Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

“উভলিঙ্গ মানব” কিছু কথা ও কিছু দাবি

পুরুষ এবং নারী এই দুই লিঙ্গের বাইরেও আরও লিঙ্গ আছে। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না। জানবই বা কেমন করে? কেননা নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গের মানুষদের আমরা কখনই স্বাভাবিক চোখে দেখি নি। এর কারণ ধর্ম এবং সংকীর্ণ চিন্তাধারার সমাজ ব্যবস্থা আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে সব সময় ভুল তথ্য দিয়ে এসেছে।

আমাদেরকে শেখানো হয়েছে নারী এবং পুরুষের বাইরে কোন লিঙ্গ হতে পারে না। নারী এবং পুরুষের বাইরে অন্য লিঙ্গ বৈচিত্র্যকে আমরা সব সময় অস্বীকার করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে দামিয়ে রাখতে চাইলেও তা সম্ভব হয় নি। এ রকমই একটি লিঙ্গ বৈচিত্র্য হচ্ছে উভলিঙ্গ।

উভলিঙ্গ হচ্ছে একই সঙ্গে দুই লিঙ্গেরই সহাবস্থান। বাংলাদেশে উভলিঙ্গ মানবদের হিজরা বলে সম্মোধন করা হয়। উভলিঙ্গত্ব প্রকৃতিতে একেবারে বিরল কিছু নয়। আফ্রিকার নিশাচর স্ত্রী হায়েনাদের মধ্যে এ রকম উভলিঙ্গ দেখা যায় । বুশ বেবী, স্পাইডাই মাম্কি, উলি মাম্কি মধ্যেও উভলিঙ্গত্ব বিদ্যমান ( Joan Roughgarden, Evolution’s Rainbow: Diversity, Gender, and Sexuality in Nature and People, University of California Press, May 17, 2004)।

বিভিন্ন প্রজাতির কাকড়া ও প্রজাপতির মধ্যেও এরকম দেখা যায়। একজন ব্যক্তির উভলিঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহণের পিছনে নিজের কোন হাত থাকে না। এ বিষয়ে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে ক্রোমোজোমের ত্রূটি কারণে যাদের জন্মপরবর্তী লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়, মূলত তারাই উভলিঙ্গ মানব। এদের শারীরিক গঠন ছেলেদের মতো হলেও মন-মানসিকতায় আচার আচরণে সম্পূর্ণ নারীর মতো (she-male)।

উভলিঙ্গ মানবদের বৈশিষ্ট্যগতভাবে দুইটি ধরন রয়েছে, নারী ও পুরুষ। নারী উভলিঙ্গ মানবদের মধ্যে নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য থাকলেও স্ত্রীযৌনাঙ্গ না থাকায় তার শারীরিক গঠন আলাদা। পুরুষ উভলিঙ্গ মানবদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। শারীরিকভাবে পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে নারী স্বভাবের উভলিঙ্গদের বলা হয় ‘অকুয়া’। অন্য উভলিঙ্গদের বলা হয় ‘জেনানা’। উভলিঙ্গ মানব থেকে উভলিঙ্গ মানবের জন্ম হয় না। একটি বিসমকামী দম্পতি থেকে উভলিঙ্গ মানবের জন্ম হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী মাতৃগর্ভে একটি শিশুর পূর্ণতা প্রাপ্তির ২৮০ দিনের মধ্যে দুটো ফিমেল বা স্ত্রী ক্রোমোজোম X – X প্যাটার্ন ডিম্বানু বর্ধিত হয়ে জন্ম হয় একটি নারী শিশুর এবং একটি female chromosome X ও একটি male chromosome Y মিলে X-Y প্যাটার্ন জন্ম দেয় পুরুষ শিশুর। ভ্রূণের পূর্ণতা প্রাপ্তির একটি স্তরে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে পুরুষ শিশুর মধ্যে অণ্ডকোষ এবং মেয়ে শিশুর মধ্যে ডিম্বকোষ জন্ম নেয়। অণ্ডকোষ থেকে নিঃসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্বকোষ থেকে নিঃসৃত হয় এস্ট্রোজন। পরবর্তী স্তরগুলোতে পুরুষ শিশুর যৌনাঙ্গ এন্ড্রোজেন এবং স্ত্রী শিশুর যৌনাঙ্গ এস্ট্রোজনের প্রভাবে তৈরি হয়। ভ্রূণের বিকাশকালে এই সমতা নানাভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। প্রথমত ভ্রূণ নিষিক্তকরণ এবং বিভাজনের ফলে কিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সূচনা হতে পারে। যেমন X-Y-Y অথবা X-X-Y।

X-Y-Y প্যাটার্নের শিশু দেখতে নারী-শিশুর মতো। কিন্তু একটি এক্সের অভাবে এই প্যাটার্নের স্ত্রী-শিশুর সব অঙ্গ পূর্ণতা পায় না। একে স্ত্রী-উভলিঙ্গ মানব বলে। আবার X-X-Y প্যাটার্নে যদিও শিশু দেখতে পুরুষের মতো, কিন্তু একটি বাড়তি মেয়েলি ক্রোমোজম এক্সের জন্য তার পৌরুষ প্রকাশে বিঘ্নিত হয়। একে পুরুষ উভলিঙ্গ মানব বলে। উভলিঙ্গ হয়ে জন্ম গ্রহণ করার পিছনে উক্ত ব্যক্তির কোন ভূমিকা না থাকলেও সমাজে সহ্য করতে হয় নানা অবহেলা ও নির্যাতন। নির্যাতনের কিছু চিত্র নিচে তুলে ধরা হলঃ

