়া, বিয়ের আগেই তালাক।

৮.এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল যদি আমি অমুক মহিলার সাথে এক হাজার বার সহবাস না করি তবে তুমি তালাক। (ঐ ৪২৯ পৃ)। যা বাবা সহবাস কর,তবু উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাস নে।

 

….(চলবে)

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বই বাংলাদেশ রাজনীতি সমকামীদের অধিকার

নির্বাচনী ইশতেহারে যৌন সংখ্যালঘুদের জায়গা হবে কি?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই খুব শীঘ্রই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে রাজনৈতিক দলগুলো। এই ইশতেহারে জনগণের উদ্দেশ্যে নানা প্রতিশ্রুতি দেন রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও নির্বাচনে জয় লাভ করার পরে এই সব ইশতেহার তারা বেমালুম ভুলে যান। তবুও এই ইশতেহার জনগণের জন্য কিছুটা প্রাপ্তিই বলা চলে। কিন্তু এই সামান্য প্রাপ্তিটুকুও জুটে নি বাঙালী যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য।
মৌলবাদীদের ভয়ে কিংবা নিজেদের সংকীর্ণ চিন্তাধারার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলই যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আগত নির্বাচনী ইশতেহার উপলক্ষে যৌন সংখ্যালঘুদের নিয়ে কোন রকম প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো ধর্মবাদী দলগুলো ক্ষমতায় আসলে যৌন সংখ্যালঘুদের উপরে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আসতে পারে। যা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে রুপ নিতে পারে।
প্রগতীশীল দাবিদার দলগুলোও ভোটের লোভে সাময়িক মুফতি হয়ে উঠেছে। ফলে সব দিক থেকে যৌন সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষ আদর্শে উদ্বোদ্ধ হয়ে। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল। যৌন সংখ্যালঘুরাও এই সংগ্রামী মানুষের তালিকায় ছিল। যদিও প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ করা কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু যৌন সংখ্যালঘুরা যে ছিল না তা কখনই বলা যায় না। আর বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ার কারণে সকল নাগরিকের মানবাধীকার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু তা না হয়ে বরং বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানপন্থী অপশক্তিগুলোর মাধ্যমে এ দেশকে ধর্ম নিরপেক্ষ নীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যার রেশ বর্তমানেও কাটেনি।
একজন নাগরিকের অধিকার খর্ব হলে তার দায় রাষ্ট্ররে উপরেই বর্তে, সেখানে লক্ষ লক্ষ যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধীকার খর্ব হচ্ছে আর তার দায় এড়িয়ে যাওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নয় কি? তাই সকল যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কিছু দাবি তুলে ধরা হলঃ
১. নির্বচনী ইশতেহারে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
২. যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গিকার ব্যক্ত করতে হবে।
৩. সংসদে যৌন সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি রাখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো থেকে মনোনয়ন দিত হবে।
৪. যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. মহান সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ৩৭৭ ধারাটি অতিসত্তর বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. যৌন সংখ্যালঘুদের প্রতি ভীতি প্রদর্শনকারী ও জীবন নাশের হুমকি প্রদানকারী জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮. নারী, পুরুষ এবং শিশু ধর্ষণে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে।
উপরোক্ত আট দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অব্যাহত রাখা এবং সকল নাগরিকের মানবাধীকার রক্ষার জন্য আসন্ন নির্বাচনে আংশগ্রহণকারী সকল দলের প্রতি অনুরোধ করা হল।
Categories
NEWS অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ

ফতোয়াবাজি ২য় পর্ব

৯. কেউ যদি তার স্ত্রীদেরকে সম্মোধন করে বলে, তোমাদের যার জননেন্দ্রিয় অধিক প্রশস্ত হবে তাকে ত্বালাক। তাহলে তাদের মধ্যে যে হালকা পাতলা তার উপর ত্বালাক পতিত হবে।( আলমগিরি)
মন্তব্যঃ হুজুরদের হালি হালি বউ থাকলে থাকলে যা দশা হয় আর কি।

