Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – প্রথম খন্ড

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থ্যাৎ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম উত্থানের সময় থেকেই সমকামীদের প্রতি খড়গহস্ত। যুগে যুগে সমকামীরা ধর্মের নিরিহ শিকারে পরিণত হয়ে উঠেছিল। ধর্ম কর্তৃক নানা নির্যাতন মুখে বুজে সহ্য করতে হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠিকে। কিন্তু গত শতাব্দি থেকে যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানবাধীকার নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হতে থাকে। বৈজ্ঞানীক গবেষণাগুলোর মাধ্যমে সমকামী জনগোষ্ঠির প্রতি প্রচলিত কুসংস্কার গুলো দূর হতে শুরু করেছে। যার ফলে সভ্য সমাজগুলো আজ সমকামী ব্যক্তিদের মাানবাধীকার রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে উঠেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইহুদী,খৃষ্টান এবং বর্তমানে হিন্দু ধর্ম কিছুটা নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে শুরু করলেও ইসলাম ধর্ম হিংস্রতার দিকে আরও এগিয়ে যাচ্ছে।

খৃষ্টান, ইহুদী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হলে বিপরীত দিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা দানে চরম বিরোধী হয়ে দাড়িয়েছে। সমকামীদের নিয়ে বিভিন্ন খবরে ও সচেতনমূলক পোষ্টে মুসলিমদের বিদ্বেষমূলক, হিংস্র ও অযৌক্তিক মন্তব্য লক্ষ্য করলে মুসলিমদের স্বরুপ জানা যায়। কিন্তু তারা কি সমকামীদের নিয়ে সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে?

একজন সমকামী কি কোন বিসমকামীকে জোর করে সমকামী বানাচ্ছে? বিসমকামী যৌনতায় বাধা দিচ্ছে? কাউকে কি ধর্ষণ করতেছে? প্রকাশ্যে জনসম্মুখে যৌন কার্য করতেছে? না, এসবের কিছুই করেনি। দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের সম্মতিতে যৌন কার্য করলে তাতে বাধা দেয়ার অধিকার ইসলাম ধর্মকে কে দিয়েছে? একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজের জীবন সঙ্গি হিসেবে কাকে বেছে নিবে সেটা ঠিক করে দেয়ার জন্য ধর্মকে কে অধিকার দিয়েছে? একজন ব্যক্তি নিজের বিছানায় অন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির সম্মতিতে যাই করুক তার জন্য তাকে পাথর ছুড়ে,আগুনে পুড়িয়ে, ফাঁসি দিয়ে মারার বিধান দেয়ার জন্য ধর্ম কে? একজন ব্যক্তি সমলিঙ্গের কাউকে ভালবাসলে, চুমু খেলে বা যৌন কার্য করলে অন্যদের তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?

হয়ত কেউ বলবেন সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হ্রাস পাবে। দুজন মানুষের ভালবাসা এবং প্রণয়কে যে সব ধর্ম ও সমাজ অনৈতিকতা হিসেবে চিহ্নত করে সেই সমস্থ্য ধর্ম ও সমাজের এই রকম সংকীর্ণ চিন্তাধারাকে আমরা ঘৃণা করি। যে ধর্ম নারী নির্যাতন,শিশুকামীতা,দাস প্রথা,দাসী সেক্স,বহুবিবাহ,লুটতারাজ, অন্য মতাদর্শের মানুষকে নির্বিচারে গণহত্যা, বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য কে সমর্থন জোগায় সেই ধর্ম সমকামীদের নিয়ে সমালোচনার নৈতিক যোগ্যতা রাখে না। আর ইসলাম এইসব মানবতাবিরোধী কাজকে পূণ্য মনে করে। ইসলাম আজকের সভ্যতায় সবচেয়ে নিখৃষ্ট মানবতাহীন একটি ধর্ম। এর কিছু উদাহরণ কোরআন হাদিস থেকে তুলে ধরছি। ইসলাম পৃথিবীতে এসেছিল যুদ্ধ করার জন্য এবং অন্য মতের মানুষদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ২৪