পারিবারিক নির্যাতনঃ একটি উভলিঙ্গ সন্তানকে নিয়ে তার পরিবার সব সময় হিনমন্যতায় ভোগে। এই শিশুকে নিজেদের জন্য অভিশাপ মনে করে। ফলে নানা সময় শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পদ থেকেও বঞ্চিত করে। এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজ গোত্রভুক্ত একজনকে প্রধান করে গড়ে তোলে একটি গোষ্ঠি। যাকে আমরা হিজরা গোষ্ঠি বলি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হয়। কাজের সুযোগ না থাকায় বাজারে চাঁদা আদায়,ভিক্ষাবৃত্তি ও যৌন কর্মী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হয়।

সামাজিক নির্যাতনঃএকজন উভলিঙ্গ মানবকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হয় সমাজ থেকে। পাড়া-প্রতিবেশি,আত্মীয়-স্বজন, ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে শুনতে হয় নানা গঞ্জনা। শারিরীকভাবে পুরুষ এবং চালা-ফেরায় ও মানসিকভাবে নারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ছোট বেলাতেই লেখা-পড়া থেকে ঝড়ে পড়তে হয়।

ধর্মীয় নির্যাতনঃ ধর্ম পুরুষকে যে চোখে দেখে সেই চোখে নারী এবং উভলিঙ্গ মানবদের দেখতে পারে নি। প্রভাবশালী ধর্ম গুলোতে সব সময় পুরুষকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্ম সরাসরি শাস্তির বিধান না করলেও পুরুষের মতো প্রধান্য উভলিঙ্গ মানবদের দিতে পারে নি।ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্ম এদের যৌনতা রুখতে সডোমি আইন করেছে। বাংলাদেশে ৩৭৭ ধারা বিট্রিশ প্রণিত এ রকমই একটি আইন।যেখান নারী-পুরুষের যৌনতা ছাড়া সমস্থ্য যৌনতাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম উভলিঙ্গ মানবের প্রতি আরও কঠোর। ইসলামে এদেরকে জ্বীন ও মানুষের মিলিত সন্তান বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।তাদেরকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি হাদিস নিচে তুললে দেয়া হলঃ-
গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮৬/ দন্ডবিধি (كتاب الحدود)
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৩৪
৮৬/৩৩. গুনাহ্গার ও নপুংসকদের নির্বাসিত করা।
৬৮৩৪. ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নত করেছেন নারীরূপী পুরুষ ও পুরুষরূপী নারীদের উপর এবং বলেছেনঃ তাদেরকে বের করে দাও তোমাদের ঘর হতে এবং তিনি অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৭৩) . হয়ত ধর্মীয় এসব বিধানের কারণে বাংলাদেশে হিজরা শব্দটাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গালি হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

রাষ্ট্রীয় নির্যাতনঃ রাষ্ট্রের উচিৎ তাদেরকে নিরাপত্তা দান ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার। কিন্তু তা না করে নানা ক্ষেত্রেই বৈষম্য করেছে। জাতীয় পরিচয় পত্র এবং ভোট দানের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বাইরে আলাদা কোন লিঙ্গ পরিচয় রাখা হয়নি। যার ফলে প্রায় সময় নানা সমস্যায় পড়তে হয় সংখ্যালঘু এই মানুষগুলোকে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও পূনর্বাসন ক্ষেত্রেও যথেষ্ট কোন উদ্যোগ এবং বরাদ্দ করা হয়নি। ২৮ জুলাই ২০১৩ তারিখের BBC BANGLA র একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে উভলিঙ্গ মানবদের দূর্দশার নানা চিত্র। বিস্তারিত দেখুন এখানে https://www.bbc.com/bengali/multimedia/2013/07/130728_fp_bd_hizra

আমাদের কিছু আবেদনঃ
১.নারী, পুরুষের বাইরেরও সমস্থ্য ভিন্ন লিঙ্গের মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দান ও তার বাস্তবায়ন।
২.সব রকম বৈষম্য দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. রাষ্ট্র কর্তৃক নিরাপত্তা দান করা।
৪.প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে সচেতন মূলক প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫.নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬.সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে চাকুরির সুযোগ প্রদান।
৭.৩৭৭ ধারার মতো অযৌক্তিক আইনের বিলোপ সাধন।
৮.যৌন সংখ্যালঘুদের আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ দান।
৯.রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বন্ধ করা।
১০.পিছিয়ে পড়া যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও পূনর্বাসন ক্ষেত্রে যথাযথ বরাদ্দ গ্রহণ।
১১. সমাজের সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা ও সকলের মর্যাদা নিয়ে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
পরিশেষে উপরোক্ত এগার দফা দাবি রাষ্ট্র ও সকল সচেতন মানুষের উদ্দেশ্যে পেশ করা হল।

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ সমকামীদের অধিকার

” আমরা কি রূপে প্রকৃতির বিরুদ্ধে আছি ব্যাখ্যা দেবেন প্লিজ?”

সৃষ্টির শুরু থেকে সমকামীরা ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। বিষমকামী মানুষ দ্বারা সন্তান উৎপাদন সম্ভব কথা সত্যি, তাই বলে সন্তান উৎপাদন ই যে যৌন মিলন এর একমাত্র কারণ এ কথা কে বলেছে? উষ্ণতা থেকে ও হয় যৌন মিলন। ভালোবাসা প্রকাশের একমাত্র উপায় কি শুধু যৌনতা? কখনোই না। তাছাড়া ব্যক্তি বিশেষে যৌন মিলন এর আচরণ, রুচি এবং কে কিভাবে সন্তুষ্টি লাভ করেন তাতেও অনেক পার্থক্য রয়েছে, এর কারণ, মানুষ মাত্রই বিচিত্র প্রাণী । আপনি, আপনার আসে পাশে, বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের হার দেখে তা আরো স্পষ্ট বুঝে নিতে পারেন। আমি নিশ্চিত, বিষমকামী দের বেলায় এই সত্য মেনে নিতে আপনার কোনো দ্বিধা নেই, তবে সমপ্রেমী দের বেলায় কেন না?