১০. একজন ব্যক্তিকে তার স্ত্রী মদ পান করার কারণে ভৎসনা করল। অতপর সে বলল আমি যদি স্থায়ীভাবে মদ পান ছেড়ে দেই তবে তুমি ত্বালাক।( আলমগিরি পৃষ্ঠা ৪৪৬)
মন্তব্যঃ স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে মনে করলে তার কাছে উপদেশ গ্রহণ কখনই মেনে নিতে পারবে না মোমিন সমাজ এটাই প্রমাণিত।

১১. কোন এক মহিলা ঘরের কামড়ায় বসে কাঁদছিল। তখন তার স্বামী তার শ্বশুরকে বলল যদি আপনার কন্য এ কামরা থেকে বের হয়ে অন্যত্র গিয়ে না কাঁদে তবে সে ত্বালাক। তারপর তার স্ত্রী অন্য কামরায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্না যদি কেউ শুনতে পায় তবে সে ত্বালাক। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৫৫)
মন্তব্যঃ মুমিনীয় স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এই ফতোয়াটি বেশ কার্যকর হবে।

১২. এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করার পর ঐ মহিলার পরিবার এতে অসম্মত হয়। কারণ তার অন্য এক স্ত্রী আছে। তারপর সে তার স্ত্রীকে নিয়ে কবরস্থানে বসিয়ে রেখে এসে ঐ পরিবারে গিয়ে বলল আমার কবর স্থানের স্ত্রী ব্যতিত অন্য সব স্ত্রী ত্বালাক। এতে তারা মনে করল তার কোন স্ত্রী জীবিত নাই। ফলো ঐ মহিলাকে বিবাহ দিলো। তাহলে বিবাহও সহিহ হবে এবং প্রতিজ্ঞাও মিথ্যা হবে না। (ঐ পৃঃ ৪৫৭)
মন্তব্যঃ যৌনতার জন্য মোল্লারা যে কতটা নিখৃষ্ট ছলছাতুরির আশ্রয় নিতে পারে এটাই তার প্রমাণ।

১৩. এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল আমি যদি তোমার সন্তানকে মেরে দু টুকরো না করি তবে তুমি তিন ত্বালাক। তারপর সন্তানকে যমিনে ফেলে মারল কিন্তু দু টুকরা হল না তবে ঐ মহিলার উপরে তিন ত্বালাক পতিত হবে। ( ঐ পৃঃ ৪৬২)
মন্তব্যঃ শিশু নির্যাতনে সেরা মোল্লাদের দ্বারা এটাও অসম্ভব কিছু না।

১৪.স্বামী তার স্ত্রীকে বলল যদি দুপুরের সময় বাজারের মধ্যে সহবাস না করি তবে তোমাকে ত্বালাক। তবে এক্ষেত্রে কৌশল হবে স্ত্রীকে পালকিতে করে বাজারে নিয়ে গিয়ে পালিকের মধ্যে সহবাস করতে হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৩১)
মন্তব্যঃ কামুক মোহাম্মাদের কামুক মোল্লাদের দ্বারা এটাই আশা করা যায়।

১৫. কেউ যদি বলে, আমি ত্বালাকের শপথ করে বলতেছি যে আমি মদ পান করব না। অতঃপর মদ পান করলে তার স্ত্রী ত্বালাক হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ১৭১)
মন্তব্যঃ মুমিনগণ স্ত্রীকে কি চোখে দেখে এই ফতোয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়।

চলবে…….

