Categories
LGBT NEWS এলজিবিটি সংবাদ ধর্মীয় ভাবনা সমকামীদের অধিকার

ইসলামের সমালোচনা, ইসলাম বিদ্বেষ ও মডারেট মুসলিম

ইসলামের সামান্যতম সমালোচনা বা বদনাম শুনলে কীরকম প্রতিক্রিয়া ঘটে, সেটা জুম্মা পরবর্তী মুসল্লিদের মিছিল-সমাবেশ থেকে কমবেশি সকলেই জানেন। কোথায় কোন কার্টুনিস্ট ইসলামকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন এঁকেছে, একটা বই লিখেছে একজন লেখক অমনি তার মাথার দাম উঠে যায়।

বাংলাদেশেই ইসলামকে অবমাননার অভিযোগে নাসিরনগর, রামু, মালোপাড়া, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তার বিপরীতে জেএমবি-আনসারুল্লাহদের কর্মকাণ্ডে একইচিত্র দেখা গেছে কী?

যেহেতু দাবী করা হয় ‘ইসলামের অপব্যাখ্যা’ করে এই দলগুলি জিহাদের নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। অর্থ্যাৎ এরা ইসলাম অবমাননা করছে। এদের কাজকর্ম দেখে লোকজন ইসলামকে ‘সন্ত্রাসের ধর্ম’বলে মনে করছে। এরচেয়ে বড় ইসলামের ক্ষতি আর কীভাবে করা সম্ভব? মুহাম্মদের একটা কার্টুন তো ইসলামের কোন ক্ষতি করছে না। কিন্তু লোকজন যদি ইসলামকে সন্ত্রাসী মতবাদ ধরে নেয় সেটা তো ইসলামের জন্য মারাত্মক হুমকির কথা। তাহলে ইসলামের বিরুদ্ধে এতবড় ‘ষড়যন্ত্র’ দেখেও মুসলমানদের হুংকার তর্জন গর্জন কোথায়?

সালমান রুশদীর মাথার দাম হাঁকানো খোমেনিরা কতজন আইএস , তালেবান, মোল্লা ওমরদের মাথার দাম উঠিয়েছিল? তসলিমা নাসরিনের মাথার দাম হাঁকানো হুজুররা জেএমবির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে মাথার দাম ধার্য করেছিল? আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, দেওবন্দ মাদ্রাসা ইসলামের বিরুদ্ধে এতবড় ষড়যন্ত্রের পরও মিনমিন করে কথা বলে কেন? কথিত ইসলাম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু পল্লীর সবকটা বাড়িঘর গুড়িয়ে দেয়া হলেও আইএসে নাম লেখানোর অভিযোগে মুসলমানরা কোন জঙ্গির স্বজনদের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে? বড় বড় ইসলামী আলেম, নেতা বা সংস্থার কথা বাদ দেন, আমাদের অতি সাধারণ ধার্মিক বাপ-দাদা-চাচা-মামা-খালুদের কথাই বলুন।

আজকাল তো এঁদের দেখিয়ে একদল সুশীল নাস্তিক, ‘ইসলামী সেক্যুলার বিপ্লবী’ দাবি করেন,‘নাস্তিকতার নামে ইসলাম বিদ্বেষ চলছে’। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, সাধারণ মুসলমানের সঙ্গে জঙ্গি ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমাদের এইসব অতি নিরীহ ‘জঙ্গি বিরোধী’ মামা-চাচা-খালু-বাপ-দাদাদের ডেনিস কার্টুনিস্টের বিরুদ্ধে যেভাবে গলার রগ ফোলাতে দেখতাম, তারা কেন এখন কেবল মিনমিন করে ‘এরা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে’ সন্ত্রাস করছে- বলেই দায় সারছে? তবে এটুকু বলেই যখন ‘ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ইয়াহূদি নাসারারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে’ যোগ করেন তখন ছাইচাপা আগুনের মত ঘৃণার ফুলকিটা ঠিকই দেখা যায়।

সত্যিটা হলো, অতি সাধারণ জঙ্গিবাদ বিরোধী মুসলমানরাও তালেবান, আল কায়দা, আইএসের বিরুদ্ধে নেচারাল ক্রোধ অনুভব করেন না। যেমন ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে একরাতে ঢাকায় সাত হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ফেললেও বাংলাদেশের মুসলমানরা ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ফেলে রাখা ভারতের মতো জাতশত্রুতা পাকিস্তানের প্রতি অনুভব করে না। একজন নাস্তিক তার লেখালেখির জন্য জেলে গেলে জেলখানাটাও তার জন্য নিরাপদ থাকে না। পুলিশ, হাজতী সবাই পারলে চোখের দৃষ্টি দিয়েই তাদেরকে ভষ্ম করে ফেলে। কিন্তু জসিমউদ্দীন রাহমানির মত মুফতিরা জেলে গেলেও ‘আল্লাঅলা লোক’ ভেবে সেপাই, হাজতি সবার কাছেই সমীহ আদায় করে নেয়। এই ভক্তিটা আসে এইভাবে- ‘শত হলেও ইনারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছে, ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এটা তো খারাপ কিছু না।’

সাধারণ ধার্মিক মুসলমান কী কখনো ইসলামী শাসনের বিরোধীতা করতে পারে? কখনই পারে না। তাই সাধারণ মুসলমান আইএস , আল কায়দা, জেএমবি, আনসারুল্লাহ ইসলামী শাসনের পক্ষে কাজ করছে জেনেই তাদের সম্পর্কে মিনমিন সুরে কথা বলে। আর যারা ইসলাম সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখে, তারা জেনে বুঝেই আইএস-তালেবানকে মন থেকে সমর্থন জানায়। সে হিসেবে ধরলে মুসলমানদের সবাই এদের পৃষ্টপোষক।

মুসলমানরা যতোদিন জঙ্গিবাদকে ইসলামের সমস্যা বলে নিজে থেকে স্বীকার করবে না, ততোদিন ইসলামী জঙ্গিবাদ পুরো পৃথিবীকে ছাড়খার করে দিবে। আপাতত তাই দেড়শো কোটি মুসলিম কোন না কোনোভাবেই জঙ্গিদের প্রতি সহায়তাই করে যাচ্ছে।

এই বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন একটা সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষভাবে সহায়তা করে যায় তাকে নির্মূল তো দূরের কথা, সীমিত করাই কঠিন। ৯০ ভাগ মুসলমানের পরোক্ষ আর প্রত্যক্ষ সহায়তায় জঙ্গীবাদ তাই সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশকে সিরিয়ার মতো ছাড়খার করে দিবে। যারা ভাবছেন এটা বেশি বাড়াবাড়ি চিন্তা, তারা অবশ্য নিশ্চিন্তে ড্রয়িংরুমে বসে মুড়ি খেতে খেতে টেলিভিশনের পর্দায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।

– সংগৃহীত

Categories
একান্ত ভাবনা

জুলিয়াস ইয়েগো

জুলিয়াস ইয়েগো নামের এক কেনিয়ান ইউটিউবে ভিডিও দেখে জ্যাভেলিন থ্রো ( বর্ষা নিক্ষেপ ) শিখে ফেলেন।তারপর কঠোর অধ্যবসায় তাকে সাফল্যের পথে ধাবিত করে । এক পর্যায়ে জাতীয় দলে সুযোগ এবং ভালো প্রশিক্ষকের কাছে শেখার সুযোগ মেলে । তার পর অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় । কেশর্ন ওয়ালকট নামের এক যুবকও একই ভাবে ইউটিউব দেখে জ্যাভেলিন থ্রো শিখেছেন এবং এক পর্যায়ে অলিম্পিকে সোনা জিতেছেন। ট্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো’র সন্তান এই যুবকের নাম হয়ে যায় ইউটিউব ম্যান।

বিল সচুফেনহাওয়ার নামের এক টোকাই আমেরিকার সল্ট লেক সিটির পথে পথে ঘুরে বেড়াত । সেই ছেলে খেলা শিখে মেডাল জিতেছিল ঐ সল্ট লেক সিটি’র অলিম্পিক থেকেই ।

আলমেরা নামের এই মেয়েটির বয়স ৯ বছর । ইউটিউবে অপেরার গান এর ভিডিও দেখে নিজে নিজেই অপেরার গান শিখেছে । নেদারল্যান্ডবাসি এই মেয়েটি জীবনে প্রথম এত বড় মঞ্চে গাইছে । কোন গানের শিক্ষক ছাড়াই সে এই অতিমানবীয় কাজটা করেছে । রবিঠাকুর বলেছেন ” মানুষের ওপর বিশ্বাস হারান পাপ “। ঢাকার মিরপুরের কিংশুক সমবায় সমিতি একটা বিশাল বিলবোর্ড টাংগিয়েছিল ” মানুষ তার আশার সমান বড় ”

এক ছেলে , পাড়া গাঁ থেকে সাধারন কেডস পরে দৌড়াতে এসেছে ঢাকায় – এসেই চ্যম্পিয়ন । মহা হুলস্থুল । শীঘ্রই তাকে জাতীয় দলে নেয়া হল, গেল ভারতে একটা প্রতিযোগিতায়। সেখানে তাকে ট্র্যাকে নামতেই দেয়া হল না ! কারন তার রানিং শু নেই। এই খবর পত্রিকায় ছাপা হল – এই কোম্পানি জুতা কিনে দেয় তো ঐ কোম্পানি জুতার কারখানাই বানিয়ে দেয় , সেই পত্রিকা তাকে সম্বর্ধনা দেয়ার আয়জন করবে ঘোষণা দিল। কিন্তু কেউ আর এল না জুতা নিয়ে – সম্বর্ধনাও আর হয় না ! অগত্যা আমার দুই পুত্রের ঈদের জামা কাপড় কাটছাঁট , গুলিস্তানে যেয়ে ১ জোড়া রানিং শু কেনা হল ১২০০ টাকা মাত্র!
সেই ছেলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনিতে সুযোগ পেয়ে সেখানেই আছে, আর বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়।

মনু নামের এক তরুণ ঢাকায় রিকশা চালাত। মোহামেডান ক্লাবের অন্ধ ভক্ত । কিভাবে যেন তার খেলা চোখে পড়ে গেল আর আবাহনী মোহামেডান মহাযুদ্ধে তাকে নামানো হল। মনু অবিশ্বাস্য এক গোল করে হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছিলেন । তারপর একের পর জয়ের নায়কের নাম মনু । স্টেডিয়াম উত্তাল হয়ে যেত মনু মনু চীৎকারে । তারপর , মনুকে জুয়ার আসরে নেয়া হল – সেলিব্রিটি খেলোয়াড় , এসব না করলে চলে ! মনু শেষ !