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন ‘আপনারা কেন সমকামী?’

পুরুষ fetuses তাদের Y chromosome এ নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন বহন করে, তাকে H-Y antigen বলা হয়। কিছু antigen পুরুষের বিষমকামী অভিযোজনের বিকাশকে উৎসাহিত করে, কারণ H-Y antigen মায়ের দেহে উপস্থিত থাকে না এবং তারা মাতৃভিত্তিক antibody উৎপাদনে ট্রিগার করে। এই অ্যান্টিবডি H-Y antigen এর সাথে যুক্ত হয়ে antibody ‘র স্বাভাবিক ক্রিয়া তে বাধা সৃষ্টি করে।

যদি H-Y antigen কার্যকর না হয়, তাহলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের “বিষমকামী” সংকেত কখনও ফুটে উঠবে না।

”Male fetuses carry male-specific proteins on their Y chromosome, called H-Y antigens. Some of these antigens promote the development of heterosexual orientation in males … Because these H-Y antigens are not present in the mother’s body, they trigger the production of maternal antibodies. These antibodies bind to the H-Y antigens and prevent them from functioning.

With the H-Y antigens not functioning, it could be that the “be straight” signal in the fetus’s brain never flicks on”

Source

এমন আরো বৈজ্ঞানিক বেখ্যা রয়েছে। ঠিক যেভাবে আমাকে প্রশ্ন করেছেন, simply google search করে homosexuality বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন।

” আচ্ছা একজোড়া সমকামী কি কখনো একটা বাচ্ছা উৎপাদন করতে পারবে? ”

যে সন্তান আজকে জম্ন নিয়েছে, সে ই তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আমি এমন বহু বিষমকামী দম্পতি দেখেছি যারা সন্তান জন্মদানে সম্পর্ণরূপে সক্ষম , কিন্তু তারা নতুন একটি জীবন পৃথিবীতে আনার চেয়ে যে সন্তানেরা ইতিমধ্যে জন্ম নিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যের শিকার তাদের দত্তক নিচ্ছেন, তাদের কে পৃথিবীতে চলার মতো যোগ্য করে তুলতে সাহায্য করছেন। তারা এই কাজটা কেন করছেন বলে আপনার মনে হয়? খুব সহজ ভাবে কারুনগুলো খুজুন, কি কি হতে পারে সেসব কারণ – একটি জীবন সুন্দর ভাবে যাপন হোক তা নিশ্চিত করা? নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী সেই সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা? সমাজে ভারসম্য আনা? জনসংখ্যায় ভারসম্য আনা? এতে করে আসলে লাভ কার হচ্ছে? কারো কি ক্ষতি হচ্ছে? আপনার ঊত্তর হবে – না, কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, বরং এটি উদারতা। এই উদারতা সমপ্রেমীদের বেলায় মেনে নিতে আপনাদের আপত্তি কোথায়?

” যদি না পারে তো ভবিষ্যত প্রজন্মে আপনাদের অনুসারীরা লেসবিয়ান, হে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার হলে সঙ্গী কোথায় পাবেন। সেক্সডল ব্যাবহার করবেন? ”

lesbean , gay এবং bisexual দের সঙ্গীর অভাব না কোনোদিন আগে ছিল, আছে, না ভবিষ্যতে কোনোদিন থাকবে। যতদিন মানবকুল এর অস্তিত্ত্ব রয়েছে ততদিন তাদের সঙ্গীর অভাব হবে না।

১৯০৮ সালের ও আগে ডাচ নাবিকেরা সেক্স ডল আবিষ্কার করেছিলেন তাদের সামুদ্রিক জীবনের একাকিত্ব এবং জৈবিক প্রয়োজন পূরণ করবার জন্যে, তারা কি বিষমকামী ছিলেন না সমকামী? আপনাদের কেন ধারণা যে সমপ্রেমীরা ই একাকিত্বে ভুগবে বিষমকামী রা না?

বিষমকামী হয়েও কি খুব সহজে জীবনসঙ্গী পেতে সক্ষম আপনারা? হা সঙ্গী পাওয়া আপনার জন্য কিছুটা সহজ যেহেতু এই যৌনতা বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। সমপ্রেমীরা স্বীকৃতি পেলে তারা খুব সহজেই বিয়ের সঙ্গী পাবেন, আর মন মতো যারা পাবে না তাদের কেউ কেউ একাকিত্বের কিছু মুহূর্ত না হয় কাটাবেন। ঠিক যেমন টা কিছু বিষমকামীরা কাটান!

ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী যদি আপনার মতের অমিল থাকে, ১৫০০ বছর আগের এমন অনেক কিছুই আছে যা আজকে দিনে বাস্তবায়ন সম্ভন না, যেমন ৬ বছরের শিশু কে বিয়ে করে ৯ বছরে তার সঙ্গে যৌন মিলন করা। কারণ plain and simple , it is a crime TODAY . চাইলে আরো অনেক কিছু বলা যেতে পারে যা আমি এই মুহূর্তে নাই বললাম, ঠিক তেমনি আজকের বৈজ্ঞানিক অবদান এবং প্রসারতার ফলে যে জিনিসগুলো সামনে চলে এসেছে তা যতই আপনারা মোমিন হন , যতই বলেন ইসলাম বৈজ্ঞানিক ধর্ম , কৈ এই scientific exlanation গুলো তো ইসলাম এ নাই। বাল্যবিবাহ আইন করার অর্থ যেহেতু আপনারা ইসলাম এর সংস্কার হিসেবে দেখছেন না, সমকামীদের সমঅধিকার আইন প্রতিষ্ঠায় আপনাদের আপত্তি কেন?