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যাস্ত।

অমুসলিমের সাথে বন্ধুত্ব না করার জন্য কোরআনে হুকুম দেয়া হয়েছে।لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸﴾

মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন।(৩/২৮)।

এবার কোরআন ভিন্ন মতে মানুষের কি ভাবে দেখে কোরআন থেকেই দেখুন:-مَنۡ کَانَ عَدُوًّا لِّلّٰہِ وَ مَلٰٓئِکَتِہٖ وَ رُسُلِہٖ وَ جِبۡرِیۡلَ وَ مِیۡکٰىلَ فَاِنَّ اللّٰہَ عَدُوٌّ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۹۸﴾

‘যে শত্রূ হবে আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রাসূলগণের, জিবরীলের ও মীকাঈলের তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের শত্রূ ’।(২/৯৮)

দ্বিতীয় খন্ডের জন্য চোখ রাখুন।

তাসনুভা ফেরদৌসী

 

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

সমকামী বিদ্বেষীদের কিছু মন্তব্য ও উত্তর

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা সমকামীদের অধিকার

প্রাণী জগতে সমকামীতা বনাম সমকামী বিদ্বেষীদের অজ্ঞতা

আরো অনেক প্রাণী রয়েছে যাদের মাঝে সমপ্রেমের প্রবণতা প্রাকৃতিক অর্থে বিদ্যমান। আশা করি সংশ্লিষ্ট আরো অনেক তথ্য পরের পোস্ট এ তুলে দিতে পারবো।
তাসনুভা ফেরদৌসী
Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

“উভলিঙ্গ মানব” কিছু কথা ও কিছু দাবি

পুরুষ এবং নারী এই দুই লিঙ্গের বাইরেও আরও লিঙ্গ আছে। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। জানবই বা কেমন করে? কেননা নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষদের আমরা কখনই স্বাভাবিক চোখে দেখি নি। এর কারণ ধর্ম এবং সংকীর্ণ চিন্তাধারার সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে এসেছে।

আমাদেরকে শেখানো হয়েছে নারী এবং পুরুষের বাইরে কোন লিঙ্গ হতে পারে না। নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে আমরা সব সময় অস্বীকার করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে দামিয়ে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয় নি। এ রকমই একটি লিঙ্গ বৈচিত্র্য হচ্ছে উভলিঙ্গ।

উভলিঙ্গ হচ্ছে একই সঙ্গে দুই লিঙ্গেরই সহাবস্থান। বাংলাদেশে উভলিঙ্গ মানবদের হিজরা বলে সম্মোধন করা হয়। উভলিঙ্গত্ব প্রকৃতিতে একেবারে বিরল কিছু নয়। আফ্রিকার নিশাচর স্ত্রী হায়েনাদের মধ্যে এ রকম উভলিঙ্গ দেখা যায় । বুশ বেবী, স্পাইডাই মাম্কি, উলি মাম্কি মধ্যেও উভলিঙ্গত্ব বিদ্যমান ( Joan Roughgarden, Evolution’s Rainbow: Diversity, Gender, and Sexuality in Nature and People, University of California Press, May 17, 2004)।

বিভিন্ন প্রজাতির কাকড়া ও প্রজাপতির মধ্যেও এরকম দেখা যায়। একজন ব্যক্তির উভলিঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহণের পিছনে নিজের কোন হাত থাকে না। এ বিষয়ে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে ক্রোমোজোমের ত্রূটি কারণে যাদের জন্মপরবর্তী লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়, মূলত তারাই উভলিঙ্গ মানব। এদের শারীরিক গঠন ছেলেদের মতো হলেও মন-মানসিকতায় আচার আচরণে সম্পূর্ণ নারীর মতো (she-male)।