আকবর নামের এক রিকশা চালকের গান শুনিয়ে দেশ মাতালেন হানিফ সংকেত। আকবর রাতারাতি সেলিব্রিটি , এলবাম বেরিয়ে গেল। এখন কেউ জানেই না আকবর কে ? কোথায় আছে ?

আমরা এমনই হুজুগে মেতে থাকি যে পারলে নিজের বাপ মা ভাই বোনদের ছেড়ে বিদেশি সেলিব্রিটির ডায়রিয়ার খবরে মেতে থাকি !

Categories
ভিডিও গ্যালারী

সেকশন ৩৭৭ – এলজিবিটি শর্ট ফিল্ম

Categories
বাংলাদেশ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে কেন নেই একটি হুইল চেয়ার?

মা তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেছে। ফেসবুক মানবতাবাদীদের চোখ ছলছল হয়েছে এটা দেখে। তারা মায়ের উচ্চতা, ত্যাগ, ভালবাসা, চরম মাতৃত্বের নতুন করে গুনগান গেয়েছে। আরে পৃথিবীর জন্ম থেকেইতো মায়ের এই ভালবাসা আছে। বেকুবদের কেউ প্রশ্ন তোলেনি, এই একবিংশ শতাব্দীতে একজন মা কেন তার ৫৫ কেজি ওজনের ছেলেকে কোলে নিয়ে যাবেন? “প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে’ কেন থাকবেনা কিছু হুইল চেয়ার? জ্ঞান চর্চার অনুপিস্থিতির সাথে তাদের চিন্তার ক্ষমতাও লুপ্ত হয়ে গেছে?

 

Categories
LGBT NEWS NEWS এলজিবিটি এলজিবিটি সংবাদ সমকামীদের অধিকার

It’s the 20th annual Bi Visibility Day this Sunday, September 23rd.

The date highlights bisexuality and the challenges posed by biphobia and bisexual erasure, as well as celebrating the work of a growing number of local, national and international organisations around the world which champion bisexual visibility and equality.

Last year there were around 130 events marking the date, from exhibitions, talks and film screenings to picnics and socials in bi-friendly bars. A host of public buildings around the world flew the pink, purple and blue bisexual flag. So far this year that tally has already hit 160.

Jen Yockney MBE, who has run the international listings site BiVisibilityDay.com for nearly two decades, commented, “We usually get some ‘late arriving’ listings to add that we didn’t get to hear about in advance so that 160 will most likely rise further.”

In the UK there are events in the big cities like Manchester, Leeds, Edinburgh, Birmingham and London, and in smaller towns like Worthing or Bolton.  (Listings below)

Jen adds: “I’ve been organising events marking Bi Visibility Day since 1999 and the transformation in that time is huge. We are more talked about and more heard as bi people than ever before; yet also the challenges and particular needs of bisexuals have been thrown into sharper relief over that time.

“Back then, bi was often seen as a kind of ‘gay lite’ with bis experiencing less impact from social homophobia, but research increasingly shows bi people have greater mental and physical health challenges than gay or straight people. We’re more likely to experience domestic violence from our partners, too. And just as there’s a ‘pay gap’ between men and women, bi people on average earn less than their gay and straight friends.

“So, far from the ‘best of both worlds’ cliche, the challenge of either persistently reasserting your bisexuality or having part of your life erased proves wearing for many bi people. Where lesbians and gay men have one closet to escape, many bi people find that leaving the one closet leads to being put in another.

“Greater bisexual visibility is the best solution to that problem, helping more bis find a space where they are neither in the ‘straight closet’ nor the gay one.”

 

Events this weekend:

September 21

  • Leeds. Leeds Bi Group present: Bi Talk in conjunction with Leeds City Council’s LGBT+ Community Hub, Touchstone and Pinsent Masons. 18:00-21:00, Pinsent Masons, 1 Park Row. Details here.

September 22

  • Birmingham. Brum Bi Group Pub Crawl. Encouraged to bring your flags, silly headgear, glowsticks and whatever else will make the group as visible as possible. 19:30, The Dragon Inn, Hurst Street.Facebook event here.
  • Leeds. Raising of the bisexual flag over Leeds Beckett University.
  • Leeds. Bi Visibility running with Leeds Front runners. 09:00-10:30 at Roundhays Park. Meet Lakeside Cafe, look for the bi flag. Facebook event here.
  • Manchester. BiPhoria hosts #StillBisexual video-making.12:30-14:00, LGBT Foundation, 5 Richmond Street. Info here.
  • Manchester. Bi boardgaming.  14:00-16:00, LGBT Foundation, 5 Richmond Street. Info here.
  • Stirling. BiTastic! 10:00-17:00, Forth Valley College, Drip Road. More here.

September 23

  • Birmingham. Brum Bi Group Coffee Meet. 12:00, Damascena, Temple Row. Depending on the weather they’ll take their food & drinks outside to Pigeon Park (Birmingham Cathedral).Facebook announcement here.
  • Bolton. Bis at Bolton Pride (street stall). Facebook event here.
  • Bristol. Bisexual Bike Ride 2018. Grab your bikes, invite your friends and join for a friendly, slow Bi Visibility bike ride. 15:30-17:00, meet by the bandstand in Castle Park. Facebook event here.
  • Glasgow. Screening of Call Me By Your Name. To mark Bi Visibility Day, there will be a panel discussion after the film on Bisexuality in the Media. 13:30, Glasgow Film Theatre, 12 Rose Street. Buy your ticket(s)!
  • Liverpool. Edge Hill University main building will be illuminated in pink, purple and blue.
  • London. 11:00 Bi Visibility Day Picnic, Green Park. Look for bi flags, bunting, umbrellas. Meetup event page.
  • London. CaBiRet bi performance night. Details here.
  • Manchester. University flies the bi flag and has computer screen display messages about Bi Visibility Day. Bi Vis Quiz – details to be confirmed.
  • Oxford.  Town hall will fly the bi flag again to mark the date.
  • Salford. Speaker from BiPhoria at University House, 11:00-12:00.
  • Salford. Bi Picnic outside University House 12:00 – 15:00, bring your own food / drink to share.
  • Salford. Celebrating Bi Artists. Art and craft session, Derwent Room, University House, University House. 15:00-16:00.
  • Southampton. Bi Visibility Day At The London! 15:00-18:00, London Hotel, Terminus Terrace. Facebook info here.
  • Stockport. Town Hall will be lit up in pink, purple and blue.
  • Stoke-on-Trent. Bi Social Meetup. 11:00 at Potteries Museum & Art Gallery. Facebook event here.

 

Source

Categories
অন্যান্য একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা

যুদ্ধের পর মহিলাদের যৌনদাসী হিসেবে বেবহার করা জায়েজ ছিল

প্রথমত, ‘জেনা’ এবং ‘ধর্ষণ’ এক না। ইসলাম এ জেনা বৈধ না , কিন্তু যুদ্ধের পর মহিলাদের যৌনদাসী হিসেবে বেবহার করা জায়েজ ছিল।

জেনা হলো বিবাহ সম্পর্ক বহির্ভূত অথবা বিয়ের আগে একজন আর একজনের সাথে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা।
ধর্ষণ হচ্ছে নিজের লিপ্সা মিটানোর জন্যে অন্যের শরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বেবহার করা। নবীর আমলে যে সকল যুদ্ধ সংঘটিত হতো, সেই যুদ্ধে বিজয়ের পর মানুষ পশুপ্রাণী ও বস্তু পর্যন্ত সব কিছুই গনিমত এর মাল হিসাবে গণ্য হতো। মহিলারা ব্যাবহৃত হতো যৌনদাসী হিসেবে এবং পুরুষরা ব্যাবহৃত হতো দাশ হিসেবে।

এখন সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন বেক্তিগণ, আপনারাই বলুন – যে নারীদের স্বামী সন্তান বা আত্মীয় পরিজন যুদ্ধে এইমাত্র নিহত হয়েছে, তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে নবী রাসূল আর সাহাবারা তাদের যৌনদাসী হিসেবে ওই মহিলাদের সাথে সহবাস করছে। এটা তো জেনার চাইতেও খারাপ। গনিমতের মাল বলে তাদের ধর্ষণ করা হতো, ধর্ষণের কারণে তারা যে সন্তান জন্ম দিতেন, তাদের কেও দাসী বানানো হতো, নিজের সন্তান এর মর্যাদা দেয়া হতো না।

Categories
একান্ত ভাবনা

ধর্মগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে

ধর্মগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাচ্ছে অজ্ঞতা ততই দুর হচ্ছে। ফলে অজ্ঞতা দ্বারা সৃষ্ট ধর্মগুলোও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।