সব শেষ প্রশ্ন
আমরা কি রূপে প্রকৃতির বিরুদ্ধে আছি ব্যাখ্যা দেবেন প্লিজ।

উত্তর
আপনারা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মানুষ কে তার প্রাকৃতিক অনুভূতি, আর ভালোবাসার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাচ্ছেন। আশা করি উপরের আলোচনায় আপনি ব্যাখ্যা পেয়েছেন।

তাসনুভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ সমকামীদের অধিকার

সমকামিতা নাকি সমকামী বিদ্বেষীতা রোগ?

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা সমকামীদের অধিকার

কত কাল ধরে চলবে এসব নির্যাতন?

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বই বাংলাদেশ রাজনীতি সমকামীদের অধিকার

অপরাধ, স্বাধীনতা এবং সমকামিতা

আমাদের সমাজে সমকামীদের অস্তিত্ব নতুন কিছু নয়। হ্যা, এটা ঠিক যে বিশাল একটা সময় ধরে সমকামীদের আত্মগোপন করে রাখতে হয়েছে নিজেদের যৌন প্রবৃত্তিকে। কেউ কোনভাবে প্রকাশিত হয়ে গেলে পেতে হয়েছে নির্মম শাস্তি।

আমাদের পরিচিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিকেই শাস্তি পেতে হয়েছে নিজের যৌন প্রবৃত্তির কারণে। দীর্ঘ সময় ধরে সমকামীদের শুনতে হয়েছে নানা বাজে তকমা। এখন আস্তে আস্তে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হচ্ছে। ফলে সমস্ত যৌন সংখ্যালঘু মানুষরা তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে। এই জানান দিতে গিয়ে সেকেলে চিন্তাধার কিছু বিরুদ্ধবাদীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজকাল সমকামিতা নিয়ে যারা সামন্যতম পড়াশুনা করেছেন তাদের মুখে সমকামীরা বিকৃত মস্তিস্কের, আধুনিকতার তৈরী, প্রকৃতি বিরুদ্ধ, প্রাণী জগতে সমকামিতা নেই, এ’রকম মন্তব্যগুলো আর তেমন শোনা যায় না। কারণ সমকামীরা যে সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক এ নিয়ে অনেক গবেষণার প্রতিবেদন বের হয়েছে – সমকামিতা যে আধুনিক যুগের তৈরি নয় বরং মানব জাতির উদ্ভবের ঊষালগ্ন থেকেই ছিল তা নিয়ে ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে, প্রকৃতি সমকামীদের কিভাবে টিকিয়ে রাখছে তা আজ স্পষ্ট।

প্রাণী জগতে যে সমকামিতা ছড়িয়ে আছে তা নিয়ে অনেক প্রামাণ্যচিত্র তৈরী হয়ে আছে। সমকামবিদ্বেষীদের কাছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি বিষয় হচ্ছে সমকামী যৌনতায় বাচ্চা উৎপাদন হয় না। বিজ্ঞান তাদের এই মাথা ব্যাথার জবাব দিতেও প্রস্তত। কিন্তু যারা যৌনতার উদ্দেশ্যকে শুধু মাত্র বাচ্চা উৎপাদন হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা নিজেরাই কেন সেই উদ্দেশ্যকে লঙ্ঘন করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ এবং কন্ডম ব্যবহার করতে ব্যস্ত তা আমার বোধগম্য নয়। বরং তাদের উচিৎ ছিল বছর বছর বাচ্চা জন্ম দিয়ে উদ্দেশ্যকে সফল করা। এদের যুক্তি মানতে হলে বিষমকামী দম্পতিদের মধ্যে যারা বন্ধ্যা, তাদেরকে ফাঁসি দিতে হবে, বাচ্চা জন্মদানের বয়স শেষ হলে আর যৌনতা করা যাবে না । কিন্তু শুধু মাত্র সমকামীদের ক্ষেত্রেই তাদের দ্বিচারিতা তাদের নৈতিক আদর্শকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সমকামবিদ্বেষীদের এত সব বাহানার জবাব দেয়ার পরও কেন সমকামীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নত করা হবে? কেন তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে?

অপরাধ এবং স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে ভয়াবহ ধরণের অজ্ঞতা। আর এই অজ্ঞতার কারণে আজও এদের মুখে শুনতে হয় “সমকামীদের স্বাধীনতা দিলে চোর-ডাকাতকেও স্বাধীনতা দিতে হবে” জাতীয় আজগুবি কথাবার্তা। দেশ অনুযায়ী অপরাধের ধারণা ভিন্ন হলেও একটি মৌলিক বিষয়ে সকলে একমত যে অপরাধ হিসেবে সেই কাজটাকে চিহ্নিত করা হবে যে কাজটা কর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর। এই ধারণা মতে চোর-ডাকাত অন্যের ক্ষতি করছে এজন্য এটি অপরাধ। কিন্তু একজন ব্যক্তি কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিলে সুখী হবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে তার নিজের ক্ষতিও হচ্ছে না, অপর কারও ক্ষতিও হচ্ছে না। বরং কেউ যদি একজন ব্যক্তির ব্যক্তি জীবনে হস্তক্ষেপ করে তাকে হেনস্তা করে, সেটাই অপরাধ। এই হিসেবে সমকামবিদ্বেষ একটি অপরাধ।

সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটা বিবেচ্য বিষয় হবে যে এতে কি দু’জন ব্যক্তিই সম্মত এবং অপর কারও সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে কি না। এই হিসেবে পশুকামিতা অপরাধ হতে পারে, শিশুকামিতা অপরাধ হতে পারে। কারণ পশু এবং শিশু সম্মতি দিতে অক্ষম। আবার একজন শিশু সম্মতি দিলেও সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ মতামত দেয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট বয়স হওয়া প্রয়োজন।

দু’জন ব্যক্তি কারও কোন ক্ষতি না করে নিজেদের ভাল থাকার জন্য সমলিঙ্গের কাউকে জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলে সেটা অপরাধ হয় কি করে? এখন হয়তো ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে আনা হবে। ধর্ম এটাকে পাপ বা অপরাধ বলেছে। আচ্ছা এক ধর্ম তো অন্য ধর্ম পালন করাকে পাপ বলেছে, অন্য ধর্মের মানুষদের পাপী বলেছে। তা এখন কি করবেন? অন্য ধর্মকে পালন নিষিদ্ধ করবেন? অন্য ধর্মের মানুষদেরকে হত্যার আইন করবেন? আপনার ধর্মের বিধান তাদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে পালন করতে বাধ্য করবেন?

যদি না করেন তাহলে আপনার এই পাপ বোধের ধারণা কেন শুধু সমকামীদের উপরে চাপিয়ে দিবেন? আপনার ধর্মে পাপ বলেছে তো আপনি করবেন না, ব্যাস ঝামেলা মিটে গেল। আপনাকে কেউ বাধ্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু আপনার কোন রকম ক্ষতি না করার পরও কেন আপনি শুধু আপনার বিশ্বাস পালনের জন্য দু’জন মানুষের ব্যক্তি জীবনে ঢুকে পড়বেন?

এবার স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার দিকে আসি। এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করবো।

অপরাধ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ আপনি সেই ব্যক্তিস্বাধীনতাটাই ভোগ করতে পারবেন যেটা অপরাধ নয়। একজন চোর, ডাকাত বা খুনির কাজ হচ্ছে অপরাধমূলক। তার এই অপরাধমূলক কাজগুলো ব্যক্তিস্বাধীনতা নয়। কিন্তু সমকাম এ’রকম কিছু নয় বরং নিজেদের মধ্যেকার যৌন প্রবৃত্তি। অতএব নিজেদের যৌন প্রবৃত্তি চারিতার্থ করার অধিকার দু’জন ব্যক্তির আছে। এর পরেও যারা সমকামিতা এবং চুরি ডাকাতিকে গুলিয়ে ফেলেন তাদেরকে আমি সবচেয়ে অজ্ঞ শ্রেণীর বলেই মনে করি।

সমকামীরা যেহেতু মানুষ তাই তাদেরও যৌন প্রবৃত্তি আছে। শুধু পার্থক্য এটাই যে বিষমকামীদের আকর্ষণ বিপরীত লিঙ্গের দিকে আর সমকামীদের আকর্ষণ সমলিঙ্গের দিকে। এই সমলৈঙ্গিক আকর্ষণ একজন সমকামী ব্যক্তি নিজে তৈরী করেনি, যেমনটা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বিষমকামীরা নিজেরা তৈরী করেনি।

এই আকর্ষণবোধ তৈরী করে শরীরবৃত্তিয় কিছু বৈশিষ্ট। একজন বিষমকামী থেকে একজন সমকামীর এই বৈশিষ্টগুলো (মস্তিস্কের গঠন, জেনেটিক প্যাটার্ন, হাইফোথেলমাস, হরমোনের ভিন্নতা) আদালা হওয়ার কারণে এই আকর্ষণটা সমলিঙ্গের দিকে যায়।

একজন বিষমকামী ব্যক্তি তার আকর্ষণ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি হওয়াতে বিপরীত লিঙ্গের সাথে যৌনতার স্বাধীনতা পেলে, সমকামীরা তাদের আকর্ষণ সমলিঙ্গের প্রতি হওয়াতে সমলিঙ্গের সাথে যৌনতা করতে পারবে না কেন? একজন বিষমকামী ব্যক্তিকে সমলিঙ্গের সাথে বিবাহ দিয়ে সমকামিতা করালে যতটা কষ্ট পাবে ঠিক একজন সমকামী ব্যক্তিকে বিপরীত লিঙ্গের সাথে বিবাহ দিয়ে বিষমকামিতা করালে ততটাই কষ্ট পাবে।

পরিশেষে বলব অপরকে বিচার করার আগে সেই বিচারটা নিজের উপরে করুন। তারপর যদি মনে হয় এই বিচারটা আপনার প্রতি ন্যায় হয়েছে তবেই সেটা অপরের প্রতি প্রয়োগ করুন।