উভলিঙ্গ মানবদের বৈশিষ্ট্যগতভাবে দুইটি ধরন রয়েছে, নারী ও পুরুষ। নারী উভলিঙ্গ মানবদের মধ্যে নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য থাকলেও স্ত্রীযৌনাঙ্গ না থাকায় তার শারীরিক গঠন আলাদা। পুরুষ উভলিঙ্গ মানবদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। শারীরিকভাবে পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে নারী স্বভাবের উভলিঙ্গদের বলা হয় ‘অকুয়া’। অন্য উভলিঙ্গদের বলা হয় ‘জেনানা’। উভলিঙ্গ মানব থেকে উভলিঙ্গ মানবের জন্ম হয় না। একটি বিসমকামী দম্পতি থেকে উভলিঙ্গ মানবের জন্ম হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী মাতৃগর্ভে একটি শিশুর পূর্ণতা প্রাপ্তির ২৮০ দিনের মধ্যে দুটো ফিমেল বা স্ত্রী ক্রোমোজোম X – X প্যাটার্ন ডিম্বানু বর্ধিত হয়ে জন্ম হয় একটি নারী শিশুর এবং একটি female chromosome X ও একটি male chromosome Y মিলে X-Y প্যাটার্ন জন্ম দেয় পুরুষ শিশুর। ভ্রূণের পূর্ণতা প্রাপ্তির একটি স্তরে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে পুরুষ শিশুর মধ্যে অণ্ডকোষ এবং মেয়ে শিশুর মধ্যে ডিম্বকোষ জন্ম নেয়। অণ্ডকোষ থেকে নিঃসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্বকোষ থেকে নিঃসৃত হয় এস্ট্রোজন। পরবর্তী স্তরগুলোতে পুরুষ শিশুর যৌনাঙ্গ এন্ড্রোজেন এবং স্ত্রী শিশুর যৌনাঙ্গ এস্ট্রোজনের প্রভাবে তৈরি হয়। ভ্রূণের বিকাশকালে এই সমতা নানাভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। প্রথমত ভ্রূণ নিষিক্তকরণ এবং বিভাজনের ফলে কিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সূচনা হতে পারে। যেমন X-Y-Y অথবা X-X-Y।

X-Y-Y প্যাটার্নের শিশু দেখতে নারী-শিশুর মতো। কিন্তু একটি এক্সের অভাবে এই প্যাটার্নের স্ত্রী-শিশুর সব অঙ্গ পূর্ণতা পায় না। একে স্ত্রী-উভলিঙ্গ মানব বলে। আবার X-X-Y প্যাটার্নে যদিও শিশু দেখতে পুরুষের মতো, কিন্তু একটি বাড়তি মেয়েলি ক্রোমোজম এক্সের জন্য তার পৌরুষ প্রকাশে বিঘ্নিত হয়। একে পুরুষ উভলিঙ্গ মানব বলে। উভলিঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহণ করার পিছনে উক্ত ব্যক্তির কোন ভূমিকা না থাকলেও সমাজে সহ্য করতে হয় নানা অবহেলা ও নির্যাতন। নির্যাতনের কিছু চিত্র নিচে তুলে ধরা হলঃ

পারিবারিক নির্যাতনঃ একটি উভলিঙ্গ সন্তানকে নিয়ে তার পরিবার সব সময় হিনমন্যতায় ভোগে। এই শিশুকে নিজেদের জন্য অভিশাপ মনে করে। ফলে নানা সময় শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পদ থেকেও বঞ্চিত করে। এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজ গোত্রভুক্ত একজনকে প্রধান করে গড়ে তোলে একটি গোষ্ঠি। যাকে আমরা হিজরা গোষ্ঠি বলি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হয়। কাজের সুযোগ না থাকায় বাজারে চাঁদা আদায়,ভিক্ষাবৃত্তি ও যৌন কর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হয়।

সামাজিক নির্যাতনঃএকজন উভলিঙ্গ মানবকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হয় সমাজ থেকে। পাড়া-প্রতিবেশি,আত্মীয়-স্বজন, ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে শুনতে হয় নানা গঞ্জনা। শারিরীকভাবে পুরুষ এবং চালা-ফেরায় ও মানসিকভাবে নারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ছোট বেলাতেই লেখা-পড়া থেকে ঝড়ে পড়তে হয়।