ইসলাম, খৃস্টান এবং ইহুদী এই ধর্মগুলো (আব্রাহামিক ধর্ম) মানব সৃষ্টি সম্পর্কে প্রাচীন গল্পকাথার আশ্রয় নিয়েছে। প্রাচীন মানুষ জানতো না মানুষ কিভাবে পৃথিবীতে আবির্ভুত হয়েছে । কিন্তু তারা তাদের কৌতুহল মেটাতে তৈরী করেছে নানা গল্প-উপকথার। আর তার মধ্যে আদম হাওয়ার গল্প খুব উল্লেখযোগ্য। এই গল্প বা রুপকথাটি ধর্মে চলে এসেছে বা ধর্মের সৃষ্টিকর্তা প্রাচীন মানুষ এই গল্পটিকে ধর্মে ব্যবহার করেছে। ফলে ধর্মগুলো বিশ্বাস করে এসেছে কোন এক (কাল্পনিক) সৃষ্টিকর্তা প্রথমে পৃথিবী থেকে মাটি নিয়ে আদম নামের প্রথম মানুষকে সৃষ্টি করেছে এবং তার শরীরের অংশ থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করেছে। আর আদম হাওয়াকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

কিন্তু বিজ্ঞান আজ বলছে মানুষ কোন এক আদম-হাওয়া জুটি থেকে আবির্ভুত হয়নি বরং মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে অন্য কোন প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। প্রথমে জড় পদার্থ থেকে এককোষী জীবের উদ্ভব হয়েছে। (প্রথমে অজৈব জড় থেকে জৈব জড় তৈরী হয়েছে এবং পরে জৈব জড় থেকে জীব তৈরী হয়েছে।) এবং এককোষী জীব থেকে বহুকোষী জীব (উদ্ভিদ ও প্রাণী) তৈরী হয়েছে। এভাবে এক জীব থেকে এই বিশাল জীবজগৎ তৈরী হয়েছে। এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণী বিবর্তিত হয়ে তৈরী হয়েছে প্রাণী জগৎ। শিপ্পাঞ্জী, গরিলা এবং মানুষ একই প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ ইহুদী, খৃস্টান এবং ইসলাম এই তিন ধর্মই মানব সৃষ্টি সম্পর্কে সম্পূর্ন ভূল বা মিথ্যে কথা বলে এসেছে।

ফলে এই ধর্মগুলো বিবর্তনবাদের (যে তত্ব জীবজগৎ সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়) বিরোধীতা শুরু করে দেয়। তারা বিবর্তনবাদকে মেনে নিতে চায় না। যদিও বিবর্তনবাদ প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত তবুও এই ধার্মিকগুলো বিবর্তনবাদকে মিথ্যে বলে অপপ্রচার করে। কারণটি খুব সহজেই বোধগম্য, বিবর্তনবাদ সরাসরি ধর্মকে আঘাত করায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধার্মিকগুলো এর বিরোদ্ধে মিথ্যে প্রচার করে স্বাধারণ মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। তারা ধর্মকে সত্য বলে প্রচার করছে এবং বিজ্ঞানকে মিথ্যে বলে দাবী করছে। বিবর্তনবাদ অনুযায়ী ইসলাম, খৃস্টান এবং ইহুদী ধর্ম মিথ্যে।

আবার বাইবেল ও কুরআন মতে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে ছয় দিনে। কিন্তু বিজ্ঞান বলে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১৫ বিলিওন বছর আগে। অর্থাৎ ধর্মগুলো সম্পূর্ন ভুল কথা বলছে।

ধর্মগুলো বলে পৃথিবী সমতল এবং নিশ্চল। সূর্য্য ও চাঁদ গতিশীল কিন্তু পৃথিবী স্থির। কিন্তু বিজ্ঞান বলে পৃথিবী সমতল এবং স্থির নয়; গোল (গোলকাকার) এবং গতিশীল। সূর্য, চন্দ্র, তারকা সবগুলোই গতিশীল। অর্থাৎ ধর্মগুলো ভূল বা মিথ্যে তথ্য দিচ্ছে ।

ধর্মগুলো দাবী করে আত্মা বলে কিছু একটা আছে যা দেহে প্রবেশ করলে জড় দেহ জীবে পরিনত হয় এবং আত্মা দেহ থেকে চলে গেলে দেহ প্রাণহীন হয়ে যায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলে আত্মা বলে কিছু নেই। জীব দেহ বেঁচে থাকে দেহে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। দেহ যখন কার্যক্ষম থাকে না তখন জীব মারা যায়। অর্থাৎ বাস্তব জগতে আত্মা বলে কিছু নেই। এখানেও ধর্মগুলো ভুল কথা বলছে।

ধর্মগুলো বিশ্বজগতের যে বর্ণনা দিয়েছে সেগুলো বাস্তব জগতের সাথে মিলে না। ধর্মগুলো মানুষের কল্পনাকে প্রাধান্য দেয় যেমন- ইশ্বর বা গড, আত্মা, পুনর্জীবন, পরকাল, বেহেশ্ত-দোজক, জ্বীন-পরী-ভূত ইত্যাদি যেগুলোর বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই; এগুলোর অস্তিত্ব শুধুমাত্র মানুষের কল্পনাতে রয়েছে। ধর্মগুলো মানুষের অল্প জ্ঞান দিয়ে তৈরী করা কল্পনা মাত্র। ফলে একেক মানুষের কল্পনা যেমন একেক রকম, ঠিক তেমনি তারা একেক রকমের ধর্ম তৈরী করেছে তাদের কল্পনার পার্থক্য দ্বারা। মানুষের কাল্পনিক চিন্তা ধারার প্রতিফলন হল ধর্মগুলো। মানুষের কল্পনা শক্তি বিভিন্ন, তাই ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন। জ্বীন-পরী-ভূত ভিন্ন ভিন্ন, শয়তান-ইবলিস ভিন্ন ভিন্ন, ইভিল-ডেভিল ভিন্ন ভিন্ন, ঠিক তেমনি ভাবে ইশ্বর-আল্লাহ-গড-জেহোভা-ভগবানও ভিন্ন ভিন্ন।
এগুলো মানুষের কল্পনা শক্তির ভিন্নতা প্রমাণ করে মাত্র। এসব ভিন্নতা অবাস্তব ও কাল্পনিক অস্তিত্বগুলোকে প্রমাণ করে না।

পৃথিবীতে সত্য জ্ঞানের সমষ্টি হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞান কাজ করে বাস্তবতা নিয়ে। মানুষের কল্পনা বা কল্পনার বিভিন্ন সৃষ্টি জ্বীন-ভূত, ইশ্বর-শয়তান, আত্মা-পরমাত্মা নিয়ে নয়। বিজ্ঞান জানে এগুলো মানুষের কল্পনা মাত্র। এগুলোর বাস্তব কোন প্রমাণ নেই এবং এগুলোর প্রমান পাওয়াও সম্ভব নয়। কারণ মানুষ যা কিছুই কল্পনা করতে সক্ষম, সেটা সে কল্পনা করে; কিন্তু সেই কল্পনা কখনই বাস্তবতায় পরিণত হয় না। এগুলো বাস্তব নয়, এদের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই বলেই বিজ্ঞান এগুলোকে নিয়ে কাজ করে না। কারণ বিজ্ঞানের কাজ বাস্তবতাকে নিয়ে; মানুষের কল্পনাকে নিয়ে নয়। যেটা বাস্তব কিন্তু কল্পনা নয়, সেটা নিয়েই বিজ্ঞান গবেষনা করে। ফলে বিজ্ঞানের কোন গবেষনাই ইশ্বর বা কাল্পনিক অস্তিত্ব কেন্দ্রিক নয়। যার কোন অস্তিত্ব নেই সেটা বিজ্ঞানের কাজ নয়। বিজ্ঞানের কাজ সত্যকে উন্মোচন করা এবং সত্য ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করা। কোন কাল্পনিক অস্তিত্ব নিয়ে নয়, যার অস্তিত্ব শুধু মানুষের মনে; বাস্তব জগতে যার কোন অস্তিত্বই নেই।
বিজ্ঞান সত্য, ফলে এটি ক্রমে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। সত্য প্রকাশিত হচ্ছে এবং মিথ্যা ধর্ম এবং ধর্মের ইশ্বরগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানের আলো যেদিকেই পড়ছে সেদিকেই কুসংস্কারের অন্ধকার দূর হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বিজ্ঞানের সত্য প্রকাশিত হবার মাধ্যমে এবং বিজ্ঞানের বাস্তব জ্ঞান প্রসারিত হবার মাধ্যমে মিথ্যে ধর্ম ও কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তাগুলো মানুষের মন থেকে দূর হয়ে যাচ্ছে। কুসংস্কারগুলো ধুয়ে মুছে ছাপ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সত্য প্রকাশিত হচ্ছে, বিজ্ঞান শক্তিশালী হচ্ছে। আর এর ফলশ্রুতিতে মিথ্যে ধর্মগুলোর মিথ্যেবাদিতা ও কুসংস্কারগুলো বিলিন হযে যাচ্ছে। আর বিলিন হতে শুরু করেছে ধর্মগুলো।