Categories
অন্যান্য বাংলাদেশ

পুরুষ হয়ে উঠতে পারি নি বলে

বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে শিশু জন্ম নেয়া এক দারুণ ব্যপার বটে। কারণ সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে। হ্যা, জানার আগ্রহটা দোষনীয় নয়। তবে গর্ভবতী মহিলার শাশুড়ির একটা আবেদন থাকে ছেলের বৌ এর প্রতি যেন বাচ্চাটা ছেলেই হয়।
বাচ্চাটা ছেলে হলে আনন্দ করে আযান দেয়া হয়,পুরো মহল্লায় চলে মিষ্টি বিতরণ। কিন্তু মেয়ে বাচ্চা হলে  মুখ হয়ে ওঠে আষাঢ়ের কালো মেঘ। বাড়ির মুরুব্বিদের মুখে শোনা যায় কষ্টের অনুভূতি জড়িত কথা, ” জন্ম মৃত্য আল্লাহ্ পাকের হাতে, তার ইচ্ছা তো মেনে নিতেই হবে”।
অনেক পরিবারে তো স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয় শুধু মাত্র মেয়ে শিশু জন্ম দেয়ার কারণে। আজকাল শহরে হয়ত এটা কমেছে কিন্তু গ্রামে কিন্তু কমার বদলে বেড়েছে। সন্তান জন্মানোর পর সমাজ তাদের আচরণ নির্ধারণ করে দিতে আসে। পুরুষকে হতে হবে বীর আর মেয়েদের হতে হবে লজ্জাবতী। পুরুষ যা ইচ্চা করে বেড়াবে আর মেয়েকে হতে হবে অবরোধবাসীনি। পুরুষালী আর মেয়েলি আচরণ নামে সমাজে দুটি আচারণভেদ তৈরী হয়েছে। কেউ এই আচরণ বিধির গন্ডি পেরুতে পারবে না। এটাই সমাজের তথাকথিত নিয়ম।
পুরুষ নিজের ইচ্ছামত পোশাক পরতে পারবে কিন্তু নারীকে হতে হবে বস্তাবন্দি। বস্তাবন্দি না হলে পুরুষ ধর্ষণ করতে পারবে। ধর্ষণের পর নির্লজ্জের মতো নারীকে তেতুল উপাধি দেবে, দোষ দেবে নারীর পোষাককে। কখনও নিজেদের লুচ্চা চরিত্রের কথা ভুলেও মুখে আনবে না। সমাজে স্বামী হচ্ছে প্রভু আর স্ত্রী হচ্ছে সেবিকা। স্বামী স্ত্রীকে মারতে পারবে, নির্যাতন করতে পারবে কিন্তু স্ত্রী ভুলেও বদমাইশ স্বামীকে একটু উত্তম মাধ্যম দিতে পারবে না।
ভাল পাত্রের সাথে মেয়েকে বিবাহ দিতে হলে যৌতুক দিতে হবে পাঁচ-সাত লক্ষ টাকা , দামি গাড়ি দিতে হবে আবার বাড়িও সাজিয়ে দিতে হবে। আজকে মেয়েরা পড়ালেখার সুযোগ পেলেও এই অধিকার আদায়ে হাজার রোকেয়াকে একদিন পথে নামতে হয়েছিল। ধর্মও নারীর প্রতি বৈষম্য থেকে মুক্ত ছিল না। কারণ পুরুষের হাতেই তো ধর্মের সৃষ্টি। তাই প্রায় ধর্মই নারী বিদ্বেষী।
ধর্ম মতে নারী হচ্ছে অপবিত্র, জাহান্নামী, শয়তানের রজ্জু, ডাইনি, পুরুষের অর্ধেক, নারী হচ্ছে ফেতনা, জ্ঞানহীন ইত্যাদি। নারী কখনই ধর্মগুরু হয়ে উঠতে পারে নি। নারীদের শাষণ ক্ষমতায় দেখতে ধর্মগুলো নারাজ। হিন্দু সমাজে পতিব্রতার নামে হাজার হাজার নারীকে দাহ করে হত্যা করা হয়ছে। কিন্তু কই কখনও কোন পুরুষ তো তার স্ত্রীর মৃত্যু দেহের সাথে দাহ হল না।
স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অপরাধে হিল্লা প্রথা চালু হল। কিন্তু তাতে ঐ অপরাধী পুরুষের কি শাস্তি হল? জাহান্নামে নারী দিয়ে পূর্ণ আর জান্নাতের এক পুরুষের সাথে সত্তর হুরের ব্যবস্থা। জাহান্নামে এত নারী থাকার কারণ হল স্বামী যদি যৌন সম্ভোগ করার জন্য আহব্বান করে কিন্তু তাতে যদি স্ত্রী সাড়া না দেয় তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তাদের অভিশাপ দেয়।
নারী হচ্ছে পুরুষের শষ্যক্ষেত্র মাত্র। তাই পুরুষের ইচ্ছাই সব, এতে নারীর ভাল লাগা, খারাপ লাগার কোন মূল্য নাই। নারী ধর্ম কর্ম করে জান্নাতে গিয়েও সুখ পাবে না। কারণ দুনিয়াতে যে স্বামী তাকে সারা জীবন নির্যাতন করেছে জান্নাতেও সেই স্বামীর সাথে বাহাত্তরটি হুর সতীনের সাথে থাকতে হবে। আসলে এসব সমাজ, ধর্ম, ঈশ্বর, আল্লাহ্, ভগবান সবই পুরুষের স্বার্থে তৈরী। সমাজের চোখে যারাই সেই কল্পিত পুরুষ হতে পারে নি তারাই বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আর তথাকথিত সেই পুরুষ দুনিয়াতে বহুবিবাহ, দাসি সেক্স আর পরকালে বাহাত্তর হুরের স্বপ্নেই মত্ত হয়ে আছে।
Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বই বাংলাদেশ রাজনীতি সমকামীদের অধিকার

