Categories
এলজিবিটি সংবাদ

বাংলাদেশে সমকাম বৈধ নিশ্চিত করা হোক

সমকামিতা স্বাভাবিক আচরণ হলেও ,স্বাভাবিক ভাবে এই আচরণকে অনেকেই মেনেনিতে পারে না। মানুষ কখনোই কৃত্রিম আচরণে অভিনয় করে স্বাভাবিক আচরণ কে আড়াল করতে পারে না। সমকামিতা পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে ছিল, আছে এবং থাকবে। শুরুতে যেমন সমাজ এবং ধর্মের কারণে সমকামীরা নিজেদের প্রকাশ করতে পারেনি, ঠিক তেমনি পৃথিবীর অনেক দেশে সেই সমাজ এবং ধর্ম এর কারনে আজও সমকামীরা আবদ্ধ হয়ে আছে কৃত্তিম আচরণে। সমকামিতা সংখ্যায় কম আচরণ বিধায়, অনেক একে ভণ্ডামি বা ভীমরতি বলে তাদের অবজ্ঞা করে আসছে।

ধরুন (একজন ছেলে ), হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখছে সবাই তাকে মেয়ের মতো দেখছে এবং এই ছেলেকে এখন মেয়ে হয়ে ,মেয়ের মতো করে চলতে হবে। এটা কখনোই তার জন্য স্বাভাবিক হবে না এবং অনেক কষ্টের হবে। ছোট্ট বেলাতে আমাদের আচরণে ছেলে এবং মেয়ের কোনো পার্থক্য থাকে না কিন্তু যখন বয়সে গণ্ডি ভালোলাগা ,ভালোবাসার দ্বারে এসে পৌঁছে ,তখনতো আর সমাজের ভালোলাগা দিয়ে ভালোবাসা হয় না , তখন প্রাকৃতিক ভালোলাগা জেগে উঠে হোক তা একটি ছেলের সঙ্গে ছেলে বা একটি মেয়ের সঙ্গে মেয়ে। প্রাকৃতিক নিয়মে যদি ছেলের মনে ছেলের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয় তাহলে আমি আপনি তা পরিবর্তন করার কে ? প্রতিটি সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে আর তা যদি হয় মানুষ তাহলে তো কোথাই নেই।

পৃথিবীর স্বাধীন সার্বভৌম দেশগুলোর মাঝে বাংলাদেশ অন্যতম । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই দেশের সকলে এখনো স্বাধীন নন, নেই সকলের মুক্তভাবে নিজ মতামত প্রকাশের অধিকার, নেই নিজের মতো করে কাউকে ভালোবাসার অধিকার। এর মূল কারণ দুটো, এক এ দেশের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্টতা , দুই দণ্ডবিধি ধারা ৩৭৭। ৩৭৭ এর বিধী অনুযায়ী – যে কেউ স্বেচ্ছায় প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোনও পুরুষ, নারী বা পশুর সাথে যদি যৌন সম্পর্কে জড়িত হোন , তাকে দশ বছর বা দশ বছরেরও বেশি সময় অথবা আজীবন কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে জরিমানা দিতেও বাধ্য করা হবে।

‘সমকাম একটি স্বাভাবিক আচরণ’ এই বাস্তবতা অশ্বিকার করে এসেছে। যেখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী একটি প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে এবং মেয়ে বিয়ের আগে একে অন্যের সাথে শারীরিক সম্পর্কে যাওয়ার অনুমতি নেই , সেই একই সমাজ বাদ্ধ করে বিয়ের আগে ছেলে এবং মেয়ে রা জোট বেঁধে আলাদা থাকতে। ছেলেদের সঙ্গে ছেলেরা এবং মেয়েদের সঙ্গে মেয়েরা একসঙ্গে চলা ফেরা করতে মানা নেই , এক সঙ্গে ঘুরতে, ফিরতে, শপিং এ যেতে , খেতে এমন কি একসঙ্গে ঘুমাতেও মানা নেই। কিন্তু তারা একে অন্যের প্রেমে পরে গেলে তা হয়ে যায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

সমকামের সমস্ত আচরণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও দন্ডবিধী ধারা ৩৭৭ জারি রাখা পরস্পর বিরুধী নয় কি ? সত্যি বলতে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ছেলে মেয়ে উভকামী। তারা গোপনে নিজেদের বেক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখে বিয়ের আগে এবং পরে এই মিথ্যে সমাজের আদর্শ মানিয়ে চলেছে। এই ভণ্ডামির জন্য তারা নিজেরা দায়ী নয় , দায়ী আমাদের সমাজ, আমাদের সীমিত চিন্তা ভাবনা এবং প্রয়োজনীয় যৌন শিক্ষার অভাব। এরই মাঝে কেউ কেউ আছেন যারা বিশ্বস্তভাবে শুধুমাত্র সমগোত্রীয় অর্থাৎ সমকামী হিসেবেই চলতে চায়, এ বিশ্বস্ততার পরিচয়। তাদের এই চাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক যা মানুষ স্বজ্ঞানে শিকার করতে চায় না।

সমকাম এর অধিকার এবং যৌনতা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল’ এবং বিভিন্ন এনজিও বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিলেন। ১৬ই সেপ্টেম্বর ২0১৩ তারিখে শুরু হওয়া ষষ্ঠ ‘এশিয়ান ও পেসিফিক’ সম্মেলনে, এই বিষয়গুলি আলোচনা করা হয়েছিল। সমকাম অধিকার সমর্থন করার জন্য UNFPA এর ধারণাটিকে বাংলাদেশ পুরোপুরি বিরোধিতা করেছিল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবুল কালাম আবদুল মোমেন বলেন, এই নীতি গ্রহণ করলে বাংলাদেশের মানদণ্ডের বিপক্ষে যাবে।

শন ২০০৯ ও ২০১৩ সালে, বাংলাদেশ সংসদ ৩৭৭ ধারা বাতিল করতে অস্বীকার করে।

এই সিদ্ধান্ত মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথে অন্তরায়, এই সিদ্ধান্ত অমানবিক। আমি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ – বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে,  একজন মানবাধিকার কর্মী হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। বাংলাদেশ সরকার কে অচিরেই সমকাম এর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে করতে হবে, বাক স্বাধীনতা দিতে হবে, ইচ্ছেমতো ভালোবাসার অধিকার দিতে হবে, মৌলবাদ উখরে ফেলে দিতে হবে, ধর্ম অনুশাসন বন্ধ করতে হবে।

Categories
এলজিবিটি সংবাদ

The Bisexual premieres ‘Wednesday, October 10’ on ‘Channel 4’

Channel 4 is about to debut a groundbreaking new show and we couldn’t be more excited.

The Bisexual will premiere on Channel 4 this month and promises to be an intriguing look at what it means to be bisexual in 2018.

The show will be looking at “love and sex, and what the love and sex they’re drawn to reveals about” the characters.

When does it air?

The Bisexual premieres on Wednesday, October 10, and will air weekly on Channel 4.

A stellar cast

The Bisexual is co-written by the writing duo behind The Miseducation of Cameron Post, Desiree Akhavan and Cecilia Frugiuele. Akhavan also directs and takes on the series’ main role as Leila, who, after dating a woman for 10 years, begins dating men. Her ex-girlfriend, Sadie, is played by BAFTA-nominated actress Maxine Peake (The Village, Three Girls, Black Mirror).

The Bisexual delves into society’s “last taboo.” (Channel 4)

Leila’s unusual wingman, Gabe, is played by Brian Gleeson (The Phantom Thread, Mother!). Gabe will help Leila navigate her new-found attraction to men, while in turn, Leila will introduce Gabe to the lesbian scene.

The series’ summary promises a “raw, funny and unapologetic take on the ‘last taboo’ – bisexuality – and the prejudices, shame and comic misconceptions that surround it.”

“I wanted to write the show because I hated coming out as bisexual,” Akhavan told The Guardian, “I came out as that from the get-go, but that word always felt uncomfortable.”

In the same interview she discussed the core “invisibility” of bisexuality. “If I’m walking down the street holding a woman’s hand I’m gay, if it’s a man’s I’m straight. That’s how a lot of people side-step the label. It has a lot of stigma to it,” she said.

Yes to more bisexuality on screen

BROOKLYN NINE-NINE -- "Operation Broken Feather" Episode 116 -- Pictured: Stephanie Beatriz as Rosa Diaz -- (Photo by: Eddy Chen/NBC/NBCU Photo Bank via Getty Images)
Rosa in another trademark jacket (Eddy Chen/NBC/NBCU/Getty)

The Bisexual adds colourful characters to a TV landscape in dire need of more LGBT representation.

However, several shows have recently introduced bisexual characters or bisexual storylines in an effort towards diversity.

Fans of cop show Brooklyn Nine-Nine were thrilled when lieutenant Rosa Diaz revealed she was dating a woman. Stephanie Beatriz, who plays Diaz, recently published an essay for GQ reflecting on her own bisexuality.

In Australian comedy-drama Sisters, one of the main characters, Edie, who is married to a man, explores her attraction to women with a steamy woman-on-woman affair.

 

Watch PinkNews
News Source
Categories
এলজিবিটি সংবাদ

Pain, pansexuality and afrofuturism: three films about the body

Diving into body politics, we highlight three films from the BFI London Film Festival’s Experimenta programme.

Slumberparty 2018

Slumberparty 2018 (2018)

In 1984, The Positive Pornographers, a mostly queer collective based in Toronto, made a film. Before intersectional feminism became theoretical jargon, the collective embodied its meaning with a full-blown liberation of pansexual choreography. Appropriately, they called their film Slumberparty.