ধর্মগুলোর মিথ্যেবাদিতা এবং ধর্মগ্রন্থগুলোর মিথ্যা ও ভুল-ভ্রান্তিগুলো সবার নজরে চলে আসছে। আর ধার্মিকরা সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মের অস্তিত্বের সংকটে পতিত হচ্ছে। ধার্মিকগুলো বুঝতে পারছে তাদের মিথ্যে ধর্মের মৃত্যু সুনিশ্চিত। ফলে তারা উঠে পড়ে লেগেছে মিথ্যে ধর্মগুলোকে বাঁচাতে। যেহেতু তাদের ধর্মগুলোর মৃত্যুর প্রধান কারণ ধর্মগ্রন্থগুলোর মৃত্যু, তাই তারা ধর্মগুলোকে বাঁচানোর জন্য ধর্মগ্রন্থগুলোকেই আগে বাঁচাতে চাচ্ছে। যেহেতু মানুষ জেনে গেছে ধর্মগ্রন্থগুলো শুধু মিথ্যে বুলিই ঝেড়েছে এতোদিন, তাই ধার্মিকদের প্রধাণ কাজই হয়ে পড়েছে সেই ভূল ও মিথ্যে কথাগুলোকে আগে সংশোধন করা। তাই ধার্মিকগন উঠে পড়ে লেগেছে তাদের ধর্মগ্রন্থের সাথে বিজ্ঞানের সামঞ্জস্যতা দেখাতে। একেক ধর্মের ধার্মিকরা তাদের নিজ নিজ ধর্মকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করতে দিন রাত এক করে ফেলছে। সব ধর্মই বরাবরের মত দাবী করছে একমাত্র তাদের ধর্মগ্রন্থই বিজ্ঞানময়, আর বাকী সব ধর্মই অবৈজ্ঞানিক। তাদের দাবী প্রমাণ করতে যেয়ে তারা ধর্মগ্রন্থগুলোর কথাগুলোকে পরিবর্তন করা থেকে শুরু করে, ধর্মগ্রন্থের বাক্য পরিবর্তন, শব্দ পরিবর্তন, ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা আনয়ন এবং সব শেষে শব্দের অর্থের পরিবর্তন পর্যন্ত করছে। অর্থাৎ তারা গোজামিল দিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করছে। তারা ধর্মগ্রন্থকে বাঁচাতে এমন কোন কাজ নেই যেটা তারা করছে না। ফলে সব ধর্মের ধার্মিকরাই তাদের ধর্মগ্রন্থের অর্থ পরিবর্তন করে, শব্দ পরিবর্তন করে, শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে এবং এর সুবিধাজনক ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরী করে তারা তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানময় প্রমাণ করার জন্য দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করে দিচ্ছে। এমন কি তারা যখন সব চেষ্টা করেও তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিজ্ঞানের সাথে মিলাতে ব্যর্থ হচ্ছে তখন তারা সত্যের প্রতীক বিজ্ঞানকেই বদলে ফেলার চেষ্টা করা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানকে পরিবর্তন করা ধার্মিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। যেহেতু ধর্মগ্রন্থগুলো ধর্মের মতই মিথ্যে তাই তারা বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে বিকৃত করে উপস্থাপন করছে। তারা তাদের কথার চাতুরতা দিয়ে স্বাধারণ মানুষের কাছে (যারা বিজ্ঞান ও ধর্ম কোনটাই জানে না) ধর্মগ্রন্থকে ভূল ভাবে উপস্থাপন করছে এবং বিজ্ঞানকেও ভূল ভাবে উপস্থাপন করছে।

মোট কথা এমন কোন কাজ নেই যা ধার্মিকরা তাদের ধর্মগুলোকে বাঁচাতে করছে না। সেটা করতে যেয়ে তাদেরকে চতুরতা করতে হচ্ছে, মিথ্যে কথা বলতে হচ্ছে এবং কথার মারপ্যাঁচ খাটাতে হচ্ছে। অর্থাৎ ধার্মিকরা তাদের ধর্মকে বাঁচাতে জঘন্যতম কাজও করে চলেছে।
ফলে বুদ্ধিমান এবং জ্ঞানী মানুষকে প্রতারিত করতে না পারলেও তারা স্বাধারণ মানুষকে ঠিকই প্রতারিত করতে সক্ষম হচ্ছে।

যেহেতু বোকারা এবং অজ্ঞরাই ধর্ম বেশী পালন করে, তাই বেশীর ভাগ মানুষই ধর্ম ব্যবসায়ীদের মিথ্যে ও প্রতারণাপূর্ন কথায় প্রতারিত হয়।
কিন্তু তারপরেও কিছু কিছু জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মানুষ ঠিকই ধর্ম ব্যবসায়ীদের এসব প্রতারণা ধরতে পারছে এবং মিথ্যে ধর্ম ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে। তারা ঠিকই ধর্ম ব্যবসায়ীদের গোজামীল ধরতে পারছে, আর মিথ্যে ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসছে।
তাই ধর্মগুলো সেই পুরোনো সংকটেই পড়ছে। যে সংকট থেকে বাঁচতে ধার্মিকরা ধর্মগ্রন্থগুলোকে নানা কায়দায় ছল চাতুরী করে, অর্থ পরিবর্তন করে এবং বাক্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা এনে ধর্মগ্রন্থগুলোকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছে তথাপি সেই পুরোনো অস্তিত্ব সংকটেই আবার পতিত হচ্ছে সব ধর্মগুলোই। মাঝে থেকে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী লাভবান হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু ধীরে হলেও ধর্মের অস্তিত্বের সংকট কাটেনি। বরং মানুষ বেশি বেশি শিক্ষিত হচ্ছে। বেশি বেশি বিজ্ঞান চর্চা করছে। জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান হচ্ছে। ফলে ধর্মের মিথ্যেবাদিতা এবং ছল-চাতুরী ধরতে পারছে। আর সংখ্যায় কম হলেও মানুষ মিথ্যা এবং কুসংস্কারের ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসছে।

সর্বপরি মিথ্যে ধর্মগুলোর অস্তিত্বের সংকট থেকেই যাচ্ছে। ধর্মগুলো খুব অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

– সংগৃহীত

Categories
একান্ত ভাবনা ধর্মীয় ভাবনা

ভালো খারাপ সবই আল্লাহর ইচ্ছা

আরব্য পৌরাণিক গ্রন্থ আল-কোরআনের প্রধান দুইটি চরিত্র হল আল্লাহ এবং শয়তান। এই গ্রন্থে আল্লাহ হলেন একটি জগতের সৃষ্টিকর্তা, যা তিনি ৬/৮ দিনে সৃষ্টি করেছিলেন (কোরআন ১১:৭); পুরো গ্রন্থের প্রায় প্রতিটি বাক্যেই এই আল্লাহকে একজন মহাশক্তিধর, মহাজ্ঞানী এবং পরম দয়ালু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে শয়তান ছিল তারই সৃষ্ট একটা জাতি জ্বীনদের প্রধান। জ্বীন থেকে শয়তান হয়ে যাবার পেছনে অবশ্য একটা গল্প আছে। গল্পানুসারে কারণটি হল – আল্লাহ যে জগৎ বানিয়েছিলেন, সেখানে মানুষ সদৃশ্য মাটির তৈরি একটা প্রাণী বানাতে যাচ্ছিলেন (কোরআন ২:৩০); এই প্রাণীটির নাম দেয়া হয়েছিল আদম। আল্লাহ আদমকে যখন বানানো শেষ করেছিলেন, তখন তিনি ফেরেশতাকূল (আরেকটি জাতি) এবং ঐ জ্বীনটিকে সেজদাহ করতে বলেছিলেন।
সকল ফেরেশতা আদমকে সেজদাহ করলেও জ্বীনটি নিজেকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করে (কোরআন ৭:১২) অহংকারবশত তাকে সেজদাহ করতে অস্বীকৃতি জানায় (কোরআন ২:৩৪); সেজদাহ না করায় আল্লাহ তার প্রতি অনেক ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে ধিক্কার দিতে থাকেন। অতঃপর তাকে অভিশপ্ত ঘোষণা করেন (কোরআন ১৫:৩৪) এই ঘটনার পর আল্লাহ আদমকে জান্নাত নামক একটি জায়গায় প্রেরণ করেন। তার একাকীত্ব কাটানোর জন্য তিনি হাওয়া নামক আরেকটি স্ত্রী লিঙ্গের প্রাণীও তার সাথে দিয়ে দেন (কোরআন ২:৩৫); কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী – পৃথিবীতে পাঠানো হবে (কোরআন ২:৩০) বলে তাকে সৃষ্টির প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেও ঠিক কী কারণে আদমকে জান্নাতে পাঠানো হয়েছিল, তা আমার বোধগম্য নয়।

যাই হোক, জ্বীনটি সেখানেও আদমকে তাড়া করেছিল। জান্নাতে পাঠানোর সময় আল্লাহ আদমকে একটি বৃক্ষের নিকটে যেতে নিষেধ করেছিলেন (কোরআন ২:৩৫); কিন্তু শয়তান নানা প্ররোচনায় আদম এবং হাওয়াকে সেখানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং প্রলোভনা দেখিয়ে সেই বৃক্ষের ফল খাইয়ে নেয় (কোরআন ৭:২২)। এই ঘটনায় আল্লাহ ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি তাদের ক্ষমা করেন ঠিকই, কিন্তু শয়তানসহ তাদেরকে পৃথিবীতে নেমে যেতে আদেশ দেন (কোরআন ২:৩৬) এবং সেই সাথে আদমকে শয়তান সম্পর্কে সচেতন করেন যে, সে এবং তার সন্তানাদি যেন তার কথামত না চলে (কোরআন ৬:১৪২)… তিনি শয়তানকে আদম এবং আদম সন্তানের প্রকাশ্য শত্রু বলেই আদমকে সাবধান করে দিয়েছিলেন (কোরআন ২:১৬৮)।

এতে করে আল্লাহ এবং শয়তানের মধ্যে একটি ওপেন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়, যা একপ্রকার যুদ্ধেই রূপ নেয়। শয়তান অনেকটা দৃঢ় চিত্ত নিয়েই দাবি করে যে, কেয়ামতের আগ পর্যন্ত সে আদম এবং তার সন্তানদের আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করে রাখবে (কোরআন ৭:১৭; কোরআন ১৫:৩৯); অপরদিকে আল্লাহও উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যে, শয়তান অন্য কাউকে পারলেও তার একনিষ্ঠ বান্দাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না (কোরআন ১৫:৪২)।

সমস্ত কোরআন জুড়েই শয়তানকে সেই যুদ্ধে জয়ী হতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে ধবংস করে দেয়া। কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন গল্প থেকে দেখা যায় যে, আল্লাহকে ছেড়ে প্রায় প্রতিটি নবীর সম্প্রদায়ই শয়তানকে বা বিভিন্ন দেব-দেবীর পুজায় মগ্ন হয়ে ওঠে। এ কারণে আল্লাহ তাদের ধবংস করে নতুন সম্প্রদায় সৃষ্টি করতে একপ্রকার বাধ্যই হয়ে যান।

কিন্তু এখানে হাস্যকর বিষয় হল, শয়তান আদমসন্তানদের তার প্রতিজ্ঞানুযায়ী বিভ্রান্ত করতে সক্ষম তো হয়েছিল ঠিকই (উদাহরণ কোরআন ৩৬:৬২ ); স্বয়ং আল্লাও এই বিভ্রান্তিরর কাজটি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন!