ধর্মীয় নির্যাতনঃ ধর্ম পুরুষকে যে চোখে দেখে সেই চোখে নারী এবং উভলিঙ্গ মানবদের দেখতে পারে নি। প্রভাবশালী ধর্ম গুলোতে সব সময় পুরুষকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্ম সরাসরি শাস্তির বিধান না করলেও পুরুষের মতো প্রধান্য উভলিঙ্গ মানবদের দিতে পারে নি।ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্ম এদের যৌনতা রুখতে সডোমি আইন করেছে। বাংলাদেশে ৩৭৭ ধারা বিট্রিশ প্রণিত এ রকমই একটি আইন।যেখান নারী-পুরুষের যৌনতা ছাড়া সমস্থ্য যৌনতাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম উভলিঙ্গ মানবের প্রতি আরও কঠোর। ইসলামে এদেরকে জ্বীন ও মানুষের মিলিত সন্তান বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।তাদেরকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি হাদিস নিচে তুললে দেয়া হলঃ-
গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৩৪
৮৬/৩৩. গুনাহ্গার ও নপুংসকদের নির্বাসিত করা।
৬৮৩৪. ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন নারীরূপী পুরুষ ও পুরুষরূপী নারীদের উপর এবং বলেছেনঃ তাদেরকে বের করে দাও তোমাদের ঘর হতে এবং তিনি অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৭৩) . হয়ত ধর্মীয় এসব বিধানের কারণে বাংলাদেশে হিজরা শব্দটাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গালি হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

রাষ্ট্রীয় নির্যাতনঃ রাষ্ট্রের উচিৎ তাদেরকে নিরাপত্তা দান ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার। কিন্তু তা না করে নানা ক্ষেত্রেই বৈষম্য করেছে। জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ভোট দানের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বাইরে আলাদা কোন লিঙ্গ পরিচয় রাখা হয়নি। যার ফলে প্রায় সময় নানা সমস্যায় পড়তে হয় সংখ্যালঘু এই মানুষগুলোকে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও পূনর্বাসন ক্ষেত্রেও যথেষ্ট কোন উদ্যোগ এবং বরাদ্দ করা হয়নি। ২৮ জুলাই ২০১৩ তারিখের BBC BANGLA র একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে উভলিঙ্গ মানবদের দূর্দশার নানা চিত্র। বিস্তারিত দেখুন এখানে https://www.bbc.com/bengali/multimedia/2013/07/130728_fp_bd_hizra

আমাদের কিছু আবেদনঃ
১.নারী, পুরুষের বাইরেরও সমস্থ্য ভিন্ন লিঙ্গের মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দান ও তার বাস্তবায়ন।
২.সব রকম বৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. রাষ্ট্র কর্তৃক নিরাপত্তা দান করা।
৪.প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে সচেতন মূলক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫.নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬.সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে চাকুরির সুযোগ প্রদান।
৭.৩৭৭ ধারার মতো অযৌক্তিক আইনের বিলোপ সাধন।
৮.যৌন সংখ্যালঘুদের আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ দান।
৯.রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বন্ধ করা।
১০.পিছিয়ে পড়া যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও পূনর্বাসন ক্ষেত্রে যথাযথ বরাদ্দ গ্রহণ।
১১. সমাজের সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা ও সকলের মর্যাদা নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
পরিশেষে উপরোক্ত এগার দফা দাবি রাষ্ট্র ও সকল সচেতন মানুষের উদ্দেশ্যে পেশ করা হল।

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা সমকামীদের অধিকার

কত কাল ধরে চলবে এসব নির্যাতন?