নির্বাচনী ইশতেহারে যৌন সংখ্যালঘুদের জায়গা হবে কি?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই খুব শীঘ্রই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে রাজনৈতিক দলগুলো। এই ইশতেহারে জনগণের উদ্দেশ্যে নানা প্রতিশ্রুতি দেন রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও নির্বাচনে জয় লাভ করার পরে এই সব ইশতেহার তারা বেমালুম ভুলে যান। তবুও এই ইশতেহার জনগণের জন্য কিছুটা প্রাপ্তিই বলা চলে। কিন্তু এই সামান্য প্রাপ্তিটুকুও জুটে নি বাঙালী যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য।
মৌলবাদীদের ভয়ে কিংবা নিজেদের সংকীর্ণ চিন্তাধারার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলই যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আগত নির্বাচনী ইশতেহার উপলক্ষে যৌন সংখ্যালঘুদের নিয়ে কোন রকম প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো ধর্মবাদী দলগুলো ক্ষমতায় আসলে যৌন সংখ্যালঘুদের উপরে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আসতে পারে। যা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে রুপ নিতে পারে।
প্রগতীশীল দাবিদার দলগুলোও ভোটের লোভে সাময়িক মুফতি হয়ে উঠেছে। ফলে সব দিক থেকে যৌন সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষ আদর্শে উদ্বোদ্ধ হয়ে। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল। যৌন সংখ্যালঘুরাও এই সংগ্রামী মানুষের তালিকায় ছিল। যদিও প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ করা কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু যৌন সংখ্যালঘুরা যে ছিল না তা কখনই বলা যায় না। আর বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ার কারণে সকল নাগরিকের মানবাধীকার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু তা না হয়ে বরং বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানপন্থী অপশক্তিগুলোর মাধ্যমে এ দেশকে ধর্ম নিরপেক্ষ নীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যার রেশ বর্তমানেও কাটেনি।
একজন নাগরিকের অধিকার খর্ব হলে তার দায় রাষ্ট্ররে উপরেই বর্তে, সেখানে লক্ষ লক্ষ যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধীকার খর্ব হচ্ছে আর তার দায় এড়িয়ে যাওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নয় কি? তাই সকল যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কিছু দাবি তুলে ধরা হলঃ
১. নির্বচনী ইশতেহারে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
২. যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গিকার ব্যক্ত করতে হবে।
৩. সংসদে যৌন সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি রাখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো থেকে মনোনয়ন দিত হবে।
৪. যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. মহান সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ৩৭৭ ধারাটি অতিসত্তর বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. যৌন সংখ্যালঘুদের প্রতি ভীতি প্রদর্শনকারী ও জীবন নাশের হুমকি প্রদানকারী জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮. নারী, পুরুষ এবং শিশু ধর্ষণে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে।
উপরোক্ত আট দফা দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অব্যাহত রাখা এবং সকল নাগরিকের মানবাধীকার রক্ষার জন্য আসন্ন নির্বাচনে আংশগ্রহণকারী সকল দলের প্রতি অনুরোধ করা হল।
Categories
NEWS অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ

ফতোয়াবাজি ২য় পর্ব

৯. কেউ যদি তার স্ত্রীদেরকে সম্মোধন করে বলে, তোমাদের যার জননেন্দ্রিয় অধিক প্রশস্ত হবে তাকে ত্বালাক। তাহলে তাদের মধ্যে যে হালকা পাতলা তার উপর ত্বালাক পতিত হবে।( আলমগিরি)
মন্তব্যঃ হুজুরদের হালি হালি বউ থাকলে থাকলে যা দশা হয় আর কি।

১০. একজন ব্যক্তিকে তার স্ত্রী মদ পান করার কারণে ভৎসনা করল। অতপর সে বলল আমি যদি স্থায়ীভাবে মদ পান ছেড়ে দেই তবে তুমি ত্বালাক।( আলমগিরি পৃষ্ঠা ৪৪৬)
মন্তব্যঃ স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে মনে করলে তার কাছে উপদেশ গ্রহণ কখনই মেনে নিতে পারবে না মোমিন সমাজ এটাই প্রমাণিত।

১১. কোন এক মহিলা ঘরের কামড়ায় বসে কাঁদছিল। তখন তার স্বামী তার শ্বশুরকে বলল যদি আপনার কন্য এ কামরা থেকে বের হয়ে অন্যত্র গিয়ে না কাঁদে তবে সে ত্বালাক। তারপর তার স্ত্রী অন্য কামরায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্না যদি কেউ শুনতে পায় তবে সে ত্বালাক। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৫৫)
মন্তব্যঃ মুমিনীয় স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এই ফতোয়াটি বেশ কার্যকর হবে।

১২. এক ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে বিবাহ করার ইচ্ছা করার পর ঐ মহিলার পরিবার এতে অসম্মত হয়। কারণ তার অন্য এক স্ত্রী আছে। তারপর সে তার স্ত্রীকে নিয়ে কবরস্থানে বসিয়ে রেখে এসে ঐ পরিবারে গিয়ে বলল আমার কবর স্থানের স্ত্রী ব্যতিত অন্য সব স্ত্রী ত্বালাক। এতে তারা মনে করল তার কোন স্ত্রী জীবিত নাই। ফলো ঐ মহিলাকে বিবাহ দিলো। তাহলে বিবাহও সহিহ হবে এবং প্রতিজ্ঞাও মিথ্যা হবে না। (ঐ পৃঃ ৪৫৭)
মন্তব্যঃ যৌনতার জন্য মোল্লারা যে কতটা নিখৃষ্ট ছলছাতুরির আশ্রয় নিতে পারে এটাই তার প্রমাণ।

১৩. এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল আমি যদি তোমার সন্তানকে মেরে দু টুকরো না করি তবে তুমি তিন ত্বালাক। তারপর সন্তানকে যমিনে ফেলে মারল কিন্তু দু টুকরা হল না তবে ঐ মহিলার উপরে তিন ত্বালাক পতিত হবে। ( ঐ পৃঃ ৪৬২)
মন্তব্যঃ শিশু নির্যাতনে সেরা মোল্লাদের দ্বারা এটাও অসম্ভব কিছু না।