নিচের আয়াতগুলো পড়ুন:

যাকে ইচ্ছা আল্লা বিপথগামী করেন। (কোরআন ৬:৩৯)

আল্লাহ যাদেরকে পথনির্দেশ করেন তারাই তো পথপ্রাপ্ত এবং যাদের “পথভ্রষ্ট” করেন তাদের তাকে ব্যতিত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে পাইবে না। (কোরআন ১৭:৯৮)

সুতরাং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন কে তাকে সৎপথে পরিচালিত করবে? (কোরআন ৩০:২৯)

আল্লাহ যাদের পথভ্রষ্ট করেন তাদের জন্য কোন পথপ্রদর্শক নাই। (কোরআন ৪০:৩৩; কোরআন ৪২:৪৪)

এইভাবে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী এবং সংশয়বাদীদেরকে। (কোরআন ৪০:৩৪)

এইভাবে আল্লাহ কাফিরদের বিভ্রান্ত করেন। (কোরআন ৪০:৭৪)

আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন গতি নাই। (কোরআন ৪২:৪৬)

আরেকটা মজার বিষয় হল, শুধু নিজেই নন, তিনি মাঝে মধ্যে নিজ থেকে শয়তান নিযুক্ত করে দেন আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করার জন্য:

যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে বিমুখ হয় তার জন্য নিযুক্ত করি এক শয়তান। (কোরআন ৪৩:৩৬)

ওপরের আয়াতটির সাথে পাঠকদের সামনে আরো কয়েকটি আয়াত তুলে ধরতে চাই। যেমন:

মানুষের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করিবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই। (কোরআন ৭:১৮; কোরআন ৩২:১৩)

বিষয়টা কেমন জানি হয়ে গেল না! আল্লা নিজেই আদমসন্তানের জন্য শয়তান নিযুক্ত করে দিচ্ছেন, যাতে তাদের বিভ্রান্ত করা যায় এবং অন্যদিকে তাদের জাহান্নামে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন!

এবার এই আয়াতটি পড়ুন:

আমি তো বহু জ্বীন এবং মানবকে জাহান্নামের জন্যই সৃষ্টি করেছি। (কোরআন ৭:১৭৯)

এই আয়াতে আল্লাহ দম্ভ করেই বলছেন, তিনি কিছু মানুষকে (আদমসন্তান) সৃষ্টিই করেছেন জাহান্নামে পাঠানোর জন্য! এর মানে কি এমন দাঁড়াল না যে, আদমসন্তানের মাঝে যারা জাহান্নামে, যাবে তারা নিজের কোনো দোষে যাবে না? আল্লাহই তাদের বিনা কারণে জাহান্নামে প্রেরণ করবেন! এটা কি স্বেচ্ছাচারিতা হয়ে গেল না?

এবার এই আয়াতটি খেয়াল করুন:

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন, যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। (কোরআন ৩৫:৮)

এটা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আল্লার সৃষ্ট আদমসন্তানেরা নিজ থেকে কিছুই করে না। সবই আল্লার ইচ্ছার ওপর! তারা পথ পেলেও আল্লার ইচ্ছায় পায় এবং পথভ্রষ্ট হলেও সেটা আল্লার ইচ্ছাতেই হয়।

যারা ধৈর্য ধরে এতক্ষণ পড়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবার কিছু প্রশ্ন সামনে তুলে ধরতে চাই:
১. নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আল্লাহ একটা হিপোক্রিট চরিত্র হয়ে গেল না?
২. আদমসন্তানদের জাহান্নামে যাবার পেছনে দায়ী কে?
৩. আল্লাহ এবং শয়তানের মধ্যে তাহলে পার্থক্যটা কোথায় থাকল?

সর্বশেষ প্রশ্নটি কোরআন থেকেই করছি: “কিসে তোমাকে তোমার প্রতিপালক হইতে বিভ্রান্ত করিল?” (কোরআন ৮২:৬)।

Categories
LGBT NEWS NEWS একান্ত ভাবনা এলজিবিটি

My life in sex: ‘We date people together, invite them back to our bed together’

My partner and I had been together for eight years when we changed the nature of our relationship. She and I had tried an open relationship before; it led to recriminations, arguments and eventually a break-up. But this time was different: we dated people together, inviting them back to our bed. Being rejected, flirted with, turned on, let down, tied up: we were experiencing every wonderful-awful aspect of dating together.

I’ve always struggled with the idea of monogamy. And we were both sluts; now we had found a way to be ethical ones. The experiment has been aided by the discovery that we are both bisexual. Neither of us had slept with a person of the same sex before, despite being curious.

The reactions of our friends have ranged from predictions of a second break-up to a lascivious interest in the mechanics of threesomes. A disturbing assumption is that I must be strong-arming my partner into the arrangement: female desire could surely not accommodate such a set-up. This is patently false, we find ourselves explaining. And yes, we still enjoy sex with each other.

We joke that we are a bisexual power couple, but there is always a worry in the back of my mind. Surely I can’t be so lucky as to have the love of a wonderful relationship, with the sexual excitement of a rampantly single twentysomething? There will be challenges ahead, especially when we begin to think about having children. But I believe our mutual trust – and passion – will ensure that however we navigate them, we will do so in the most fun way possible.

Article Source

Categories
ধর্মীয় ভাবনা

সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাস ‘Communalism virus’

মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়বস্তুর প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি লক্ষ্য করা যায়; যেমন, মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তি, জুয়ার প্রতি আসক্তি, ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি, অপরিণত বয়সে প্রেম ফাঁদে পতিত হওয়া ইত্যাদি। এমন মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য আছে; যা ভাইরাসের সাথে তুলনা করা যায়। বর্তমানে সাম্প্রদায়িক মতবাদও যে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কবলে পড়েছে; তা মানুষ কতটুকু বুঝতে পেরেছে; এখন সেটিই চিন্তার প্রধান বিষয়। সাম্প্রদায়িক মতবাদের প্রতি মানুষকে আসক্তকারী এবং সাধারণ মানুষকে পৌরাণিক কাহিনী দ্বারা আক্রমণকারী ভাইরাসের নাম হলো ‘সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাস’। মারাত্মক এই ভাইরাসটির কবল হতে রক্ষা পায় নি; অধিকাংশ শিক্ষক, চিকিৎসক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, শিল্পী, পালাকার, গায়ক, এমপি, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী।
সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য (The characteristics of communalism virus)
এই ভাইরাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য ৭টি। যথা; ১. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটির প্রাণ হলো সৃষ্টিকর্তা। ২. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটির বাহন হলো দেবতা, ঐশিদূত ও মহামানব। ৩. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি মানুষকে প্রথমে মানসিকভাবে সংক্রমণ করে। ৪. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি এন্টিইজম (Anti-Ism) বা নিজস্ব মতবাদ রক্ষা ও অন্য মতবাদ প্রতিরোধ করে। ৫. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি মানুষের বিশেষ কিছু শারীরিক ও মানসিক কার্যকরী প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে। ৬. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি বিশেষ কিছু কৌশলের মাধ্যমে বিস্তারলাভ করে। ৭. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি বাহককে স্বয়ংক্রিয় কার্যকরী পদ্ধতির (Automatic functioning system) মধ্যে আবদ্ধ করে। যেমন; কম্পিউটার সফ্টওয়ার।
———–***———–
১. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটির প্রাণ হলো সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টিকর্তাকে সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসের প্রাণ বলার কারণ হলো; সাম্প্রদায়িক ভাইরাসটি পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তার কাঁধে ভর করেই চলাফেরা করে। সাম্প্রদায়িক অন্ধবিশ্বাসের মূলেই পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা। সাম্প্রদায়িক বিশ্বাস ভাইরাসের মূলেও পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা। তাই; বলন কাঁইজি বলেছেন; “যার সৃষ্টিকর্তা সমস্যার সমাধান হয় নি; তার কোনো সমস্যারই সমাধান হয় নি; অন্যদিকে; যার সৃষ্টিকর্তা সমস্যার সমাধান হয়েছে; তার সব সমস্যারই সমাধান হয়েছে।” একবার পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞানার্জন করলে এই ভাইরাসটি আর মানুষকে সক্রমণ করতে পারে না।
“সৃষ্টিকর্তা” পরিভাষাটিকে যদি একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ এর সাথে তুলনা করা হয়; তখন মুদ্রার এক পিঠকে বলা যায় ‘বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা’ আর অপর পিঠকে বলা যায় ‘পৌরাণিক বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা’। এই পরিভাষা দুটিকে আবার একে অপরের পরিপূরক রূপে ব্যবহার করা হয়। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে। এর কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো;
. একদিকে প্রাকৃতিক সৃষ্টিকর্তাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দৃষ্টান্ত রূপে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে; বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তা যা যা করেন না; পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা দ্বারা তা বারবার করানো হয়। যেমন;
q কখনও মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলানো হয়। q কখনও মানুষের নিকট ইঙ্গিত (দৈববাণী/ অহি) পাঠানো হয়। q কখনও আদেশ-নিষেধমূলক বাণী (স্রষ্টার বিধান) প্রেরণ করানো হয়। q কখনও মানুষের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করানো হয়। যেমন; কৈলাসে ও তুরে দেখা করা। q কখনও কখনও এক ঐশিদূতকে অন্যান্য ঐশিদূতের কাহিনী শোনানো হয়। যেমন; বলা হয়; আপনি কি অমুক গোত্রের কাহিনী শোনেন নি! q কখনও মানুষকে নরকের ভয় ও স্বর্গের লোভ দেখানো হয়। q কখনও মানুষের প্রতিটি কর্মকে সৃষ্টিকর্তার সরাসরি নজরে রাখা হয়।
এসব দেখেই মনে হয়; সৃষ্টিকর্তা যেন; রূপকারগণের নিকটাত্মীয়। যেন চা চক্রের সঙ্গী।
. কিছু কিছু প্রাকৃতিক উপাদান বা সত্তা বা বৈশিষ্ট্যকে ঐশ্বরিক সত্তা বা বৈশিষ্ট্য রূপে উপস্থাপন করা হয়। যেমন;
q প্রাকৃতিক বিধানকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক বিধান রূপে। q প্রাকৃতিক নিয়ম বা গুণকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক ধর্ম রূপে। q প্রাকৃতিক আচরণকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক চরিত্র রূপে। q প্রাকৃতিক সত্তাকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক সত্তা রূপে। q প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক ক্ষমতা রূপে। q প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক শাস্তি রূপে। q প্রাকৃতিক কৌশলকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক কৌশল রূপে। q প্রাকৃতিক ইঙ্গিতকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক ইঙ্গিত রূপে। q প্রাকৃতিক দানকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক দান রূপে । q প্রাকৃতিক উপহারকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক উপহার রূপে। q প্রাকৃতিক প্রযুক্তিকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী বা ঐশ্বরিক দূত রূপে। q প্রকৃতিকে উপস্থাপন করা হয় ঐশী গ্রন্থ রূপে।
. কিছু কিছু মানবিক সেবাকে স্বয়ং ঈশ্বর কর্তৃক সেবা গ্রহণ রূপে উপস্থাপন করা হয়। যেমন; q বিপন্ন মানুষের সাহায্য করাকে উপস্থাপন করা হয় স্বয়ং ঈশ্বরকে সাহায্য করা। q বিপন্ন মানুষের সেবা করাকে উপস্থাপন করা হয় স্বয়ং ঈশ্বরকে সেবা করা। q ক্ষুধার্ত মানুষকে অন্নদান করাকে উপস্থাপন করা হয় স্বয়ং ঈশ্বরকে অন্নদান রূপে। q বৃদ্ধ পিতামাতা লালনপালন করাকে উপস্থাপন করা হয় স্বয়ং ঈশ্বরকে লালনপালন রূপে। q জ্ঞানীর সম্মান করাকে উপস্থাপন করা হয় স্বয়ং ঈশ্বরকে সন্মান করা। q অসহায়ের সম্পত্তি রক্ষা করাকে উপস্থাপন করা হয় স্বয়ং ঈশ্বরের সম্পত্তি রক্ষা করা রূপে। q সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি বা নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষ তার প্রিয় বস্তুকে (মনের পশু) উৎসর্গ করার পাশাপাশি নিরীহ প্রাণীর প্রাণ উৎসর্গ করাকে অনেক পুণ্যকর্ম মনে করে।
. বিশ্বের বিভিন্ন পৌরাণিক গল্পকাহিনীতে যে অসংখ্য কালজয়ী ও শক্তিমান চরিত্র দেখা যায়; যুগ যুগ ধরে তারা মানুষের কাছে বাস্তব ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব রূপে গৃহীত। এসব পৌরাণিক চরিত্রগুলো মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির আভিধানিক সত্তাকে আড়াল করে রুপকভাবে পৌরাণিক সত্তায় উপস্থাপন করা হয়। এতে আভিধানিক সত্তাটির পরিভাষা, অর্থ ও চরিত্রকে পরিবর্তন করে পৌরাণিক সত্তার পরিভাষা, ভাবার্থ ও চরিত্র গ্রহণ করা হয়। যেমন;
q পৌরাণিক ঈশ্বর আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা সুধা হতে সাঁই। মধু হতে কাঁই।
q পৌরাণিক দেবদেবী আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা শিশ্ন হতে মহাদেব ও শিব এবং ইউনুছ ও ইব্রাহিম।
q পৌরাণিক মানব আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা শুক্র হতে সীতা। বলাই হতে শুক্রাচার্য। রজ হতে সরস্বতী, শতরূপা, ইভ ও হাওয়া।
q পৌরাণিক উৎসব আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা দেহের পঞ্চরস সাধনা হতে কোজাগর, শব ই বরাত ও শব ই কদর।
q পৌরাণিক স্থান আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা যোনি হতে অন্ধকূপ, মক্কা যোনিনালি হতে বৈতরণী জরায়ু হতে মথুরা, মদিনা
q পৌরাণিক যুদ্ধ আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা মৈথুন হতে কুরুক্ষেত্র ও কারবালা
q পৌরাণিক জীবজন্তু আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা জরায়ুমুখ হতে গরুড়, হুদহুদ, হুপি যোনি হতে আবাবিল, ফিনিক্স মানুষ হতে কল্পতরু, Yggdrasil (ইগড্র্যাজিল)
q পৌরাণিক সংখ্যা আভিধানিক পরিভাষা হতে পৌরাণিক পরিভাষা ষাট হতে ষাইট্যা