In 2018, real-life partners and artists Hazel Meyer and Cait McKinney, driven by their research into how queer porn is archived, explored ways of ethically restoring Slumberparty – which was once thought lost and only found again in 2016. The pair’s contemporary version of this non-binary piece retells a historical landmark of Toronto’s queer porn scene – directly intervening with Toronto’s feminist porn debate.

What’s enticing about the work lies in the descriptive language of visualising the on-screen sexual interactions. It is tender, compassionate and adequately steers clear of being pornographic, thereby offering the audience a glance into a playful and pleasurable sexual intimacy.

The Startled Faction

The Startled Faction (2018)

As part of the Performance Anxiety programme, Catherine Sullivan’s The Startled Faction, subtitled ‘sensitive training’, examines muscle panic and unnerving pain caused from uncompensated work outside the job description.

A group of dancers rehearse symptoms of, and methods for avoiding, ambiguous labour with varying degrees of aptitude and motivation, orchestrating a plethora of movements.

Co-produced with Chicago Dancemakers Forum, The Startled Faction sees performers unshyly reference tangible concerns relating to animosity of racial, class and gender inequality – right on down to the nitty gritty of it all.

Mahogany Too

Mahogany Too (2018)

Shedding light into afrofuturism through stylised visuals and fashion, Mahogany Too sees the elegant and beautiful Nigerian actor and model Esosa E revitalise Diana Ross’s iconic portrayal of Tracy Chambers in the cult classic, Mahogany (1975).

A serendipitous encounter in Ghana and mutual obsession with Ross’s style led to Essoa’s collaboration with director Akosua Adoma Owusu. Best known for her role in hit US web series An African City, the former recreates Tracy’s qualities through fashion, modelling and styling, while director Akosua Adoma Owusu’s analogue filmmaking creates a vintage tone that emphasises the essences of the character.

The dream-like music charms us as we follow the contemporary Tracy’s wander through town.

Categories
LGBT NEWS NEWS অন্যান্য এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ সমকামীদের অধিকার

10 great films about England’s radical history

Ahead of the UK premiere of Mike Leigh’s new film about the Peterloo massacre, writer Sam Thompson traces a path through other key films about English radicalism.

Peterloo (2018)

Mike Leigh’s characters are, often but not always, working class and rooted in the real world – affected by housing, jobs, public services, the law and policing. So, on one level, Peterloo – the 1819 massacre of suffrage demonstrators outside Manchester – seems like natural subject matter for his new film.

Yet Leigh also trades in the idiosyncrasies of feeling and the minutiae of relationships. How can you translate this level of human specificity into a story like Peterloo, which culminates in an assembly of 80,000 people? Can Leigh make his kind of movie about an event suited to Soviet-era pioneer Sergei Eisenstein?

Leigh is not the first filmmaker to wrestle with these problems. A variety of forms have attempted to show radical England with complexity and nuance: TV and film, documentary and drama, contemporary and historical, experimental and commercial.

The list below also contains films where the radical content reflects a break with traditional methods of film production. Film collectives have often recorded radical history. Taken together, the experimental films of the London Filmmakers Co-op are a portrait of radical counterculture movements since the 1960s: they made films about CND, AIDs activism and, above all, second-wave feminism. The Women and the Law Collective made three important films in 1986, chronicling the intersection between race and gender in contemporary Britain. The collectives nurtured by Channel 4 during its radical infancy often investigated English (and British) radical history.

England – rather than the UK – is the focus of this list because Peterloo seems to be a pivotal memory in the English – rather than British – imagination. It was an affront, in the words of E.P. Thompson, to the concept of the ‘free-born Englishman’, and became a watershed moment only in the policing of a domestic English population.

Winstanley (1975)

Directors Kevin Brownlow and Andrew Mollo

Winstanley (1975)

The English civil war (1642-51) has provided fertile soil for film – especially genre fare, from folk horror and swashbuckling romances to a lysergic psycho-thriller (A Field in England, 2013). But few have approached the period with the same historical seriousness as Winstanley.

Roughly, the civil war was fought between those who wanted parliament to be sovereign (Roundheads) and those who wanted to retain the monarch as an absolute ruler (Cavaliers). Adjacent to this conflict, capitalising on the dissenting zeitgeist, was the Digger movement, led by Gerrard Winstanley.

In gorgeous monochrome, Kevin Brownlow and Andrew Mollo’s film shows the Diggers appropriating vacant land in Surrey and living self-sufficiently until they are violently evicted by the local gentry. Despite an infamously difficult production, the film is a vital, edifying resource. Much of the narration is taken from Winstanley’s pamphlets, and there is power, warmth and hope in his call for a “common treasury”.

Days of Hope (1975)

Director Ken Loach

Days of Hope (1975)

The working class is Ken Loach’s subject – like light for J.M.W. Turner or the family for Yasujiro Ozu. Sometimes his stories are fictions. Sometimes they are an enlarged, more militant reality.

In Days of Hope, Loach serves up a working-class history lesson. The four-part film, originally shown on the BBC, travels from the First World War to the General Strike of 1926, charting a huge range of early 20th-century radicalism. A conscientious objector in the first episode encapsulates the feeling of many of Loach’s characters: “I’m ready to fight, but in the only war that matters: the class war.”

Most of Loach’s pictures have an agitating purpose. His most recent, I, Daniel Blake (2016), is a protest against a crumbling welfare system shored up with sanctions and gatekeeping. Despite its historical setting, Days of Hope is no different: the mid-70s saw record numbers of strike days, and Loach’s film is a fable of ambition, unity and vigilance directed squarely at the workers.

Nightcleaners (1975)

Director Berwick Street Film Collective

Nightcleaners (1975)

Cleaners have often been at the forefront of the fight for better conditions at work – look at recent campaigns by cleaners at the Ministry of Justice and Kensington and Chelsea council. The protagonists in Nightcleaners are similarly inspiring: women, mostly of colour, organising for better pay in an industry abandoned by traditional trade unions.

The documentary is inventive and empathetic, and its critical insertion of the audience and filmmakers into the action has rightly made it an influential text in the history of political art and activist cinema.

Marc Karlin – founder of the Berwick Street Film Collective, and co-director of Nightcleaners – is a criminally underknown filmmaker. The 12 films he directed for Channel 4 between 1983 and 1999 represent a hymn – part eulogy, part manifesto – to radical England. A special mention for his dériving film essay For Memory (1986), which journeys from the vegetable patches of 1930s miners to stories of East End resistance to fascism and the execution of Levellers during the English civil war.

Pressure (1976)

Director Horace Ové

Pressure (1975)

Pressure is often hailed as the first British feature by a black director, but it makes this list because of its serious treatment of the Black Power movement, most recently depicted in the Sky Atlantic series Guerrilla (2016) starring Idris Elba.

Tony has his O-levels but can’t get a job, and he faces condescension and antipathy everywhere in 1970s west London. After his friend is arrested, and he hears his brother brutalised by the police, Tony realises the Black Power movement is the only place where state violence is properly critiqued. A struggle to understand his identity as a Brit, Londoner and black man culminates with an explosive family feud: Tony tirades against his mother’s respectability politics, and she disowns him.

Pressure contains almost as much political speechifying, ideological debating and demo prepping as Peterloo. The final scene is a mournful picture as the activists demonstrate outside a police station in the pouring rain.

Carry Greenham Home (1983)

Director Beeban Kidron

Carry Greenham Home (1983)

This list is shamefully short on female directors. Carry Greenham Home carries the lamp for many female-helmed films tackling feminist praxis.

The documentary takes a forensic look at the Greenham Common women’s camp, based outside the US army base used to stored nuclear weapons. Between 1981 and 2000, camp dwellers engaged in a number of high profile actions, including creating a human chain around the complex and tying themselves to the base. Carry Greenham Home is notable for its privileged access to a militant organisation – Kidron spent seven months living in the camp – and for its clear-eyed look at the endemic problems of activism: in-fighting, an unsympathetic media, depleted finances and police brutality.

An earlier moment in the CND movement can be seen in Lindsay Anderson’s loving documentary, March to Aldermaston (1959). The action, which became an annual date in the left calendar, was a formative political experience for many anti-war radicals – including Mike Leigh.

Handsworth Songs (1986)

Director John Akomfrah

Handsworth Songs (1986)

Stuart Hall was a theoretical touchstone for avant-garde documentarian John Akomfrah long before he was the subject of Akomfrah’s 2013 film, The Stuart Hall Project. The Hall approach is evident in Handsworth Songs, produced by the Black Audio Film Collective and first aired on Channel 4, which probes representations of the Handsworth riots and the life of Caribbean immigrants in the UK to find a common ideological undercurrent.

The film reflects the interdisciplinary collective: it’s a rich tapestry of archive and contemporary footage of the black experience, threaded through with eerie images, suggestive noises – a lonely drum, industrial whirring – and contemplative narration.

There have been other riot documentaries – Riots and Rumours of Riots (1981) projects back from the Brixton uprising of 1981 to find a story of British-Caribbean resistance; The Hard Stop (2015) looks at lives entwined in the 2011 unrest – but few match the formal daring or intelligence of Handsworth Songs.

It would make a perfect double bill with Isaac Julien’s Territories (1984), which makes similarly experimental use of sound and image to present Notting Hill Carnival as an act of radical resistance.