Categories
অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ

ফতোয়াবাজি ১ম পর্ব

মুসলিমদের সবচেয়ে বৃহৎ শাখা হানাফী মাজহাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়ার কিতাব হচ্ছে ”ফতোয়ায়ে আলমগীরী”। সারা বিশ্বের চেয়ে ভারতবর্ষে এই কিতাবের মর্যাদা দুই পা এগিয়েই। এই মর্যাদাবান কিতাবের কিছু হাস্য ও রস্যময় কিছু ফতোয়া তুলে ধরছি। যা সকলের আনন্দের খোড়াক হবে বলে আশা করছি। তবে কেউ অনুভূতিতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তী হলে আমার করার কিছুই নেই।কারণ সত্য একটু নির্মমই হয়।

প্রথম পর্ব

১.যদি কেউ তার চার স্ত্রীর কোন একজনকে তিন তালাক প্রদান করে, অতপর কাকে তালাক দিয়েছে এ ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে এবং কেউ তালাকপ্রাপ্তা স্বীকার না করে তবে ঐ স্বামী তার কোন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে না। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২৭৬ পৃষ্ঠা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা) এতগুলো বিবি আর বিবাহ করার ব্যবসা শুরু করলে তো কাকে তালাক দিলো সেটা মনে না থাকাই স্বাভাবিক।

২.কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে যদি আমি তোমাকে তালাক না দেই তবে তুমি তালাক -এরুপ তিন বার বলারপর চুপ থাকে তাহলে স্তী তালাক হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ২৯৩ পৃ ইললামি ফাউন্ডশ ঢাকা ৃ)।মাইরাহালা, কোনদিকে যাবে এবার!

৩.যদি কেউ বলে তোমাকে সরিষা, শস্য কিংবা যবের দানা পরিমান তালাক তাহলে তালাক পতিত হবে। (ঐ ২৯৩ পৃ) শস্যকেও রেহাই দিল না মোল্লারা।

৪.কেউ যদি বলে তোমাকে বাইন তালাক, অবশ্যই তালাক, চল্লিশ তালাক, শয়তানি তালাক, বিদআতী তালাক, কঠিন তালাক, পর্বতসম তালাক, মারাত্মক তালাক,প্রশস্ত অথবা লম্বা তালাক তাহলে এক তালাক হবে। (ঐ ২৯৪পৃ) মোল্লাদের মুখে লাগাম থাকে না যখন তার বক্তিতা শুরু করে।এ ক্ষেত্রেও না থাকা স্বাভাবিক।

৫.স্বামী স্ত্রীকে বললো আমি তোমার তালাক বিক্রি করে দিয়েছি। তারপর স্ত্রী বললো আমি তা খরিদ নিলাম। এতেই তালাকে রজঈ পতিত হবে। (ঐ ৩০৫ পৃ)। এবার শেষমেশ তালাকও কেনা বেচা হয়!

৬.এক ব্যক্তি স্ত্রীকে বললো, যখনই আমি ভাল কথা বলবো তখনই তুমি তালাক। অতপর সে সুবহানআল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাহলে এক তালাক হবে। আর ওয়া বাদ দিলে তিন তালাক হবে। (ঐ ৩৯৬ পৃ) বোঝ ঠেলা, এবার ভাল কথা বলাও ছেড় দেন!

৭.এক ব্যক্তি দুই মহিলাকে, যাদের সে মালিক নয়, আমি যদি তোমাদেরকে বিবাহ করি তবে তালাক। তরপর বিবাহ করলে তালাক পতিত হল। (ঐ ৪১৬ পৃ)। লে হালুয়া, বিয়ের আগেই তালাক।

৮.এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল যদি আমি অমুক মহিলার সাথে এক হাজার বার সহবাস না করি তবে তুমি তালাক। (ঐ ৪২৯ পৃ)। যা বাবা সহবাস কর,তবু উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাস নে।

 

….(চলবে)

Categories
NEWS অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ

ফতোয়াবাজি ২য় পর্ব

৯. কেউ যদি তার স্ত্রীদেরকে সম্মোধন করে বলে, তোমাদের যার জননেন্দ্রিয় অধিক প্রশস্ত হবে তাকে ত্বালাক। তাহলে তাদের মধ্যে যে হালকা পাতলা তার উপর ত্বালাক পতিত হবে।( আলমগিরি)
মন্তব্যঃ হুজুরদের হালি হালি বউ থাকলে থাকলে যা দশা হয় আর কি।