. একদিকে বলা হয়; প্রকৃতির বিধান লঙ্ঘন করা হলে প্রাকৃতিক শাস্তি তাৎক্ষণিক বা ধীরে ধীরে আরম্ভ হয়। অন্যদিকে; বলা হয়; মানুষের পাপের শাস্তি পরকালে সৃষ্টিকর্তাই দিবেন। যেমন; লালন সাঁইজি লিখেছেন; “রোজকিয়ামত বলে সবাই, কেউ করে না তারিখ নির্ণয়; বিচার হবে কি হচ্ছে সদাই, কোন কথায় মন থাকি রাজি।”
. একদিকে বিশ্ব প্রকৃতির সৃষ্টিকর্তাকে বলা হচ্ছে; স্বয়ম্ভূ ও নিরাকার বা দেহহীন সত্তা। অন্যদিকে; পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তাকে দেহধারী রূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যেমন; বলা হচ্ছে; প্রভুর মুখ, হাত, পা ও চোখ ইত্যাদি আছে। উদাহরণত; কোনো মতবাদের সৃষ্টিকর্তা মানসপুত্র ও মানসকন্যা সৃষ্টি করেছেন। যেমন; ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত ব্রহ্মা। আবার; কোনো মতবাদের সৃষ্টিকর্তা ক্ষেত্রজ পুত্র উৎপাদন করেন। যেমন; খ্রিস্টানদের একাংশের (ত্রিত্ববাদ) মতে; স্রষ্টার ক্ষেত্রজ পুত্র কানীন (হযরত ইসা (আঃ))।
২. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটির বাহন হলো দেবতা, ঐশিদূত ও মহামানব। বাংভারতীয় পুরাণ মতে; পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা প্রতি মন্বন্তরে অবতার রূপে অবতরণ করেন। কিন্তু আরবীয় পুরাণ মতে; পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা নিজে অবতরণ করেন না; তবে; ঐশিদূতের মাধ্যমে প্রেরিতগণের কাছে তাঁর বাণী প্রেরণ করেন। তাই; দেবতা, অবতার, ঐশিদূত ও মহামানবগণকে এই ভাইরাসের বাহন বলা হয়। “সৃষ্টিকর্তা এবং দেবতা, ঐশিদূত ও মহামানব” এই পরিভাষাগুলোকে আবার একে অপরের পরিপূরক রূপে ব্যবহার করা হয়। যখন যেমন তখন তেমন নীতিতে। মনে হয় যেন একই মুদ্রার এপিঠ- ওপিঠ। এর কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো।
. একদিকে বলা হয়; তোমরা সৃষ্টিকর্তার চরিত্রে চরিত্রবান হও। অন্যদিকে বলা হয়; নিশ্চয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রেরিত ঐশিদূতগণই সর্বোত্তম চরিত্রে চরিত্রবান। অতএব; তোমরা তাদের আদর্শ অনুসরণ করো।
. একদিকে বলা হয়; তোমরা সৃষ্টিকর্তাকে মান্য করো। অন্যদিকে; বলা হয়; তোমরা সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রেরিত ঐশিদূতগণকেই মান্য করো এবং তোমাদের মধ্যে আদেশদাতাগণকে মান্য করো।
. একদিকে বলা হয়; সৃষ্টিকর্তার বিধানে কোনো পরিবর্তন নেই। অন্যদিকে; মানুষকে ঐশিদূত কর্তৃক প্রদত্ত যুগোপযোগী বা বিভিন্ন ছলনায় সদা পরিবর্তনশীল বিধান মানতে বাধ্য করা হয়। সবাই একটা দোহাই যে; “স্রষ্টা ইচ্ছে করলে সবকিছুই পারেন।”
. একদিকে বারবার পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তা দ্বারা কোনো কাজের নির্দেশ করানো হয়। অন্যদিকে; বারবারই সেই কাজ ঐশিদূতের দ্বারা বিনাবাক্যে পালন করানো হয়।
. যেমন; একদিকে পৌরাণিক সৃষ্টিকর্তাকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে; তেমনই; কোনো প্রকার জবাবদিহিতা ছাড়াই শয়তানকে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে; ঐশিদূতের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষকে মানকা চিপায় (ফাটা বাঁশের চিপাই) রাখা হয়েছে।
৩. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি মানুষকে প্রথমে মানসিকভাবে সংক্রমণ করে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা; একদিকে নরকের ভয়ে ভীত হয়; অন্যদিকে স্বর্গের সুখ-সাচ্ছন্দের লোভী হয়। এ হতেই তারা পাপ মোচনের জন্য সহজ উপায় খুঁজে বেড়ায়। আবার; সহজে পুণ্যার্জনে ব্যতিব্যস্ত থাকে। সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হওয়া যাবে না। শাস্ত্রীয় বিধান অমান্য করা যাবে না। সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি বা প্রিয়জনদের অবাধ্য হওয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক দেবতাকে গালি দেওয়া যাবে না। এই ভাইরাসে আক্রান্ত অনুসারীগণ মানসিকভাবে সবসময় প্রতিটি কাজে বা চিন্তায় ঐশিদূতের আদর্শ কি তা অনুসন্ধান ও প্রচার করে অধিক কিন্তু অনুসরণ করে সামান্য। আবার; এই ভাইরাসে আক্রান্ত অনুসারীগণ মানসিকভাবে সব সময় প্রতিটি কাজে বা চিন্তায় সাম্প্রদায়িক ধ্যান-ধারণার ছাপ রাখার চেষ্টারত থাকে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা একদিকে; মুখে মুখে জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞানীকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে; কোনো বিষয়ে মতবিরোধ নিষ্পত্তিতে জ্ঞানীর সিদ্ধান্তকে এই বলে উপেক্ষা করে যে; “একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই সবকিছু জানেন ও বুঝেন।” অথবা “শয়তানের জ্ঞান বেশি।”
৪. এন্টিইজম (Anti-Ism) বা নিজস্ব মতবাদ রক্ষা অন্য মতবাদ প্রতিরোধ করে। মানুষ সবাই নিজ নিজ মতবাদকে শ্রদ্ধা করে এবং অন্য মতবাদকে ঘৃণা করে। যেমন; একদিকে সাধারণ হিন্দুরা মুসলমানদেরকে ঘৃণা করে; অন্যদিকে; সাধারণ মুসলমানরা হিন্দুদেরকে ঘৃণা করে। আবার; একই মতবাদের মধ্যে এক উপদল অন্য উপদলকে ঘৃণা করে। যেমন; মুসলমানদের সুন্নীরা শিয়াদের ঘৃণা করে। আবার; শরিয়তপন্থীরা গুরুবাদীদের ঘৃণা করে। এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক মতবাদকে নিজের অনুকূলে না হলে গ্রহণ করে না। এমনকি; সঠিক ও সত্য যুক্তিও অনুকূলে না হলে গ্রহণ করে না।
৫. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি মানুষের বিশেষ কিছু শারীরিক মানসিক কার্যকরী প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যার যার শাস্ত্রীয় উপোসের ক্ষেত্রে পাকস্থলিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যে; অর্ধদিন, একদিন কিংবা দেড় দিন পর্যন্ত খেতে না দিয়েও রাখতে পারে। যেমন; হিন্দুরা যে দেবতার উদ্দেশ্যে উপোস করে; সে দেবতার পূজা আরম্ভ হওয়ার লগ্ন হতে পূজা শেষ হওয়া অবধি উপোস পালন করে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যার যার পানাহার গ্রহণের ক্ষেত্রে জিহ্বার ওপর এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যে; হিন্দুরা জিহ্বাকে গোরুর মাংস দেয় না। অন্যদিকে; মুসলমানরা জিহ্বাকে শূকরের মাংস দেয় না। অনুরূপভাবে; নিরামিষভোজীরা আমিষ খায় না। মুসলমানরা কেবলার দিকে পা দেয় না, প্রস্রাব ও পায়খানা করে না। গুরুবাদীরা যার যার গুরুর বাড়ির দিকে পা দেয় না। শরিয়তপন্থীরা কেবল নামাজ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে মাথা নোয়াতে চায় না। যেমন; শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির পদধূলি গ্রহণের সময়ে মাথা নোয়াতে চায় না।
৬. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি বিশেষ কিছু কৌশলের মাধ্যমে বিস্তারলাভ করে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণভাবে সাম্প্রদায়িক বসন ও চিহ্ন ধারণ করে। যেমন; সাম্প্রদায়িক বসন, তিলক, পৈতা, ত্রিশূল, উপবিত, জপমালা, ওড়না, উষ্ণীষ, কোপনি, করঙ্গ ও বালা ব্যবহার করে। যেমন; হিন্দু রমণীরা কপালে সিঁদুর ও হাতে শাখা ব্যবহার করে। এসব বসন ও চিহ্ন দ্বারা মানুষকে আকৃষ্ট করে। আবার; তথাকথিত প্রবাদ ও নীতিবাক্যও (So-called proverbs) ব্যবহার করে। উদাহরণত; শয়তানের জ্ঞান বেশি। ঈশ্বর সবকিছু দেখেন ও বুঝেন ।
৭. এই সাম্প্রদায়িকতা ভাইরাসটি বাহককে স্বয়ংক্রিয় কার্যকরী পদ্ধতির (Automatic functioning system) মধ্যে আবদ্ধ করে। যেমন; কম্পিউটার সফ্টওয়ার। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণভাবে একই কথা বারবার বলে। আবার; একই উপাসনা সারাজীবন করে। দেখে মনে হয় যেন এরা কম্পিউটারের প্রোগ্রামে আবদ্ধ। এই ভাইরাসে সাধারণ মানুষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূচিবাই রোগীতে পরিণত করে। যেমন; যে যেই শাস্ত্রীয় কাজে অভ্যস্ত হয়; সে সহজে সেই কাজ ত্যাগ করতে পারে না। টুপি পরিহিতরা সহজে টুপি ত্যাগ করতে পারে না। নামাজিরা সহজে নামাজ ত্যাগ করতে পারে না। তিলক-ত্রিশূলধারীরা সহজে তিলক-ত্রিশূল ত্যাগ করতে পারে না। নিরামিষভোজীরা আমিষ খায় না। হিন্দুরা সহজে গোরুর মাংশ খায় না। আবার মুসলমানরাও শূকরের মাংস খায় না।
শ্বরবিজ্ঞানের সংজ্ঞা (Definition of Theology) ১. শ্বর (ঈশ্বর) সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে শ্বরবিজ্ঞান বলে। ২. পৌরাণিক নিয়ম ও নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ বিজ্ঞানকে শ্বরবিজ্ঞান বলে। ৩. যে বিজ্ঞান দ্বারা মানুষে বিদ্যমান শ্বরের {অমৃত জলের (অমৃতসুধা, অমৃতমধু ও শুক্র এই ৩টি পৌরাণিক মূলক সত্তার)} রূপক নামে ঈশ্বরায়ন করে নির্মিত পৌরাণিক ঈশ্বর এবং মানুষে বিদ্যমান অন্যান্য বিষয়বস্তু বা ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে দেবতায়ন করে নির্মিত পৌরাণিক দেবদেবী ও মানবায়ন করে নির্মিত পৌরাণিক মানবকে উপমিত পদ ধরে প্রকৃতির উপমান বিষয়বস্তুর সাথে সার্থক তুলনা করে মানুষের দৈহিক ও মানসিক সূক্ষ্ম কার্যকলাপমূলক চমৎকার বা কাহিনী সৃষ্টি করা হয় তাকে ‘শ্বরবিজ্ঞান’ বলে। যেমন; ভারতীয় বেদ, রামায়ণ ও মহাভারত; বাইবেল, তোরাহ, জাবুর, ইঞ্জিল ও কুরান ইত্যাদি (তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ; লেখক বলন কাঁইজি)