Comrades (1986)

Director Bill Douglas

Comrades (1986)

Comrades is a true epic: a stirring, three-hour story of the Tolpuddle Martyrs, 19th-century trade unionists deported to Australia for their activism. It’s also a meditation on light, on the hillocks and fields of the south-west, and on mediation, iconography and early photography and film. Comrades is not alone on this list in connecting the power of collective action to the magical power of the moving image.

A lanternist, from whose eyes we see events unfold, happens upon Luddites breaking machines. We’re soon in the village of Tolpuddle: labourers work the land, enjoy fayres and dissent from their employer as he squeezes wages. As they organise, there are gothic tableaux of men swearing secret oaths to their union banner, which features a skeleton and declares ‘Remember Thine End’. The film takes some wicked digressions into absurdism after the workers are deported to Australia.

This was Bill Douglas’s only long-form feature and his last film before he died. Despite his meagre output, he remains a singular talent in British film history.

Made in Dagenham (2010)

Director Nigel Cole

Made in Dagenham (2010)

Made in Dagenham is the first of two films in this list that are part of a peculiarly English, post-Full Monty (1997) cottage industry: films that commemorate working-class lives and resistance, while retreating from any of the more contentious politics, and presenting the story in an accessible, feel-good package, usually with a glittering cast of thespians.

Of course, it is a story worth telling. The strike, led by five sewing machinists at Dagenham’s Ford factory over the skill-level classification of their labour, was one of the first industrial disputes to invoke the idea of equal pay, and precipitated the Equal Pay Act 1970. Scenes where the indomitable Sally Hawkins defies her boss or her husband have an uncontainable, air-punching righteousness.

A West End musical adaptation starring Gemma Arterton followed in 2014.

Pride (2014)

Director Matthew Warchus

Pride (2014)

Pride is about the relationship between the activists in Lesbians and Gays Support the Miners (LGSM) and a Welsh pit town. As with Made in Dagenham, the central character is fictionalised in order to give us a familiar bildungsroman, every face is recognisable, and the political substance of the film has been, to some extent, defanged (Mark Ashton, founder of LGSM, was a communist). But again, Pride is undeniably energising, and there is now an international community that know and love this fable of solidarity.

Pride’s rhythm and tone is also ripe for the West End treatment. The strongest scene in the film is a musical number, albeit a slow and tender one, in which a miner’s wife starts singing ‘Bread and Roses’, and the assembly slowly joins in. Pride, again like Made in Dagenham, ends with concluding text, conspicuously absent from Peterloo, informing the audience that in 1985 Welsh miners led London Pride in an act of political reciprocity; Ashton died of an AIDs-related illness a year later.

Suffragette (2015)

Director Sarah Gavron

Suffragette (2017)

There were films about first-wave feminism before Suffragette – the BBC series Shoulder to Shoulder (1974) is a dense unpacking of the movement – but nothing near the dramatic ambitions of Sarah Gavron’s film, which shows the political strategising and actions in the lead up to that fateful Derby day.

Suffragette is easily the biggest grossing movie on this list, making £35m at the box office, but despite a big cast (including Meryl Streep) and coming in the centenary year of the events, the film failed to meet the expectations of the major awards. Perhaps this is because it lacks either the populist appeal of Pride or the aesthetic qualities of Comrades. Although Suffragette never quite recaptures the startling immediacy of its opening moments, by centring the struggles of a working-class suffragette it maintains a real urgency.

Suffragette not only depicted radical England; the film ignited it. At the premiere, domestic violence campaigners from Sisters Uncut staged an occupation of the red carpet.

Source

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ

একটু ভেবে দেখবেন কি?

আপনাদের কাছে ভিন্নতা মানেই নিকৃষ্ট, অসামাজিক, বেলেল্লাপনা, অপ্রাকৃতিক, অপরাধ, পাপ আরও কত কি। অর্থ্যাৎ আপনার বিশ্বাস,আচার-আচারণ, চলা-ফেরা,পোশাক,খাদ্যাভ্যাস কিংবা লাইফ স্টাইল অন্য কোন ব্যক্তির সাথে মিল না হলে তবে তাকে এই ট্যাগগুলো না দিয়ে আপনারা কখনও শান্তি পান না। আপনাদের সব চেয়ে বড় মূর্খতা হচ্ছে এটাই যে আপনারা মনে করেন আপনাদের বিশ্বাস এবং পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতে অপরকে চলতে হবে। কিন্তু অপর একজন ব্যক্তি কেন আপনার বিশ্বাস এবং পছন্দ অপছন্দ ভিত্তিতে চলাফেরা করতে যাবে? একজন ব্যক্তি যদি তার মতো চলাফেরা করে সুখী হয় এবং তাতে আপনাদের কোন ক্ষতি না হয় তাহলে সেই ব্যক্তির জীবনে হস্তক্ষেপ করার যৌক্তিকতা ঠিক কতটুকু? একবার ভেবে দেখুন তো।

সেই ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে বাধ্য না করে নিজের চিন্তাধারাগুলোরও তো পরিবর্তন করতে পারেন। ঠিক আপনাদের মতো কিছু সংকীর্ণ চিন্তাধারার ব্যক্তিদের ঘৃণা ও হিংস্রতার নির্মম শিকার হচ্ছে যৌন সংখ্যালঘুরা। শুধু যৌন সংখ্যালঘুরাই নয় বরং তাদের পক্ষে কেউ যদি টু শব্দটিও করে তবে আপনাদের মতো সংকীর্ণ চিন্তাধারার মোল্লা,পুরোহিত, ঠাকুররা আদা-জল খেয়ে নিখৃষ্ট ভাষায় গালাগালি করতে লেগে পড়েন। আপনাদের মতো অসভ্যদের কাছ থেকে ভালব্যবহার আশা করা আর নিম গাছ থেকে মিষ্টি আম প্রত্যাশা করা একই কথা। কিন্তু আপনারও তো বিশ্বাসের ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে একটু সুস্থ্য চিন্তাধারায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন। নিকৃষ্ট ভাষায় গালি, হত্যার হুমকি এবং নির্যাতন করে কাল্পনিক নেকি বা পূণ্য অর্জন করার আগে একবার ভেবে দেখেছেন কি? যে আপনার প্রিয় সন্তান,ভাই, বোন,কাছের বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজন এমনকি আপনার জন্মদাতা বাবা মা ও এই যৌন সংখ্যালঘু মানুষগুলোর কাতারে পড়তে পারে? কখনও কি জানতে চেয়েছেন কিংবা বোঝার চেষ্টা করেছেন তাদের অনুভূতিগুলো, কখনও কি তাদের সুখ-দুঃখের কথাগুলো শোনার মত সময় আপনাদের হয়েছিল? তা হবে কেন? বরং সর্ব নিকৃষ্ট ভাষায় গালি দিয়ে, নির্যাতন করে পূণ্য লাভের নেশা আপনাদেরকে ধার্মীক করে তুলেছে ঠিকই কিন্তু মানুষ হতে দেয় নি। ধার্মীক হওয়ার জন্য কত রকমের কসরত করেন আপনারা কিন্তু তার সিকি ভাগও কি সভ্য মানুষ হওয়ার জন্য করেছেন?

যদি মানুষ হতেন তবে আপনাদের মাথায় এরকম নিকৃষ্ট ভাষায় গালির কথা, অপরের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার চিন্তা ঘুরঘুর করত না। আপনাদের ভাষা শুনলে মনে হয় যেন সারা জীবন গালি জিহাদের উপরে PHD করেছেন। তবে আপনাদের অসভ্যতার জবাব আমরা অসভ্যতা দিয়ে দিতে চাই না। তাই হয়ত গালি দিয়ে, হুমকি দিয়ে আপনার এই ভেবে স্বস্তি পান যে ওরা হেরে গেছে। কিন্তু আপনাদের কুচরিত্র বাইরে প্রকাশ করার মাধ্যমে নিজেদের চরিত্রের দূর্বলতা তুলে ধরেন এবং প্রকৃতপক্ষে আপনারই হেরে যান। কিন্তু সেটা বোঝার মতো জ্ঞানটুকুও আপনাদের মাথায় অবশিষ্ট নেই। কারণ ছোটবেলাতেই গ্রামের অশিক্ষিত মোল্লা পুরোহিতরা মগজ ধোলাই করে বিশ্বাসের ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়ে সেই জ্ঞানটুকুও নষ্ট করে দিয়েছে।

কিছু ব্যক্তির মস্তিস্ক প্রসূত পরস্পর বিরোধী ( এক আয়াত/মার্ক/শ্লোক এর সাথে অন্য আয়াত/ মার্ক/ শ্লোক এর বিরোধী) সেকেলে মার্কা অমানবিক গ্রন্থ আপনাদের মাথায় ” সমকামীরা অভিশপ্ত, পাপী, জাহান্নামী, নরকবাসী, হত্যাযোগ্য অপরাধী ” এ রকম নানা কুসংস্কার ও অমানবিক ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে আর এ সমস্ত ধারণাকেই মহাজ্ঞান ভেবে নানা রকম কুযুক্তির অবতরণ করেন আপনারা। অথচ যদি সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করতেন তবে আপনারাও তাদের জন্যও সুন্দর একটি নির্ভয়ে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার চিন্তা করতেন।

আপনারা কল্পিত ঈশ্বর আল্লাহর নানা রকম সেবা করার পরেও পান থেকে চুন খসলেই জাহান্নাম বা নরকে বিশ্রীরকম শাস্তির ভয় দেখায় অথচ যাদেরকে বিনা কারণে শত শত বছর ধরে পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রিয়ভাবে নির্যাতন করে আসছেন তারা কিন্তু আপনার দেশ, সমাজ ও পরিবারের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই একটু মানবিক হতে শিখুন। তাদের অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে আরেকবার সব কিছু ভেবে দেখুন।