১৪.স্বামী তার স্ত্রীকে বলল যদি দুপুরের সময় বাজারের মধ্যে সহবাস না করি তবে তোমাকে ত্বালাক। তবে এক্ষেত্রে কৌশল হবে স্ত্রীকে পালকিতে করে বাজারে নিয়ে গিয়ে পালিকের মধ্যে সহবাস করতে হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ৪৩১)
মন্তব্যঃ কামুক মোহাম্মাদের কামুক মোল্লাদের দ্বারা এটাই আশা করা যায়।

১৫. কেউ যদি বলে, আমি ত্বালাকের শপথ করে বলতেছি যে আমি মদ পান করব না। অতঃপর মদ পান করলে তার স্ত্রী ত্বালাক হবে। (ঐ পৃষ্ঠা ১৭১)
মন্তব্যঃ মুমিনগণ স্ত্রীকে কি চোখে দেখে এই ফতোয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়।

চলবে…….

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ রাজনীতি

ফতোয়াবাজিঃ- শেষ পর্ব

আজকের এই পর্বে আমারা ইসলামি মিথ্যাচার তুলে ধরব। মোল্লারা নিজদেরকে রক্ষার জন্য কত পাল্টিবাজ হতে পারে তা আজকের পর্বে ফতোয়ার কিতাব থেকে তুলে ধরছি:-
১. কেউ কসম করে বলল সে রুটি খাবে না। তারপর সে রুটি শুকিয়ে গুড়া করে তাতে পানি মিশিয়ে পান করলে তার কমস ভঙ্গ হবে না। কিন্ত রুটি যদি পানিতে ভিজিয়ে খায় তবে কসম ভঙ্গ হবে। ( ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ই ফা বা, পৃষ্ঠা ২২৬)
মন্তব্যঃ মোল্লারা নিজেদের মগজে যে কি রকম পাল্টিবাজ জ্ঞান ধারণ করে এটা তার উদাহরণ মাত্র।
২. কোন ব্যক্তি কসম করল  যে সে তরমুজ খাবে না।  অতপর ছোট কাচা তরমুজ ভক্ষণ করল তাহলে ফকিহদের মতে কসম ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ২২৮)
মন্তব্যঃ কাচা তরমুজ কিন্তু তরমুজ নয়, এটা মোল্লাতান্ত্রিক বিজ্ঞান।
৩. কেউ তার স্ত্রীকে বলল, আজ আমি যদি তোমাকে প্রহার না করি তবে তুমি ত্বলাক। এরপর স্বামী তাকে মারতে চাইলে তখন মহিলা বলল, তোমার শরীরের কোন অঙ্গ আমার কোন অঙ্গের সাথে স্পর্শিত হয় তবে আমার গোলাম আযাদ। এরপর সে তার গায়ে হাত দেয়া ব্যতিরেকে লাঠি দ্বারা তাকে প্রহার করে তাহলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে।(ঐ পৃষ্ঠা ৩৪১)
মন্তব্যঃ বাহ্! হাতের বদলে লাঠি। মোল্লাদের বুদ্ধি আছে বৈকি।
৪. এক ব্যক্তি প্রতিজ্ঞা করল, সে হাারাম কাজ করবে না।অতপর সে ফাসিদ তরীকায় বিবাহ করলে তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হবে না। এমনিভাবে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌোনাচার করলেও তা ভঙ্গ হবে না। (ঐ পৃষ্ঠা ৩৬৫)
মন্তব্যঃ চতুষ্পদ জন্তুর সাথে যৌনচারকেও সহিস পদ্ধতিতে বৈধতা দিয়েছিল মোল্লারা।
৫. যদি মহিলা ঘুমন্ত কোন পুরুষকে নিজের সাথে যিনা করার সুযোগ প্রদান করে তাহলে তাদের উপর হদ্দ ওয়াজিব হবে না। ( ঐ পৃঃ ৩৯৬)
মন্তব্যঃ হুজুরা তাহলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করে? এই ফতোয়া অবশ্য আমাদের নবী মোহাম্মাদের জীবনের উপর গবেষণা করে দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ উম্মে হানির ঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেনা করেছে আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে মেরাজ করেছে। উম্মে হানি ছিল সেই ডানাওয়ালা ঘোড়া।
প্রিয় পাঠক, গত পর্ব গুলোতেও ইসলামী নানা ভন্ডামো তুলে ধরা হয়েছে। শুধু ইসলামই নয় প্রত্যেক ধর্মই ভন্ডামোতে পরিপূর্ণ। যে ব্যক্তি যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সেই পরিবারের লালিত বিশ্বাসকেই সর্বসেরা মনে করে। অথচ কখনই সেই বিশ্বাস পর্যালোচনা করে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। যারা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে শিখেছে তারাই ওসব বিশ্বাসকে ছুড়ে ফেলতে শিখেছে। যারা অন্ধ বিশ্বাস ও গোড়ামি থেকে বেড়িয়ে এসে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে তারাই হচ্ছে নাস্তিক। ধর্ম ত্যাগ করার জন্য ধর্ম গ্রন্থের একটি ভুলই যথেষ্ট।কারণ ধর্মগ্রন্থগুলো নির্ভল দাবি করে। আর একটি ভুল খুজে পাওয়া মানেই সেই দাবিও মিথ্যা হয়ে যায়। ইসলামী বিশ্বাস থেকে এতগুলো ভন্ডামি তুলে ধরার পরেও যদি কেউ ইসলামকে নির্ভল দাবি করে তবে তাকে করুণার চোখে দেখব। কারণ পাগলকে করুণার চোখেই দেখা উচিৎ। আর যাদের সামন্যতম জ্ঞান আছে তাদের কাছে আশা করি তারা দ্রুত ইসলাম থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।