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ রাজনীতি

ফতোয়াবাজিঃ- শেষ পর্ব

আজকের এই পর্বে আমারা ইসলামি মিথ্যাচার তুলে ধরব। মোল্লারা নিজদেরকে রক্ষার জন্য কত পাল্টিবাজ হতে পারে তা আজকের পর্বে ফতোয়ার কিতাব থেকে তুলে ধরছি:-
১. কেউ কসম করে বলল সে রুটি খাবে না। তারপর সে রুটি শুকিয়ে গুড়া করে তাতে পানি মিশিয়ে পান করলে তার কমস ভঙ্গ হবে না। কিন্ত রুটি যদি পানিতে ভিজিয়ে খায় তবে কসম ভঙ্গ হবে। ( ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ই ফা বা, পৃষ্ঠা ২২৬)
মন্তব্যঃ মোল্লারা নিজেদের মগজে যে কি রকম পাল্টিবাজ জ্ঞান ধারণ করে এটা তার উদাহরণ মাত্র।
২. কোন ব্যক্তি কসম করল  যে সে তরমুজ খাবে না।  অতপর ছোট কাচা তরমুজ ভক্ষণ করল তাহলে ফকিহদের মতে কসম ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ২২৮)
মন্তব্যঃ কাচা তরমুজ কিন্তু তরমুজ নয়, এটা মোল্লাতান্ত্রিক বিজ্ঞান।
৩. কেউ তার স্ত্রীকে বলল, আজ আমি যদি তোমাকে প্রহার না করি তবে তুমি ত্বলাক। এরপর স্বামী তাকে মারতে চাইলে তখন মহিলা বলল, তোমার শরীরের কোন অঙ্গ আমার কোন অঙ্গের সাথে স্পর্শিত হয় তবে আমার গোলাম আযাদ। এরপর সে তার গায়ে হাত দেয়া ব্যতিরেকে লাঠি দ্বারা তাকে প্রহার করে তাহলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে।(ঐ পৃষ্ঠা ৩৪১)
মন্তব্যঃ বাহ্! হাতের বদলে লাঠি। মোল্লাদের বুদ্ধি আছে বৈকি।
৪. এক ব্যক্তি প্রতিজ্ঞা করল, সে হাারাম কাজ করবে না।অতপর সে ফাসিদ তরীকায় বিবাহ করলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে না। এমনিভাবে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌোনাচার করলেও তা ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ৩৬৫)
মন্তব্যঃ চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌনচারকেও সহিস পদ্ধতিতে বৈধতা দিয়েছিল মোল্লারা।
৫. যদি মহিলা ঘুমন্ত কোন পুরুষকে নিজের সাথে যিনা করার সুযোগ প্রদান করে তাহলে তাদের উপর হদ্দ ওয়াজিব হবে না। ( ঐ পৃঃ ৩৯৬)
মন্তব্যঃ হুজুরা তাহলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করে? এই ফতোয়া অবশ্য আমাদের নবী মোহাম্মাদের জীবনের উপর গবেষণা করে দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করেছে আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে মেরাজ করেছে। উম্মে হানি ছিল সেই ডানাওয়ালা ঘোড়া।
প্রিয় পাঠক, গত পর্ব গুলোতেও ইসলামী নানা ভন্ডামো তুলে ধরা হয়েছে। শুধু ইসলামই নয় প্রত্যেক ধর্মই ভন্ডামোতে পরিপূর্ণ। যে ব্যক্তি যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবারের লালিত বিশ্বাসকেই সর্বসেরা মনে করে। অথচ কখনই সেই বিশ্বাস পর্যালোচনা করে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। যারা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে শিখেছে তারাই ওসব বিশ্বাসকে ছুড়ে ফেলতে শিখেছে। যারা অন্ধ বিশ্বাস ও গোড়ামি থেকে বেড়িয়ে এসে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে তারাই হচ্ছে নাস্তিক। ধর্ম ত্যাগ করার জন্য ধর্ম গ্রন্থের একটি ভুলই যথেষ্ট।কারণ ধর্মগ্রন্থগুলো নির্ভল দাবি করে। আর একটি ভুল খুজে পাওয়া মানেই সেই দাবিও মিথ্যা হয়ে যায়। ইসলামী বিশ্বাস থেকে এতগুলো ভন্ডামি তুলে ধরার পরেও যদি কেউ ইসলামকে নির্ভল দাবি করে তবে তাকে করুণার চোখে দেখব। কারণ পাগলকে করুণার চোখেই দেখা উচিৎ। আর যাদের সামন্যতম জ্ঞান আছে তাদের কাছে আশা করি তারা দ্রুত ইসলাম থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।