তাসনুভা ফেরদৌসী

 

Categories
LGBT NEWS NEWS অন্যান্য একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

যুগে যুগে যৌন সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মীয় নির্যাতনের ইতিহাস

ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল মানব মনের অজানা ভয় থেকে। মানব জাতীর উদ্ভবের পর অজানা অচেনা এই প্রকৃতির নানা বিপর্যয় মানব মনে একটা অলৈকিক ভয় সৃষ্টি করে। তাই এই সব বিপর্যয় ও প্রকৃতির নানা জিনিসের শক্তি দেখে তা থেকে বাঁচার জন্য এবং প্রকৃতিকে শান্ত রাখার চেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন বস্তুর আরাধনা শুরু হয়। কখনও সূর্যের, চন্দ্রের, নদীর, বড় গাছপালার, বাতাসের, পাহাড়ের, বড় পশু-পাখিসহ না জিনিসের পূজো আর্চনা করত এই ভেবে যে এগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যা আজও কিছুটা হলেও মানব সমাজে দেখা যায়।

আজকে বৃহৎ পরিসরে ধর্মকে দেখা গেলেও সেই প্রাচীন সময়ে ধর্ম বা বিশ্বাসগুলো ছোট ছোট গোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আস্তে আস্তে যখন মানুষ সঙ্গবদ্ধ হতে শুরু করল তখন ধর্মের প্রসারও একটু বাড়তে থাকলে। আজকের ধর্ম আর সেই সময়ের ধর্মের মধ্যে ছিল বিশাল ফারাক। তখন ধর্ম সামান্য কিছু আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু একসময় কিছু চতুর ধূর্ত ব্যক্তি সমাজের নিয়ন্ত্রণ নিজের দখলে নেয়ার জন্য নানা গল্প,রুপকথা আর ভয়ভীতি সমাহার করে ধর্মের ক্ষেত্র বাড়াতে থাকে। পুরুষদের হাতে রচিত এসব ধর্ম নারীদের শুধু মাত্র ভোগ্য বস্তুতে পরিণত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখে। এক সময় নারীর পাশাপাশী তথাকথিত পুরুষালী আচারণের বাইরে কেউ গেলেই তাকে পুরুষ জাতীর জন্য অমর্যাদাকর বিবেচনা করে হত্যার নানা ফন্দি ফিকির করা হয় ধর্মের মাধ্যমেই।

প্রাচীন ইহুদী ধর্মের আগে যৌন সংখ্যালঘুদের এসব শাস্তির বিধান ছিল না বরং গ্রহণযোগ্যতাই ছিল বেশি। ইহুদী ধর্মের আদিপুস্তকের ১৯ নং অনুচ্ছেদেরর বর্ণনাগুলো দেখলে ধর্মের পুরুষালীতার কিছুটা ধারণা মিলবে। আদিপুস্তুকের ১৯ঃ৮ নম্বার আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় লূত তার দুই মেয়েকে সবার হাতে তুলে দিয়ে বলতেছে ‘এদের সাথে যা ইচ্ছা কর’। একজন নবীর মুখে এরকম কথা কতটা বেমানান সেটা সুস্থ্য মস্তিস্কের যে কেউ বুঝবে।

ইহুদী ধর্মের আগে প্যাগান ধর্মে সমকামীদের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা ছিল। প্রথম ইহুদী ধর্মই লুতের কাল্পনিক কাহিনীর অবতরণ ঘটিয়ে সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষের সূত্রপাত ঘাটায়। আজকের এই সময়েও যারা ডেড সি এবং লূতের সেই কাহিনীর দোহায় দিয়ে সমকামীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায় তাদের ধারণা যে একবারে ভ্রান্ত তা প্রমাণ করতে বেশিক্ষণ লাগবে না।

ডেড সি তৈরী হওয়ার সময়কাল ও প্রকৃত কারণ এবং তথাকথিত লূতের সময়কালটা লক্ষ্য করলেই সব গোজামিল পরিষ্কার ধরা পড়বে। ইহুদী ধর্মের প্রথম দিকেও সমকামীদের হত্যা করা হত না বরং বিশ্বাস করা হত ঈশ্বর নিজে সমকামীদের শাস্তি দিবেন। কিন্তু কোন ঈশ্বরই তো পৃথিবীতে এসে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না হয়ত এটা বুঝতে পেরেই প্রভাবশালী ইহুদী ধর্মগুরু লিভাই সমকামীদের হত্যার বিধান দেন।

রাব্বাই আসহা নামে আরেক ধর্মগুরু ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে সমকামীদের দায়ী করেন। আজকের যুগে এই সব বক্তব্য চরম হাস্যকর। তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়া ইহুদী জাতীকে বেশি দিন এসব অন্ধবিশ্বাসে আবদ্ধ রাখতে পারেনি ধর্মগুরুরা। তাই ইহুদী সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্র ঈস্রাইলে সমকামীরা স্বাধীন জীবন যাপন করছে। তবে ইহুদী ধর্মগুরুদের সেই সব বিধান খৃষ্টানদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিল। যার ফল স্বরুপ ৩১২ সালে সম্রাট কন্সটান্টিন সম্রাট ম্যাক্সেন্টিয়াসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে খৃষ্টান ধর্মকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার পর তারই পুত্র কন্সটান্স ৩৪২ সালে প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে সমলিঙ্গের বিবাহ নিষিদ্ধ করেন। ৩৯০ সালে খৃষ্টান সম্রাট ভেলেন্টিনিয়ান ২, থিওডোসিয়াস ১ সমকামীদের অপরাধী ঘোষনা করে পুড়িয়ে মারার বিধান দেন। খৃষ্টান ধর্মগ্রন্থও এসব অমানবিক বিধান তৈরী করতে উস্কানি দেয়।

বাইবেলে বলা হয় ঈশ্বরকে অস্বীকার করার কারণে মানুষকে সমকামী বানিয়ে শাস্তি দেয়া হয়। অথচ হিসেব করলে দেখা যাবে ঈশ্বরে বিশ্বাসে সমকামীর সংখ্যা কম নয়। বাইবেলের কিছু সমকামী বিদ্বেষী বক্তব্য হচ্ছেঃ সমকামিতা এক রকমের পাপ (আদি পুস্তক ১৯:১-১৩; লেবীয় ১৮:২২; রোমীয় ১:২৬-২৭; ১ করিন্থীয় ৬:৯), যারা সমকামিতায় “দোষী”, তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার পাবে না (১ করিন্থীয় ৬:৯)। তবে বাইবেল সমকামী একেবারে হত্যা করতে হবে এমনটা বলে না। বাইবেল বলে “যারা যীশুকে উদ্ধারকর্তা বলে বিশ্বাসে গ্রহণ করেছে, তাদের সকলকেই সমকামিতা সহ সকল পাপের উপরে বিজয়ী হবার শক্তি দিতে ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন (১ করিন্থীয় ৬:১১; ২ করিন্থীয় ৫:১৭; ফিলিপীয় ৪:১৩)।

কিন্তু খৃষ্টান ধর্মগুরুরা বাইবেলের এই বিধানে থেমে থাকে নি বরং নিজেরা সমকামীদের জন্য অমানবিক বিধান তৈরী করেছে। খৃষ্টান সম্রাট জাস্টিনিয়ান ইহুদী ধর্মগুরু রাব্বাই আসহার মতোই সমকামীদের ভূমিকম্প, দূর্ভিক্ষ ও মহামারীর জন্য দায়ী করেন। ইতালিতে ১৩৩২ সাল থেকে ১৫০২ সাল পর্যন্ত সতের হাজার মানুষকে সমকামিতার অজুহাত দিয়ে হয়রানি করা হয়। ১৭৪২ সালেই একজনকে সমকামিতার কারণে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তী ছয় বছরে আরও তেরটি মামলা পারিচালিত হয়। ১৩৫৪ সালে রোলান্দিনো নামের একটি ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মরা হয়। ১৩৬৫ গিওভান্নি দা গিওভান্নি নামের আরেক ব্যক্তিকে গাধার পিঠে চড়িয়ে শহরে ঘুরিয়ে, লিঙ্গচ্ছেদন করে, লোহিত তপ্ত শলাকা পায়ুপথে ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। ১৪৯৪ সালে ডোমিসিয়ান পাদ্রী গিরোলামো স্যাভোনারোলার রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ১৪৯৫ থেকে ১৪৯৭ সালের মধ্যে ৭৩১ জনকে সমকামিতার অভিযোগে প্রহসনমূলক বিচারে হয়রানি করা হয়। আরও হত্যা করা হয় জন এথেরন,মানবাতাবাদী ইতিহাসবিদ জ্যাকোপো বোনভাডিও, ওয়াল্টার হাঙ্গারফোর্ড, সুইডিস রুপান্তরকামী ওলসডটার,ফরাসি কম্পোজার ডমিনিট ফিনোটকে। ১৯৯৮ সালে ম্যাথু শেফার্ড নামে একজন মেধাবী সমকামী যুবক বন্ধুদের হাতে হত্যার শিকার হয় ও ২০০৩ সালে আমেরিকায় ছয়জন সমকামী নারী পুরুষকে হত্যা করা হয়।

রাণি ভিক্টোরিয়া খৃষ্টান ধর্মদ্বারা প্রভাবিত হয়ে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোত দৈর্ঘ্য দিন ধরে ৩৭৭ ধারার মতো একটি কালো আইন রেখে গিয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে এসব মানবতাবিরোধী কাজের জন্য বর্তমান খৃষ্টান ধর্মগুরুরা এবং ব্রিটিশ রাজ পরিবার ক্ষমা চেয়ে নিজেদের পরিবর্তন করতে পেরেছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে সমকামীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন তুলে দিয়েছে। সব ধর্ম মিলে সমকামীদের প্রতি যা অমানবিক বিধান চালু করেছিল ইসলাম ধর্ম তার সবগুলোকে গ্রহণ করেছে এবং এখনও সেই অমানবিক বিধান চালুও রেখেছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ গুলোতে। সমকামীদের প্রতি ইসলামিক অমানবিক বিধানগুলো কোরআন হাদিস থেকে দেখে আসি।

কারোর ব্যাপারে সমকাম প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে ও তার সমকামী সঙ্গীকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা করতে হয়।

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

مَنْ وَجَدْتُمُوْهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ فَاقْتُلُوْا الْفَاعِلَ وَالْـمَفْعُوْلَ بِهِ.