১০. একজন ব্যক্তিকে তার স্ত্রী মদ পান করার কারণে ভৎসনা করল। অতপর সে বলল আমি যদি স্থায়ীভাবে মদ পান ছেড়ে দেই তবে তুমি ত্বালাক।( আলমগিরি পৃষ্ঠা ৪৪৬)
মন্তব্যঃ স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে মনে করলে তার কাছে উপদেশ গ্রহণ কখনই মেনে নিতে পারবে না মোমিন সমাজ এটাই প্রমাণিত।

১১. কোন এক মহিলা ঘরের কামড়ায় বসে কাঁদছিল। তখন তার স্বামী তার শ্বশুরকে বলল যদি আপনার কন্য এ কামরা থেকে বের হয়ে অন্যত্র গিয়ে না কাঁদে তবে সে ত্বালাক। তারপর তার স্ত্রী অন্য কামরায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্না যদি কেউ শুনতে পায় তবে সে ত্বালাক। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৫৫)
মন্তব্যঃ মুমিনীয় স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এই ফতোয়াটি বেশ কার্যকর হবে।

১২. এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করার পর ঐ মহিলার পরিবার এতে অসম্মত হয়। কারণ তার অন্য এক স্ত্রী আছে। তারপর সে তার স্ত্রীকে নিয়ে কবরস্থানে বসিয়ে রেখে এসে ঐ পরিবারে গিয়ে বলল আমার কবর স্থানের স্ত্রী ব্যতিত অন্য সব স্ত্রী ত্বালাক। এতে তারা মনে করল তার কোন স্ত্রী জীবিত নাই। ফলো ঐ মহিলাকে বিবাহ দিলো। তাহলে বিবাহও সহিহ হবে এবং প্রতিজ্ঞাও মিথ্যা হবে না। (ঐ পৃঃ ৪৫৭)
মন্তব্যঃ যৌনতার জন্য মোল্লারা যে কতটা নিখৃষ্ট ছলছাতুরির আশ্রয় নিতে পারে এটাই তার প্রমাণ।

১৩. এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল আমি যদি তোমার সন্তানকে মেরে দু টুকরো না করি তবে তুমি তিন ত্বালাক। তারপর সন্তানকে যমিনে ফেলে মারল কিন্তু দু টুকরা হল না তবে ঐ মহিলার উপরে তিন ত্বালাক পতিত হবে। ( ঐ পৃঃ ৪৬২)
মন্তব্যঃ শিশু নির্যাতনে সেরা মোল্লাদের দ্বারা এটাও অসম্ভব কিছু না।

১৪.স্বামী তার স্ত্রীকে বলল যদি দুপুরের সময় বাজারের মধ্যে সহবাস না করি তবে তোমাকে ত্বালাক। তবে এক্ষেত্রে কৌশল হবে স্ত্রীকে পালকিতে করে বাজারে নিয়ে গিয়ে পালিকের মধ্যে সহবাস করতে হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৩১)
মন্তব্যঃ কামুক মোহাম্মাদের কামুক মোল্লাদের দ্বারা এটাই আশা করা যায়।

১৫. কেউ যদি বলে, আমি ত্বালাকের শপথ করে বলতেছি যে আমি মদ পান করব না। অতঃপর মদ পান করলে তার স্ত্রী ত্বালাক হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ১৭১)
মন্তব্যঃ মুমিনগণ স্ত্রীকে কি চোখে দেখে এই ফতোয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়।

চলবে…….