৪. মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু বা ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে ঈশ্বরায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক ঈশ্বর, দেবতায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক দেবদেবী, মানবায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক মানব; আর মানুষের প্রত্যঙ্গের রূপক নামে প্রাণায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক জীবজন্তু; মানুষের প্রত্যঙ্গের রূপক নামকে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে এবং মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু বা ইন্দ্রিয়াদির পরিমাণ জ্ঞাপক সংখ্যাকে শতাব্দী, অব্দ, সময়, দিবস, ওজন, দৈর্ঘ্য, জনসংখ্যা ও সৈন্য সংখ্যা ধরে মানুষের যৌনমিলন ও নৈতিকতা শিক্ষার নিমিত্তে সুকৌশলে রূপকভাবে নির্মিত ছোট-বড় চমৎকার, ছোটকি, উপকথা, রূপকথা ও রূপক কাহিনী সংকলনকে ‘শ্বরবিজ্ঞান’ বলে। যেমন; ভারতীয় বেদ, রামায়ণ ও মহাভারত; বাইবেল, তোরাহ, জাবুর, ইঞ্জিল ও কুরান ইত্যাদি (তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ; লেখক বলন কাঁইজি)
পুরাণের সংজ্ঞা (Definition of mythology) ১. মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদিকে উপমিত পদ ধরে প্রকৃতির উপমান বিষয়বস্তুর সাথে সার্থক তুলনামূলকভাবে নির্মিত কাহিনী সংকলনকে পুরাণ বলে। ২. মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু বা ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে ঈশ্বরায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক ঈশ্বর, দেবতায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক দেবদেবী, মানবায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক মানব; আর মানুষের প্রত্যঙ্গের রূপক নামে প্রাণায়িত চরিত্রকে পৌরাণিক জীবজন্তু; মানুষের প্রত্যঙ্গের রূপক নামকে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে এবং মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু বা ইন্দ্রিয়াদির পরিমাণ জ্ঞাপক সংখ্যাকে শতাব্দী, অব্দ, সময়, দিবস, ওজন, দৈর্ঘ্য, জনসংখ্যা ও সৈন্য সংখ্যা ধরে মানুষের যৌনমিলন ও নৈতিকতা শিক্ষার নিমিত্তে সুকৌশলে রূপকভাবে নির্মিত ছোট-বড় চমৎকার, ছোটকি, উপকথা, রূপকথা ও রূপক কাহিনী সংকলনকে ‘পুরাণ’ বলে। যেমন; বাঙালী পুরাণ, গ্রিক পুরাণ, কারবালা ইত্যাদি (তথ্যসূত্র; আত্মতত্ত্ব ভেদ; লেখক বলন কাঁইজি)
পৌরাণিক চরিত্র (Mythological character) মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু বা ইন্দ্রিয়াদির আভিধানিক নাম আড়াল করে রূপক নামে ঈশ্বরায়ন, দেবতায়ন ও মানবায়ন করে নির্মিত চরিত্রকে ‘পৌরাণিক চরিত্র’ বলে। যেমন; ‘শুক্র’ হতে সীতা এবং শিশ্ন হতে মহাদেব।
পৌরাণিক দেবতার সংজ্ঞা (Definition of mythological deity) মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে দেবতায়ন করে নির্মিত ‘পৌরাণিক চরিত্র’কে দেবতা বলে। যেমন; চোখ হতে দ্রষ্টা, বলাই হতে শুক্রচার্য, রজ হতে বসিধ, সুধা হতে সাঁই ও মধু হতে কাঁই ইত্যাদি।
অথবা; শ্বরবিজ্ঞানের ‘পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’তে বর্ণিত মূলক সত্তার রূপক নামে দেবতায়ন করে নির্মিত পৌরাণিক চরিত্রকে দেবতা বলে। যেমন; বলন ও বসিধ প্রভৃতি। এখানে মানুষের বাকশক্তির রূপক নামে দেবতায়ন করে কণ্ঠ দেবতা বা পৌরাণিক বলন দেবতা নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ; কণ্ঠে বসে যিনি কথা বলেন তিনিই বলন দেবতা। একে গ্রিক পুরাণে Gabriel ও আরবীয় পুরাণে জিব্রাইল (جبريل) বলা হয়। আর জিব্রাইল এসেছে গ্রিক Gabriel হতে। গ্রিক Gab > Gabble > Gabriel.
ঈশ্বর ও দেবতা নির্মাণ পদ্ধতি (The method of making god and deity)
নরত্বারোপ (Anthropomorphism/ Personification) ‘التجسيم’(আত্তাজসিমু)/ ‘الادميه’(আলয়াদমিহু)
প্রথমে মানুষে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ও ইন্দ্রিয়াদির রূপক নামে ঈশ্বরায়ন, দেবতায়ন ও মানবায়ন করা হয়। তারপর; এগুলোকে উপমিত ধরে প্রকৃতির বিষয়বস্তু ও জীবজন্তুকে উপমান রূপে গ্রহণ করা হয়। অতঃপর; প্রকৃতির উপমান বিষয়বস্তু ও জীবজন্তুকে মানুষের মতো কথা বলার ক্ষমতা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ; প্রকৃতির যে কোনো উপমান বিষয়বস্তুর ওপর সাময়িক ব্যক্তিত্ব আরোপ করা হয়। এভাবেই পৌরাণিক ঈশ্বর, দেবতা ও মানব সৃষ্টি করা হয়। একেই নরত্বারোপ বলা হয়। এছাড়াও; একে ঈশ্বরত্বারোপ, দেবত্বারোপ, ঈশ্বরায়ন, দেবতায়ন ও মানবায়ন ইত্যাদি বলা হয়। সারাবিশ্বের সব পৌরাণিক চরিত্র এভাবেই নির্মিত।
সাধারণ সাহিত্যে প্রকৃতির যে কোনো বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করে গল্পকাহিনী নির্মাণ করা হয়। যেমন; একটি আংটির আত্মকাহিনী, একটি বটগাছের আত্মকাহিনী ও একটি নদীর আত্মকাহিনী ইত্যাদি। বস্তুত; আংটি, বটগাছ ও নদী কোনটিই কথা বলতে পারে না। তবুও; স্বয়ং লেখক এসবের মুখ দিয়ে কথা বলায়। অর্থাৎ; স্বয়ং সাহিত্য নির্মাতা প্রকৃতির উপমান বিষয়বস্তুর মুখ দ্বারা কথা বলায়।
অন্যদিকে; সারাবিশ্বের সব ভাষায় সর্ব প্রকার শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ ও সাম্প্রদায়িক পুস্তক-পুস্তিকায় ব্যক্তির যে কোনো বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করে; প্রতীতি, দেবতা, ফেরেস্তা (فرشته), মালাকি (ملاك) ও এঞ্জেল (Angel) নির্মাণ করা হয়। যেমন; স্বাভাবিক স্থূল দৃষ্টিতে যুবকের কামোত্তেজনা সৃষ্টি করে শিশ্ন। তাই; শিশ্নকে মদন বলা হয়। যে মাদন সৃষ্টি করে সেই মদন। এখানে মদন অর্থ; অচেতন, অচৈতন্য, অজ্ঞ, অবিজ্ঞ, অবিচক্ষণ, অবোধ, অর্বাচীন, ক্ষীণবুদ্ধি, ক্ষীণমতি, খট্বারুঢ়, গবা, জ্ঞানরহিত, জ্ঞানহীন, তুচ্ছ, নির্বুদ্ধি, নির্বোধ, বিচারবুদ্ধিহীন, বিমুঢ়, বেকুব, বোকা, মতিচ্ছন্ন, মূর্খ, মূর্খতাপূর্ণ ও হাস্যকর, foolish, stupid, imprudent ইত্যাদি।
কিন্তু যখন; মদনের ওপর নরত্বারোপ করে কামের দেবতা করা হবে; তখন; তিনি মানুষের মতো আচরণ করবেন। এবার মদন অর্থ; অতনু, অনঙ্গ, কামদেব, Cupid (প্র) রোমানদের প্রণয়দেবতা। এ হতে বুঝা যায়; কোনো বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করার পর; সাধারণ সাহিত্যে উক্ত বিষয়বস্তুর অর্থ পরিবর্তন হয় না। যেমন; আংটি, বটগাছ ও নদী। কিন্তু সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার শ্বরবিজ্ঞানে, পুরাণে এবং সাম্প্রাদায়িক ও পারম্পরিক গল্পকাহিনীতে; কোনো বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করার পর; উক্ত বিষয়বস্তুর অর্থ সম্পূর্ণই পরিবর্তন হয়ে যায়। এমনকি; উক্ত বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ নতুন অর্থ ধারণ করে।
যেমন; উক্ত আংটির ভাবার্থ হয় ‘ভগ’। কেননা; আংটি একটি গোলাকার বলয়; ভগও গোলাকার বলয়ের মতো (অনুমান)। তাই; আংটিকে উপমান ধরা হয় কিন্তু উপমিত থাকে ভগ। বটগাছের ভাবার্থ হয় ‘শিশ্ন’ ও ‘মানুষ’। যেমন; বটগাছে বটফল ধরে; তেমনই; শিশ্ন গাছে শুক্রফল ধরে। তেমনই; মানুষ গাছে মানুষফল (সন্তান) ধরে। তাই; বটগাছকে উপমান ধরা হয় কিন্তু উপমিত থাকে শিশ্ন ও মানুষ। নদীর ভাবার্থ হয় ‘বৈতরণী’ (যোনিপথ)। যেমন; নদীতে সব সময় জোয়ার-ভাটা চলতে থাকে (মরা নদী প্রয়োজ্য নয়)। তেমনই; যোনিপথে রজ, সুধা, মধু ও শুক্র চলাচল করতে থাকে। তাই; নদীকে উপমান ধরা হয় কিন্তু উপমিত থাকে যোনিপথ।
এবার বলা যায় যে; সাধারণ সাহিত্যে কোনো বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করার পূর্বে যে অভিধা থাকে; নরত্বারোপ করার পরও সে অভিধায়ই বিদ্যমান থাকে। যেমন; একটি আংটির আত্মকাহিনী, একটি বটগাছের আত্মকাহিনী ও একটি নদীর আত্মকাহিনী ইত্যাদি। অন্যদিকে; শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ এবং সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় কোনো বিষয়বস্তুর ওপর নরত্বারোপ করার পূর্বে যে অভিধা থাকে; নরত্বারোপ করার পর সে অভিধা থাকে না। যেমন; নরত্বারোপ করার পূর্বে; আংটি, বটগাছ ও নদী স্ব স্ব অভিধায় বিদ্যমান ছিল। কিন্তু নরত্বারোপ করার পর আংটির ভাবার্থ হয়েছে ‘ভগ’, বটগাছের ভাবার্থ হয়েছে ‘শিশ্ন’ বা ‘মানুষ’ এবং নদীর ভাবার্থ হয়েছে ‘বৈতরণী’ (যোনিপথ)। যেহেতু; শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ এবং সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা সর্বদা উপমিত বা উপমেয় প্রধান সাহিত্য; সেহেতু; এসবের পাঠ করা ও পাঠদান করার সময়ে সর্বদাই উপমেয় অর্থ বা ভাবার্থ গ্রহণ করতে হবে।
নরত্বারোপ বিদ্যা জানা-বুঝা ছাড়া কোনমতেই শ্বরবিজ্ঞান, পুরাণ এবং সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা জানা-বুঝা যায় না। তাই; নরত্বারোপ বিদ্যা সম্পর্কে সব গুরু-গোঁসাইয়ের জানা-বুঝা অতীব প্রয়োজন।
(তথ্যসূত্র; মিথোলজি টু থিওলজি; লেখক; বলন কাঁইজি)।
বলন কাঁইজি·Friday, 20 April 2018