‘‘কাউকে সমকাম করতে দেখলে তোমরা উভয় সমকামীকেই হত্যা করবে’’। (আবূ দাউদ ৪৪৬২; তিরমিযী ১৪৫৬; ইব্নু মাজাহ্ ২৬০৯; বায়হাক্বী ১৬৭৯৬; হা’কিম ৮০৪৭, ৮০৪৯)

উক্ত হত্যার ব্যাপারে সাহাবাদের ঐকমত্য রয়েছে। তবে হত্যার ধরনের ব্যাপারে তাদের পরস্পরের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

اُرْجُمُوْا الْأَعْلَى وَالْأَسْفَلَ، اُرْجُمُوْهُمَا جَمِيْعًا.

’’উপর-নীচের উভয়কেই রজম করে হত্যা করো’’। (ইব্নু মাজাহ্ ২৬১০)

আবূ বকর, ‘আলী, ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ যুবাইর (রাঃ) এবং হিশাম বিন্ আব্দুল্ মালিক (রাহিমাহুল্লাহ্) সমকামীদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।

মুহাম্মাদ বিন্ মুন্কাদির (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

كَتَبَ خَالَدُ بْنُ الْوَلِيْدِ إِلَى أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ ـ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ـ أَنَّهُ وَجَدَ رَجُلًا فِيْ بَعْضِ ضَوَاحِيْ الْعَرَبِ يُنْكَحُ كَمَا تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ، فَجَمَعَ لِذَلِكَ أَبُوْ بَكْرٍ أَصْحَابَ رَسُوْلِ اللهِ ، وَفِيْهِمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ ، فَقَالَ عَلِيٌّ : إِنَّ هَذَا ذَنْبٌ لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أُمَّةٌ إِلاَّ أُمَّةً وَاحِدَةً، فَفَعَلَ اللهُ بِهِمْ مَا قَدْ عَلِمْتُمْ، أَرَى أَنْ تَحْرِقَهُ بِالنَّارِ، فَاجْتَمَعَ رَأْيُ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ  أَنْ يُّحْرَقَ بِالنَّارِ، فَأَمَرَ بِهِ أَبُوْ بَكْرٍ أَنْ يُّحْرَقَ بِالنَّارِ.

‘‘খালিদ্ বিন্ ওয়ালীদ্ (রাঃ) একদা আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এ মর্মে একটি চিঠি পাঠালেন যে, তিনি আরবের কোন এক মহল্লায় এমন এক ব্যক্তিকে পেয়েছেন যাকে দিয়ে যৌন উত্তেজনা নিবারণ করা হয় যেমনিভাবে নিবারণ করা হয় মহিলা দিয়ে। তখন আবূ বকর (রাঃ) সকল সাহাবাদেরকে একত্রিত করে এ ব্যাপারে তাঁদের পরামর্শ চেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ‘আলী (রাঃ) ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: এ এমন একটি গুনাহ্ যা বিশ্বে শুধুমাত্র একটি উম্মতই সংঘটন করেছে। আল্লাহ্ তা‘আলা ওদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন তা সম্পর্কে আপনারা অবশ্যই অবগত। অতএব আমার মত হচ্ছে, তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। উপস্থিত সকল সাহাবারাও উক্ত মতের সমর্থন করেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ফরমান জারি করেন’’।

(বায়হাক্বী/শু‘আবুল্ ঈমান, হাদীস ৫৩৮৯)

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

يُنْظَرُ أَعْلَى بِنَاءٍ فِيْ الْقَرْيَةِ، فَيُرْمَى اللُّوْطِيُّ مِنْهَا مُنَكَّسًا، ثُمَّ يُتْبَعُ بِالْحِجَارَةِ.

‘‘সমকামীকে মহল্লার সর্বোচ্চ প্রাসাদের ছাদ থেকে উপুড় করে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তার উপর পাথর মারা হবে’’।

(ইব্নু আবী শাইবাহ্, হাদীস ২৮৩২৮ বায়হাক্বী ৮/২৩২)

সমকামীর জন্য পরকালের শাস্তি হচ্ছে আল্লাহ্ তা‘আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না।

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

لَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى رَجُلًا أَوِ امْرَأَةً فِيْ الدُّبُرِ.

‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না যে সমকামে লিপ্ত হয় অথবা কোন মহিলার মলদ্বারে গমন করে’’। (ইব্নু আবী শায়বাহ্, হাদীস ১৬৮০৩; তিরমিযী ১১৬৫)

কতটা অমানবিক ও নোংরা এসব বিধান। অথচ বহু বিবাহ, বাল্য বিবাহ, যৌন দাসি রাখা জায়েজ কিন্তু নিরপরাধী সমকামীদের জন্য রাখা হল এমন অমানবিক বিধান। ১৯৫ টি দেশের মধ্যে যে ৭০ টি রাষ্ট্রে সমকামিতা অপরাধ তার বেশির ভাগ রাষ্ট্রই মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ট দেশ। ৭ টি মুসলিম দেশে সমকামিতা করলে মৃত্যুদণ্ডের ন্যায় বিধান রাখা হয়েছে। দেশগুলো হলো: সৌদি আরব, ইরান,মৌরিতানিয়া, উত্তর নাইজেরিয়া , সুদান এবং ইয়েমেন। ১৯৭৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইরানে চার হাজার ব্যক্তিকে সমকামিতার জন্য হত্যা করা হয়। ২০০৫ সালে ইরানে দুইজন সমকামী যুবকে হত্যা করে ট্রাকে করে পুরো শহর ঘোরানো হয়। ১৯৯৮ সালে আফগানিস্থানের কান্দাহারে তিনজন সমকামীকে জীবন্ত মাটি চাপা দেয়া হয়। ইরাকে ২০০৯ সালে সাত মাসে গুপ্ত হত্যার শিকার হয়। বাংলাদেশে দুজন সমকামীকে হত্যা করা হয়। কয়েক দিন আগে ইন্দোনেশিয়ায় দুজন লেসবিয়ানকে প্রকাশ্য বেত্রাঘাত করা হয়। সৌদি আরবে মানুষের পাশাপাশি সমকামিতার কারণে একটি ঘোড়াকেও হত্যা করে। হিন্দু ধর্মে সমকামীদের হত্যার বিধান না থাকলেও মনুসংহিতায় বয়স্ক নারী সমকামীর শাস্তি গাধার পিঠে ঘোরান এবং দুটি আঙ্গুল কেটে দেয়া, কুমারী সমকামীর শাস্তি দুইশো মুদ্রা জরিমানা ও দশটি বেত্রাঘাত। পুরুষ সমকামীর শাস্তি হচ্ছে জাতীচ্যুত এবং কাপড়সহ জলে ডুব দেয়া।

সম্প্রতিক সময়ে ভারতে ধর্মগুরুদের বিরোধীতা সত্বেও আদালত কর্তৃক সমকামীদের বৈধতা দান প্রশংসার যোগ্য। পরিশেষে বলব, যে সমস্ত ধর্ম আজকের বিজ্ঞানের যুগেও কল্পকাহিনীর উপর ভিত্তি করে বিনা কারণে সমকামী বিদ্বেষ ছাড়াচ্ছে সেই সব ধর্মকে বয়কট করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা উচিৎ।

 

তাসনুভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা

Dead sea, a horrible myth

‘ডেড সি! এক ভয়ঙ্কর মিথ’

ডেড সি ( মৃত্য সাগর বা লূত সাগর) ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্মে একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। ডেড সি বা লূত সাগর নিয়ে ধর্ম গ্রন্থগুলোতে রয়েছে নানা কল্প কাহিনী। বিভিন্ন নদী, বিভিন্ন স্থান ও নানা জিনিস নিয়ে এরকম কল্পকাহিনী প্রচলিত থাকে। এগুলোকে আমরা মিথ বলি। অনেকেই তাদের আশে-পাশের নানা জিনিস নিয়ে এরকম প্রচলিত মিথ শুনে থাকতে পারেন। কেউ হয়ত এসব মিথ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে আবার কেউ যুক্তি প্রমাণ না থাকায় এসব বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ওসব ছোট ছোট মিথে বিশ্বাস অবিশ্বাস হয়ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু ডেড সি বা লূত সাগর এমন একটি মিথ যা যুগের পর যুগ ধরে সমাজে গভীব প্রভাব ফেলতে পেরেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত প্রায় সবাই ডেড সি বলতে এক ভয়ঙ্কর ভূতুরে স্থান হিসেবে কল্পনা করতেই ভালবাসে।