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ রাজনীতি

ফতোয়াবাজিঃ- শেষ পর্ব

আজকের এই পর্বে আমারা ইসলামি মিথ্যাচার তুলে ধরব। মোল্লারা নিজদেরকে রক্ষার জন্য কত পাল্টিবাজ হতে পারে তা আজকের পর্বে ফতোয়ার কিতাব থেকে তুলে ধরছি:-
১. কেউ কসম করে বলল সে রুটি খাবে না। তারপর সে রুটি শুকিয়ে গুড়া করে তাতে পানি মিশিয়ে পান করলে তার কমস ভঙ্গ হবে না। কিন্ত রুটি যদি পানিতে ভিজিয়ে খায় তবে কসম ভঙ্গ হবে। ( ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ই ফা বা, পৃষ্ঠা ২২৬)
মন্তব্যঃ মোল্লারা নিজেদের মগজে যে কি রকম পাল্টিবাজ জ্ঞান ধারণ করে এটা তার উদাহরণ মাত্র।
২. কোন ব্যক্তি কসম করল  যে সে তরমুজ খাবে না।  অতপর ছোট কাচা তরমুজ ভক্ষণ করল তাহলে ফকিহদের মতে কসম ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ২২৮)
মন্তব্যঃ কাচা তরমুজ কিন্তু তরমুজ নয়, এটা মোল্লাতান্ত্রিক বিজ্ঞান।
৩. কেউ তার স্ত্রীকে বলল, আজ আমি যদি তোমাকে প্রহার না করি তবে তুমি ত্বলাক। এরপর স্বামী তাকে মারতে চাইলে তখন মহিলা বলল, তোমার শরীরের কোন অঙ্গ আমার কোন অঙ্গের সাথে স্পর্শিত হয় তবে আমার গোলাম আযাদ। এরপর সে তার গায়ে হাত দেয়া ব্যতিরেকে লাঠি দ্বারা তাকে প্রহার করে তাহলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে।(ঐ পৃষ্ঠা ৩৪১)
মন্তব্যঃ বাহ্! হাতের বদলে লাঠি। মোল্লাদের বুদ্ধি আছে বৈকি।
৪. এক ব্যক্তি প্রতিজ্ঞা করল, সে হাারাম কাজ করবে না।অতপর সে ফাসিদ তরীকায় বিবাহ করলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে না। এমনিভাবে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌোনাচার করলেও তা ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ৩৬৫)
মন্তব্যঃ চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌনচারকেও সহিস পদ্ধতিতে বৈধতা দিয়েছিল মোল্লারা।
৫. যদি মহিলা ঘুমন্ত কোন পুরুষকে নিজের সাথে যিনা করার সুযোগ প্রদান করে তাহলে তাদের উপর হদ্দ ওয়াজিব হবে না। ( ঐ পৃঃ ৩৯৬)
মন্তব্যঃ হুজুরা তাহলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করে? এই ফতোয়া অবশ্য আমাদের নবী মোহাম্মাদের জীবনের উপর গবেষণা করে দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করেছে আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে মেরাজ করেছে। উম্মে হানি ছিল সেই ডানাওয়ালা ঘোড়া।
প্রিয় পাঠক, গত পর্ব গুলোতেও ইসলামী নানা ভন্ডামো তুলে ধরা হয়েছে। শুধু ইসলামই নয় প্রত্যেক ধর্মই ভন্ডামোতে পরিপূর্ণ। যে ব্যক্তি যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবারের লালিত বিশ্বাসকেই সর্বসেরা মনে করে। অথচ কখনই সেই বিশ্বাস পর্যালোচনা করে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। যারা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে শিখেছে তারাই ওসব বিশ্বাসকে ছুড়ে ফেলতে শিখেছে। যারা অন্ধ বিশ্বাস ও গোড়ামি থেকে বেড়িয়ে এসে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে তারাই হচ্ছে নাস্তিক। ধর্ম ত্যাগ করার জন্য ধর্ম গ্রন্থের একটি ভুলই যথেষ্ট।কারণ ধর্মগ্রন্থগুলো নির্ভল দাবি করে। আর একটি ভুল খুজে পাওয়া মানেই সেই দাবিও মিথ্যা হয়ে যায়। ইসলামী বিশ্বাস থেকে এতগুলো ভন্ডামি তুলে ধরার পরেও যদি কেউ ইসলামকে নির্ভল দাবি করে তবে তাকে করুণার চোখে দেখব। কারণ পাগলকে করুণার চোখেই দেখা উচিৎ। আর যাদের সামন্যতম জ্ঞান আছে তাদের কাছে আশা করি তারা দ্রুত ইসলাম থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।