বিশেষ করে সমকামিতার প্রসঙ্গ উঠলে এই লূত সাগরের প্রসঙ্গ যে উঠবে না এমনটা আজ-কাল চিন্তা করাও যায় না। ইন্টারনেটে সমকামী বিদ্বেষীদের তৈরী করা লূত সাগরের ডিজাইন দেখলে গাঁ ছমছম করে ওঠে। তাদের ধারণা এই ডেড সি সমকামীদের প্রতি ঈশ্বরের পাঠানো গযব থেকে তৈরী হয়েছে। ধর্ম গ্রন্থগুলোর দাবি করে ফেরেশতা কর্তৃক উক্ত স্থান উল্টে দেয়া, অগ্নি বৃষ্টি হওয়া, আঁকাশ থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ হওয়ার ফলে এই সাগরের তৈরী হয়েছে। ঈশ্বর বা আল্লাহর অভিশাপের কারণেই নাকি এই সাগরে কোন জীব বাঁচেনা। কিন্তু আসলেই কি এটি ঐশ্বরিক গযবে সৃষ্ট কোন স্থান? ডেড সি কি আসলেই অমঙ্গলজনক ভয়ঙ্কর কোন ভূতুরে স্থান? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজকের এই বিজ্ঞানের যুগে খুঁজে বের করা তেমন কঠিন কিছু নয়। ডেড সি সৃষ্টি হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং এসব উদ্ভট মিথগুলোর দাবিগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে ধর্মগ্রন্থগুলোর ওসব কল্পকাহিনী ধোপে টিকবে না।

আব্রাহামিক ধর্মগুলো থেকে জানা যায় লূত ছিল ইব্রাহিমের ভাতিজা। এই লূতের সময়েই নাকি সমকামীদের প্রতি গযব স্বরুপ ডেড সি তৈরী হয়। কিছু ইসলামিক ও ঈস্রাইলী বর্ণনা এবং উইকিপিডিয়ার তথ্য থেকে জানা যায় ইব্রাহিমের জন্ম ১৮০০ থেকে ২০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। মুহাম্মাদ সালামাহ জাবর কর্তৃক লিখিত তারীখুল আম্বিয়া গ্রন্থ থেকে জানা যায় ঈসা এর জন্মের দু’হাজার বছর আগে ছিল ইউসুফ এর সময়কাল আর ইউসুফ হচ্ছে ইব্রাহিমের তৃতীয় অধ্বতন পুরুষ অর্থ্যাৎ ইব্রাহিমের পুত্র ইসহাক,তার পুত্র ইয়াকুব,তার পুত্র ইউসুফ। আর ইউসুফের প্রপিতা ইসহাকের চাচাত ভাই হচ্ছে লুত। সেই হিসেবে একেকজনের গড় বয়স ১৫০ বছর করে ধরলেও ৪৫০ বছর হয়। তাহলে এই তথ্য মতেও ঈসার সময় থেকে লূত এর সময় হচ্ছে (২০০০+৪৫০) = ২৪৫০ বছর পূর্বে। অর্থ্যাৎ আজ থেকে প্রায় ৪৪৬৯ বছর পূর্বে ডেড সি তৈরী হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস ও বিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলে। ইনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও উইকিপিডিয় থেকে ডেড সি সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরি।

“প্রায় তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে বর্তমান জর্দান নদী , মৃত সাগর এবং ওয়াদি আরাবাহ অঞ্চল লোহিত সাগরের পানিতে বারবার প্লাবিত হত। এর ফলে একটি সরু উপসাগরের সৃষ্টি হয়। উপসাগরটি জেজরিল উপত্যকায় একটি সরু সংযোগের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত ছিল । প্রাকৃতিক তত্ত্ব অনুযায়ী প্রায় ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে উপত্যকা এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী স্থলভাগ যথেষ্ট উচ্চতা লাভ করে। ফলে মহাসাগরের প্লাবনে এই অঞ্চলে সৃষ্ট উপসাগরটি পরিবেষ্টিত হয়ে হ্রদে পরিণত হয়।

৭০,০০০ বছর পূর্ব থেকে ১২,০০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত ডেড সি’র পানির উচ্চতা বর্তমান উচ্চতার চাইতে ১০০ থেকে ২৫০ মিটার বেশি ছিল। ২৬,০০০ বছর পূর্বে এটির পানি সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে। প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে এর পৃষ্ঠ উচ্চতা নাটকীয় ভাবে হ্রাস পেতে শুরু করে, যা সম্ভবত বর্তমান পৃষ্ঠ উচ্চতার চাইতেও কম ছিল। গত কয়েক হাজার বছর ধরে এর পানির পৃষ্ঠ উচ্চতা মোটামুটি ৪০০ মিটারের আশেপাশে অবস্থান করছে।বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে , মহাসাগরের পানির তুলনায় ডেড সির পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদানগুলোর পার্থক্য আছে । মৃত সাগরের পানিতে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড , ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড , ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে । এর লবণাক্ততা শতকরা ৩০% । ফলে পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার ।উচ্চ প্লবতার দরুন যে কেউ মৃত সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে পারে । এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র-এর ইউটাহ তে অবস্থিত গ্রেট সল্ট লেক এর মতো “। কোথায় তিন মিলিয়ন বছর আর কোথায় মাত্র ৪৪৬৯ বছর। ডেড সি নিয়ে ধর্মের এই গোঁজামিল দেখেই বোঝা যায় ধর্ম গ্রন্থের লূতের কাহিনী সম্পর্ণ ভিত্তিহীন।

এবার দেখে নেই ডেড সি সত্যিই অমঙ্গলজনক ভয়ঙ্কর ভূতুরে কোন স্থান? না একেবারেই নয়। বরং মৃত সাগর অঞ্চলটি চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণাস্থল হয়ে উঠেছে । এর মূলে রয়েছে হ্রদের পানিতে খনিজ দ্রব্যাদির বিপুল উপস্থিতি, বাতাসে এলার্জি উৎপাদক দ্রব্য এবং পরাগরেণুর স্বল্পতা , উচ্চ ভূ-মণ্ডলীয় চাপ, সৌর বিকিরণে অতি বেগুনি উপাদানের কম উপস্থিতি । উচ্চ বায়ুমন্ডলীয় চাপ , শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। চর্মরোগ সোরিয়াসিস( psoriasis) এর জন্য দীর্ঘসময় সূর্যস্নান বেশ উপকারী । এ অঞ্চলে অতি বেগুনি রশ্মির স্বল্পতা সূর্যস্নানের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে । এছাড়া রোগটি নিরাময়ে জন্য মৃত সাগরের লবণও বেশ উপকারী বলে বৈজ্ঞানিকদের গবেষণায় দাবী করা হয়েছে।

এই স্থান এতটা উপকারী হওয়ার পরেও কেন পানিতে জীব নেই? এটাও জানা দরকার। হ্যা, মৃত সাগরে কোন প্রাণের অস্তিত্ব নেই বা কোন প্রাণী বাঁচে না। কথাটা আংশিক সত্য। অতিমাত্রায় লবণ থাকার কারণে মৃত সাগরে কোন মাছ বা অন্যান্য জীবজন্তু টিকতে পারে না। এমনকি মানুষরাও এই সাগরে ডুবসাঁতার দিতে গিয়ে পানি খেয়ে ফেললে শ্বাস আটকে মারা যেতে পারে। তবে গত তিন-চার বছরে গভীর তলদেশে ডাইভ করে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু ব্যাক্টেরিয়ার পুরু স্তর পেয়েছেন। এছাড়াও পাওয়া গেছে অণুজীবের কলোনি। এর কারণ মৃত সাগরের তলদেশে কিছু ছোট ছোট স্বাদুপানির “ফোয়ারা” বা জেটস্ট্রিম আছে। ব্যস, স্বাদুপানি যতখানি জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে লবণক্ততা কম। জায়গাগুলো প্রায় ৩৩ ফুট চওড়া ও ৪৩ ফুট গভীর। এরকম বেশ কিছু স্পটে একই রকমের ব্যাকটেরিয়ার প্রাচুর্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সুতরাং এটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার যে মৃত সাগরের অতিমাত্রায় লবণই প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর, আর যেখানে লবণের পরিমাণ কম, সেখানে প্রাণ জন্মাতে সময় লাগে নি। এর সাথে কোনো অলৌকিক ব্যাপার-স্যাপার জড়িত না। পৃথিবীতে এ রকম হ্রদ আরও অনেক গুলো আছে। ডেড সি নিয়ে প্রচলিত মিথ তৈরী হয়েছিল সম্ভাবত বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট লেখার সময়কালে। আর বর্তমানে বাইবেলের তথ্যমতে ওল্ড টেস্টামেন্ট লেখা হয় ১৪৪৫ -১৪০৫ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। অর্থ্যাৎ ধর্মীয় হিসাব মতে লূতের সময় থেকে ৭০০ বছর পরে এসব মিথ তৈরী হয়েছিল।

প্রকৃত সত্য জানার পরেও শুধু মাত্র কিছু মিথের উপর ভিত্তি করে সমকামী সম্প্রদায়ের উপর আযাব-গযবের ট্যাগ লাগিয়ে দিবেন না বলে সচেতন পাঠকের কাছে আশা করছি।

তাসনুভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – প্রথম খন্ড

আব্রাহামিক ধর্ম অর্থ্যাৎ ইহুদী, খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্ম উত্থানের সময় থেকেই সমকামীদের প্রতি খড়গহস্ত। যুগে যুগে সমকামীরা ধর্মের নিরিহ শিকারে পরিণত হয়ে উঠেছিল। ধর্ম কর্তৃক নানা নির্যাতন মুখে বুজে সহ্য করতে হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠিকে। কিন্তু গত শতাব্দি থেকে যৌন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির মানবাধীকার নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হতে থাকে। বৈজ্ঞানীক গবেষণাগুলোর মাধ্যমে সমকামী জনগোষ্ঠির প্রতি প্রচলিত কুসংস্কার গুলো দূর হতে শুরু করেছে। যার ফলে সভ্য সমাজগুলো আজ সমকামী ব্যক্তিদের মাানবাধীকার রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হয়ে উঠেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণে ইহুদী,খৃষ্টান এবং বর্তমানে হিন্দু ধর্ম কিছুটা নমনীয় মনোভাব পোষণ করতে শুরু করলেও ইসলাম ধর্ম হিংস্রতার দিকে আরও এগিয়ে যাচ্ছে।

খৃষ্টান, ইহুদী ও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা এবং অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হলে বিপরীত দিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলো সমকামীদের বৈধতা দানে চরম বিরোধী হয়ে দাড়িয়েছে। সমকামীদের নিয়ে বিভিন্ন খবরে ও সচেতনমূলক পোষ্টে মুসলিমদের বিদ্বেষমূলক, হিংস্র ও অযৌক্তিক মন্তব্য লক্ষ্য করলে মুসলিমদের স্বরুপ জানা যায়। কিন্তু তারা কি সমকামীদের নিয়ে সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে?

একজন সমকামী কি কোন বিসমকামীকে জোর করে সমকামী বানাচ্ছে? বিসমকামী যৌনতায় বাধা দিচ্ছে? কাউকে কি ধর্ষণ করতেছে? প্রকাশ্যে জনসম্মুখে যৌন কার্য করতেছে? না, এসবের কিছুই করেনি। দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের সম্মতিতে যৌন কার্য করলে তাতে বাধা দেয়ার অধিকার ইসলাম ধর্মকে কে দিয়েছে? একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজের জীবন সঙ্গি হিসেবে কাকে বেছে নিবে সেটা ঠিক করে দেয়ার জন্য ধর্মকে কে অধিকার দিয়েছে? একজন ব্যক্তি নিজের বিছানায় অন্য একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির সম্মতিতে যাই করুক তার জন্য তাকে পাথর ছুড়ে,আগুনে পুড়িয়ে, ফাঁসি দিয়ে মারার বিধান দেয়ার জন্য ধর্ম কে? একজন ব্যক্তি সমলিঙ্গের কাউকে ভালবাসলে, চুমু খেলে বা যৌন কার্য করলে অন্যদের তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?

হয়ত কেউ বলবেন সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হ্রাস পাবে। দুজন মানুষের ভালবাসা এবং প্রণয়কে যে সব ধর্ম ও সমাজ অনৈতিকতা হিসেবে চিহ্নত করে সেই সমস্থ্য ধর্ম ও সমাজের এই রকম সংকীর্ণ চিন্তাধারাকে আমরা ঘৃণা করি। যে ধর্ম নারী নির্যাতন,শিশুকামীতা,দাস প্রথা,দাসী সেক্স,বহুবিবাহ,লুটতারাজ, অন্য মতাদর্শের মানুষকে নির্বিচারে গণহত্যা, বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য কে সমর্থন জোগায় সেই ধর্ম সমকামীদের নিয়ে সমালোচনার নৈতিক যোগ্যতা রাখে না। আর ইসলাম এইসব মানবতাবিরোধী কাজকে পূণ্য মনে করে। ইসলাম আজকের সভ্যতায় সবচেয়ে নিখৃষ্ট মানবতাহীন একটি ধর্ম। এর কিছু উদাহরণ কোরআন হাদিস থেকে তুলে ধরছি। ইসলাম পৃথিবীতে এসেছিল যুদ্ধ করার জন্য এবং অন্য মতের মানুষদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (كتاب الإيمان)
হাদিস নম্বরঃ ২৪

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যাস্ত।

অমুসলিমের সাথে বন্ধুত্ব না করার জন্য কোরআনে হুকুম দেয়া হয়েছে।لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸﴾

মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন।(৩/২৮)।

এবার কোরআন ভিন্ন মতে মানুষের কি ভাবে দেখে কোরআন থেকেই দেখুন:-مَنۡ کَانَ عَدُوًّا لِّلّٰہِ وَ مَلٰٓئِکَتِہٖ وَ رُسُلِہٖ وَ جِبۡرِیۡلَ وَ مِیۡکٰىلَ فَاِنَّ اللّٰہَ عَدُوٌّ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۹۸﴾

‘যে শত্রূ হবে আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রাসূলগণের, জিবরীলের ও মীকাঈলের তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের শত্রূ ’।(২/৯৮)

দ্বিতীয় খন্ডের জন্য চোখ রাখুন।

তাসনুভা ফেরদৌসী

 

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

ইসলামের হিংস্রতা বনাম সমকামীদের মানবাধীকার – দ্বিতীয় খন্ড

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ

গণহত্যাঃ

ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন। (বোখারী, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭৩)
এ রকম আরো অনেক হাদিস ও কুরআনের আয়াত আছে।

শিশুকামীতাঃ

১. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন, দু’বার তোমাকে আমায় স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, তুমি একটি রেশমী কাপড়ে আবৃতা এবং আমাকে বলছে ইনি আপনার স্ত্রী, আমি তার ঘোমটা সরিয়ে দেখলাম, সে মহিলা তুমিই। তখন আমি ভাবছিলাম, যদি তা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন। (মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ নং ২৪৩৮, আহমাদ ২৪১৯৭)(বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৩)

২. হিশাম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার দিকে বের হওয়ার তিন বছর আগে খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা। তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উৎযাপন করেন। (বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৪)

৩. ‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। [ বোখারী ৬১৩০,মুসলিম৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪০, আহমাদ ২৬০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৭)

৪. আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। (বোখারী,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)

*তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোন হাদীসে ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর বিবাহ হওয়ার ছয় বছর আবার কোন হাদীসে সাত বছর বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যাকারদের মতে, ঐ সময় আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বয়স ছয় পার হয়ে সাত বছর চলছিল। ফলে কোন হাদীসে ছয় বছরের উপর অতিরিক্ত সময় বাদ দিয়ে ছয় বছর গণনা করা হয়েছে, আবার কোন হাদীসে অতিরিক্ত সময়কে পূর্ণ বছর ধরে সাত বছর গণনা করা হয়েছে।

বহুবিবাহ এবং দাসি সেক্স

মোহাম্মদের স্ত্রীর সংখ্যা ছিল তেরটি। কোন কোন মতে নয়টি। নবী তাঁর অষ্টম বিয়েটি সম্পন্ন করেন ৬২৯ খৃস্টাব্দে তাঁরই পালিত পুত্র জায়েদের স্ত্রীর সঙ্গে যাঁর নাম ছিলো জয়নব বিনতে জাহাস । কেউ কেউ বলেছেন এটা সপ্তম বিয়ে, ইহুদি নারী জুয়াইরিয়ার সঙ্গে বিয়েটা ছিলো অষ্টম বিয়ে । তবে জয়নব বিনতে জাহাসের সঙ্গে বিয়েটাই অষ্টম বিয়ে বলে অধিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় । মুহাম্মদ অনেকগুলি বিয়ে করেছিলেন যা নিয়ে আজো সারা দুনিয়ায় চর্চা হয় । এত গুলো বিয়ের পরেও রেখেছিল একদল যৌনদাসী। দাসি মারিয়া (পরবর্তীতে মরিয়ম) ছিল তার প্রিয় যৌন দাসী।

লুটতারাজ

ইসলামে সৈন্যদের গনিমতের লোভ দেখিয়ে লুটতারাজে নামানো হত। তার পর পুরুষদের হত্যা এবং নারী, শিশু এবং সম্পদ গনিমত হিসেবে বন্ঠন করা হতো।

. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বনী কুরায়যার ইয়াহূদীরা সা‘দ ইবনু মা‘আয (রাঃ)-এর ফায়সালা মুতাবিক দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘তোমাদের নেতার দিকে দন্ডায়মান হও।’ তিনি এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও এরা তোমার ফায়সালায় রাজী হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এই রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মত ফয়সালাই করেছ।’ (৩৮০৪, ৪১২১, ৬২৬২) (মুসলিম ৩২/২২ হাঃ ১৭৬৮, আহমাদ ১১১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৬)

এ রকম অনেক হাদিস আছে এবং মোহাম্মাদ নিজেও যুদ্ধবন্দী নারী ভোগ করেছে।

নারী বিদ্বেষী

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যদি দু’জন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক (সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ কর)। (সূরা আল-বাকারাহঃ ২৮২)

. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বলল, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ত্রুটির কারণেই। (৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮২)

“মেয়েদের উপর রয়েছে পুরুষের প্রাধান্য।”
(সূরা নিসা আয়াত ৩৪)

সহিহ্ বোখারি ভল্যিউম ৭, হাদিস ৩৩:
উসামা বিন যায়েদ বলেছেন, নবী বলেছেন যে আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকর আর কিছু রইল না।

সহিহ্ মুসলিম, বই ৩১ হাদিস ৫৯৬৬:
আবু মূসার বর্ণনা মতে নবী (দঃ) বলেছেন: “পুরুষদের মধ্যে অনেকেই ত্রুটিমুক্ত কিন্তু নারীদের মধ্যে কেউ-ই ত্রুটিমুক্ত নয়, কেবল ইমরানের কন্যা মেরী এবং ফারাওয়ের স্ত্রী আয়েশা ছাড়া।”

নবী যখন জানতে পারলেন যে ইরান (তৎকালীন পারস্য) এর রাষ্ট্রপ্রধানের কন্যাকে পারস্যবাসী নিজেদের বাদশাহ বানিয়েছে তখন এ খবর শুনে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করলেন-
“যে জাতি নিজেদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারের দায়িত্বসমূহ কোন নারীর ওপর সোপর্দ করে সে জাতি কখনোই প্রকৃত কল্যাণ এবং সার্থকতা লাভ করতে পারে না।” ……………………………(বুখারী,তিরমিযী,নাসাঈ)

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘‘এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে’’ এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলা সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার, আর আমাকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তা‘আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ‘‘তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৮)[২৪৫০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৭)

সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা আছে নারী, ঘোড়া ও বাড়িতে। (৫০৯৫) (মুসলিম ৩৯/৩৪ হাঃ ২২২৬, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৯)

উপরোক্ত ইসলাম ধর্মের মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রমাণ গুলোর মতো আরও অসংখ্য প্রমাণ দেয়া যাবে যা মুসলমানরা প্রতি দিন কনে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে শিক্ষক কর্তৃক ছেলে শিশু ধর্ষণ। এসব অপরাধে করেও যে সব মুসলিমরা সমকামীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নত করার অপপ্রয়াস চালান তারা যেন আগে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেন এবং নিজেদের চিন্তাধারার পরিবর্তন করেন।

শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে যে কুরাআন অমুসলিমদের ব্যাপারে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয় সেই কোরআন হাদিসে সমকামীদের ব্যপারে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অসমীচীন নয়। কিন্তু সমকামীদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম সমালোচনার নৈতিক অধিকার রাখে না। কারণ ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মদ নানা অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল। হাদিস থেকে কিছু নমুনা তুলে ধরা হলঃ

গণহত্যাঃ

ইবনু ‘আউন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফি‘ (রহ.)-কে পত্র লিখলাম, তিনি জওয়াবে আমাকে লিখেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী মুস্তালিক গোত্রের উপর অতর্কিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের গবাদি পশুকে তখন পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যুদ্ধক্ষমদের হত্যা এবং নাবালকদের বন্দী করেন এবং সেদিনই তিনি জুওয়ায়রিয়া (উম্মুল মু’মিনীন)-কে লাভ করেন। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ সম্পর্কিত হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি নিজেও সে সেনাদলে ছিলেন। (বোখারী, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩৭৩)
এ রকম আরো অনেক হাদিস ও কুরআনের আয়াত আছে।

শিশুকামীতাঃ

১.‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন, দু’বার তোমাকে আমায় স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আমি দেখলাম, তুমি একটি রেশমী কাপড়ে আবৃতা এবং আমাকে বলছে ইনি আপনার স্ত্রী, আমি তার ঘোমটা সরিয়ে দেখলাম, সে মহিলা তুমিই। তখন আমি ভাবছিলাম, যদি তা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে, তবে তিনি তা বাস্তবায়িত করবেন। (মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ নং ২৪৩৮, আহমাদ ২৪১৯৭)(বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৩)

২. হিশাম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার দিকে বের হওয়ার তিন বছর আগে খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা। তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উৎযাপন করেন। (বোখারী,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১৪)

৩. ‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত। [ বোখারী ৬১৩০,মুসলিম৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪০, আহমাদ ২৬০২০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৮৭)

৪.আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর* বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন। (বোখারী,ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৫)

*তিনি বলেন যে, তার ছয় বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোন হাদীসে ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর বিবাহ হওয়ার ছয় বছর আবার কোন হাদীসে সাত বছর বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের ব্যাখ্যাকারদের মতে, ঐ সময় আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বয়স ছয় পার হয়ে সাত বছর চলছিল। ফলে কোন হাদীসে ছয় বছরের উপর অতিরিক্ত সময় বাদ দিয়ে ছয় বছর গণনা করা হয়েছে, আবার কোন হাদীসে অতিরিক্ত সময়কে পূর্ণ বছর ধরে সাত বছর গণনা করা হয়েছে।

বহুবিবাহ এবং দাসি সেক্স

মোহাম্মদের স্ত্রীর সংখ্যা ছিল তেরটি। কোন কোন মতে নয়টি। নবী তাঁর অষ্টম বিয়েটি সম্পন্ন করেন ৬২৯ খৃস্টাব্দে তাঁরই পালিত পুত্র জায়েদের স্ত্রীর সঙ্গে যাঁর নাম ছিলো জয়নব বিনতে জাহাস । কেউ কেউ বলেছেন এটা সপ্তম বিয়ে, ইহুদি নারী জুয়াইরিয়ার সঙ্গে বিয়েটা ছিলো অষ্টম বিয়ে । তবে জয়নব বিনতে জাহাসের সঙ্গে বিয়েটাই অষ্টম বিয়ে বলে অধিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় । মুহাম্মদ অনেকগুলি বিয়ে করেছিলেন যা নিয়ে আজো সারা দুনিয়ায় চর্চা হয় । এত গুলো বিয়ের পরেও রেখেছিল একদল যৌনদাসী। দাসি মারিয়া (পরবর্তীতে মরিয়ম) ছিল তার প্রিয় যৌন দাসী।

লুটতারাজ

ইসলামে সৈন্যদের গনিমতের লোভ দেখিয়ে লুটতারাজে নামানো হত। তার পর পুরুষদের হত্যা এবং নারী, শিশু এবং সম্পদ গনিমত হিসেবে বন্ঠন করা হতো।

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বনী কুরায়যার ইয়াহূদীরা সা‘দ ইবনু মা‘আয (রাঃ)-এর ফায়সালা মুতাবিক দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তখন সা‘দ (রাঃ) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘তোমাদের নেতার দিকে দন্ডায়মান হও।’ তিনি এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসলেন। তখন তাঁকে বললেন, ‘এগিয়ে যাও এরা তোমার ফায়সালায় রাজী হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এই রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মত ফয়সালাই করেছ।’ (৩৮০৪, ৪১২১, ৬২৬২) (মুসলিম ৩২/২২ হাঃ ১৭৬৮, আহমাদ ১১১৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮২৬)

এ রকম অনেক হাদিস আছে এবং মোহাম্মাদ নিজেও যুদ্ধবন্দী নারী ভোগ করেছে।

নারী বিদ্বেষী

আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ যদি দু’জন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক (সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ কর)। (সূরা আল-বাকারাহঃ ২৮২)

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বলল, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ত্রুটির কারণেই। (৩০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮২)

“মেয়েদের উপর রয়েছে পুরুষের প্রাধান্য।”
(সূরা নিসা আয়াত ৩৪)

সহিহ্ বোখারি ভল্যিউম ৭, হাদিস ৩৩:
উসামা বিন যায়েদ বলেছেন, নবী বলেছেন যে আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকর আর কিছু রইল না।

সহিহ্ মুসলিম, বই ৩১ হাদিস ৫৯৬৬:
আবু মূসার বর্ণনা মতে নবী (দঃ) বলেছেন: “পুরুষদের মধ্যে অনেকেই ত্রুটিমুক্ত কিন্তু নারীদের মধ্যে কেউ-ই ত্রুটিমুক্ত নয়, কেবল ইমরানের কন্যা মেরী এবং ফারাওয়ের স্ত্রী আয়েশা ছাড়া।”

নবী যখন জানতে পারলেন যে ইরান (তৎকালীন পারস্য) এর রাষ্ট্রপ্রধানের কন্যাকে পারস্যবাসী নিজেদের বাদশাহ বানিয়েছে তখন এ খবর শুনে রাসূল (সাঃ) এরশাদ করলেন-
“যে জাতি নিজেদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ব্যাপারের দায়িত্বসমূহ কোন নারীর ওপর সোপর্দ করে সে জাতি কখনোই প্রকৃত কল্যাণ এবং সার্থকতা লাভ করতে পারে না।” ……………………………(বুখারী,তিরমিযী,নাসাঈ)

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘‘এবং যদি কোন নারী স্বীয় স্বামী হতে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে’’ এ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলা সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য কোন মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার, আর আমাকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ্ তা‘আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ‘‘তবে তারা পরস্পর আপোষ করলে তাদের কোন গুনাহ নেই, বস্তুতঃ আপোষ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ আন-নিসাঃ ৪/১২৮)[২৪৫০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮২৭)

সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি কোন কিছুতে অকল্যাণ থেকে থাকে, তবে তা আছে নারী, ঘোড়া ও বাড়িতে। (৫০৯৫) (মুসলিম ৩৯/৩৪ হাঃ ২২২৬, ) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫৯)

উপরোক্ত ইসলাম ধর্মের মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রমাণ গুলোর মতো আরও অসংখ্য প্রমাণ দেয়া যাবে যা মুসলমানরা প্রতি দিন কনে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে শিক্ষক কর্তৃক ছেলে শিশু ধর্ষণ। এসব অপরাধে করেও যে সব মুসলিমরা সমকামীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নত করার অপপ্রয়াস চালান তারা যেন আগে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেন এবং নিজেদের চিন্তাধারার পরিবর্তন করেন।

তাশনোভা ফেরদৌসী

Categories
LGBT NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা বাংলাদেশ সমকামীদের অধিকার

সমকামী বিদ্বেষীদের কিছু মন্তব্য ও উত্তর